সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রে টেংরার জাত উদ্ভাবন
প্রকাশ: ০৫:০০ pm ১১-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:০৪ am ১৮-০৭-২০১৭
 
মোমেন, নীলফামারী প্রতিনিধি
 
 
 
 


বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইন্সটিটিউটের অধীনে সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রে দেশি জাতের বিলুপ্ত প্রায় মাছ নিয়ে গবেষণা চলছে।

এই প্রথম এই কেন্দ্রের একদল বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা টেংরা মাছের কৃত্রিম প্রজননন, পোনা উৎপাদন ও পোনা প্রতিপাদন কলাকৌশল উদ্ভাবণ করেছেন যা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুতুম মাছের উন্নত জাতের গবেষণার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উত্তর জনপদের অবহেলিত মাছ চাষিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আশির্বাদ বলে মনে করছেন অনেকেই।

সৈয়দপুর- রংপুর মহাসড়কের পাশে সৈয়দপুরের কামারপুরে স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটি প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে বিগত ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। উত্তরের বিলুপ্ত প্রায় ৫০ প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে গবেষনা, জাত উদ্ভাবন, চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ ও হাতে কলমে শিক্ষা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। 

এই উপকেন্দ্রের মাধ্যমে রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলাসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় দেশি জাতের মাছ চাষ ও প্রশিক্ষন ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এখানে অবস্থিত ১৫টি পুকুরে মাগুর, শিং, কৈ, রুই, কাতলা, জেনাটিক্যালি ইমপ্রুভড তেলাপিয়া কালচে ও সাদা বর্ণের (গিফ্ট), সরপুটি, টেংরা, ভোদা, শোল, টাকি, খলিশা, গুতুম সহ নানা দেশি বিলুপ্ত প্রায় মাছের জাত ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ চলছে। স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটিতে ৩ জন কর্মকর্তাসহ ১৭ জন কর্মচারি সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। পুকুরগুলো দেশি মাছের লাফালাফিতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। 

সারাদেশে এ ধরণের উপকেন্দ্র রয়েছে ৫টি। এর মধ্যে সৈয়দপুর স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের একদল বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিপন্ন প্রজাতির টেংরা মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে সফলতা দেখিয়েছে। উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খোন্দকার রশীদুল হাসানের নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা হোসেন মৌ ও শওকত আহম্মেদ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। উপকেন্দ্রের প্রধান ড. খোন্দকার রশীদুল হাসান জানান, মিঠা পানির জলাশয়ে বিশেষ করে পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিলে যে মাছগুলো পাওয়া যায় তারমধ্যে টেংরা মাছ খুবই সুস্বাদু, অনুপুষ্টি সমৃদ্ধ। কাটা কম থাকায় সকলের কাছে প্রিয়। 

তিনি বলেন, বছরের এপ্রিল থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত টেংরা মাছের প্রজনন কাল। এসময় ৮/১০ গ্রাম ওজনের টেংরা সংগ্রহ করে প্রস্ততকৃত পুকুরে মজুদ করে কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্রুড তৈরি করা হয়।  হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ডিম থেকে রেণু পোনা তৈরি করে ১০ দিনের মধ্যে পুকুরে ছাড়া হয়। রেণু পোনা ছাড়ার আগে পুকুর শুকিয়ে প্রথমে প্রতি শতাংশে এক কেজি হারে চুন প্রয়োগের পাঁচদিন পর শতাংশ ইউরিয়া ১০০ গ্রাম, টিএসপি ৭৫ গ্রাম ও গোবর চার কেজি ব্যবহার করা হয়।  ব্রড প্রতিপালন পুকুরের চারপাশে জালের বেষ্টনি দিয়ে ঘেরা দিতে হবে। সেই সাথে নির্দেশিকা মতো খাবার ও যত্ন নিতে হয়।

পুকুরে ছাড়া টেংরা ৮/১০ মাছের মধ্যে খাবার উপযোগি হয়ে ওঠে। এমনিভাবে গুতুম জাতের মাছ জাত উদ্ভাবনও প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছে। ইতোমধ্যে স্বাদু পানি উপকেন্দ্র থেকে সরকারি কর্মকর্তা, মাছ চাষি, খামারীসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ প্রশিক্ষণ লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। 

টেংরা গবেষণা দলে থাকা নারী  বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা হোসেন মৌ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, টীমে কাজ করতে পেরে নিজেকে খুব গর্ববোধ করছি। সুস্বাদু টেংরা মানুষ আরও বেশি বেশি খেতে পারবেন। তবে এই সাফল্যের পর দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।  

কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র করা প্রয়োজন। কারণ এতে করে বৈজ্ঞানিকরা যথেষ্ঠ গবেষণার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিলুপ্ত প্রায় দেশি জাতের মাছ চাষ করে চাীষরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি আমিষসহ মাছের ঘাটতি থাকবে না বলে মন্তব্য করেণ।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইন্সটটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ সৈয়দপুরের স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে কর্মকান্ড দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে তাঁর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিলুপ্ত প্রায় ৫৭ প্রজাতির দেশি মাছ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সৈয়দপুরে স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কেন্দ্রের উদ্ভাবিত টেংরা মাছের প্রজনন, রেণু পোনা তৈরি ও লালন-পালনের প্রযুক্তি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফার্ম ম্যানেজারদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি দেশি জাতের এই টেংরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে করে মানুষ দেশি টেংরা মাছের প্রকৃত স্বাদ পাবেন। এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীর কাছে দাবী জানিয়েছেন অনতি বিলম্বে স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রেটি যেন রুপান্তর করা হয়।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71