মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
সৈয়দপুরে আমন কাটা-মাড়াইয়ের কাজে কর্মচাঞ্চল্য
প্রকাশ: ০৯:০৩ pm ২০-১১-২০১৫ হালনাগাদ: ০৯:০৩ pm ২০-১১-২০১৫
 
 
 






নীলফামারী প্রতিনিধি :নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৫টি ইউনিয়নের সর্বত্র পুরোদমে চলতি আমন ধান কাটা- মাড়াই শুরু হয়েছে। ধানের ফলনে কৃষক খুশি হলেও হাট- বাজারে ধানের দাম পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে ধানের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া চাতাল কলগুলো আবার সচল হয়ে উঠেছে। এ কারণে বেকার নারী- পুরুষ শ্রমিকরা কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে। চাতালগুলোতে এখন ধান শুকানো ও ভাংগার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব শ্রমিকরা।
সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫শ’ অধিক চালকল রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি রয়েছে অটো রাইস মিল। এসব মিলে প্রায় ৫ হাজার নারী- পুরুষ  শ্রমিক দিনে-রাতে কাজ করে থাকেন। অধিকাংশ মিল ও চাতাল ধানের অভাবে বন্ধ থাকার পর আমন ধান কাটা- মাড়াইয়ের মৌসুমে আবারও সচল হয়েছে। চাতালগুলো নতুন ধান পাওয়ায় শ্রমিকের ব্যস্ততা ও আয় দুটোই বেড়েছে। ধান শুকানো ও ভাংগার পর মালিকরা তা বাজারজাত করছেন এবং কেউ কেউ মজুদ গড়ে তুলছেন চালের। ফলে প্রতি কেজি চালে ৩/৪ টাকা কমেছে।

মিল মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং ও লোভোল্টেজের কারণে তারা নিয়মিত মিল সচল রাখতে পারছেন না। ফলে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, নারী শ্রমিকরা মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একজন পুরুষ শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে ২শ’ থেকে ২শ’ ৫০ টাকা ও একজন নারী শ্রমিককে ৮০ থেকে ১শ’ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসংস্থান কর্মসূচি ও আমন ধানের কাটা- মাড়াই একই সাথে শুরু হওয়ায় মিল চাতালে শ্রমিকের বেশি প্রয়োজন হওয়ার কারণে উপজেলার সর্বত্র মজুর সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারণে কৃষক ও মিল চাতাল মালিকদের কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি অর্থ গুণতে হচ্ছে।

চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজু জানান, চলতি আমন মৌসুমে গতবারের চেয়ে ফলন ভাল হওয়ায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। এর ফলে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছে। কৃষকরা জানান, মজুদদার, একশ্রেণীর দালাল ও ফড়িয়ারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাটবাজারে কম দামে ধান কিনছে। এতে করে প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিটি ছোট- বড় গৃহস্থের ঘরেই এখন নতুন ফসল ঘরে তোলা ও ধান মাড়াই নিয়ে কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট, বাড়ির উঠান, খোলা মাঠ- ময়দান সর্বত্র এখন মাড়াই করা ধান ও খড় শুকানোর হিড়িক পড়ে গেছে। তবে অনেক প্রান্তিক চাষির ক্ষেতের ধান এখন চলে যাচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীদের গোলায়। চাষাবাদের শুরুতে অতিউচ্চ সুদে ঋন নিয়ে খরচ মিটিয়েছে ছোটোখাটো চাষিরা। এখন সে ঋনের টাকা শোধ করতে ধান কেটে মাড়াই ও শুকিয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। গ্রামে ধান কাটা- মাড়াইয়ের কারণে শহরে রিকশা ভ্যানসহ গ্রামের লোকজনের আনাগোনা কমে গেছে। দিনমজুরেরা ব্যস্ত ফসলের ক্ষেতে। তাই শহরে শ্রম বিক্রির জন্য এদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। যারা আগাম ধান কাটার জন্য বাইরের জেলায় গেছেন, তারাও ফিরতে শুরু করেছেন।

এইবেলা ডটকম/মোমেন/এটি


 
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71