বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
সোমা বিশ্বাসকে ফুসলিয়ে ধর্মান্তরিত: গনধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা
প্রকাশ: ১০:১৬ am ০১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১৬ am ০১-০৫-২০১৮
 
 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
 
 
 
 


যাত্রাদলের নায়িকা সোমা বিশ্বাসকে  ফুসলিয়ে ধর্মান্তরিত করে গনধর্ষনের পর তার শরীরে কোরাসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিমসহ ১১জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার বাদির নারাজীর আবেদন শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার আসামীরা হলেন,  আশাশুনি উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের গহর গাজীর ছেলে সাইফুল্লাহ গাজী (৩৮),  একই গ্রামের ওমর আলী সরদারের ছেলে রিপন সরদার(৩০), এছহাক সরদারের ছেলে আবু মুছা (৩০), একই উপজেলার গদাইপুর গ্রামের রাজাকার মোজাহার সরদারের ছেলে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম ওরফে ডাকাত ডালিম, দুর্গাপুর গ্রামের করিম বক্সের ছেলে কামরুল ইসলাম (৪৫), তার ভাই আনারুল ইসলাম (৩৫), আছিরদ্দিনের ছেলে লাভলু গাজী (৩৫), খালেক সরদারের ছেলে মহসিন সরদার (২৪), শহর আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম (২৮) চেউটিয়া গ্রামের লতিফ সরদারের ছেলে তারামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আাসামী কবীর হোসেন (৩৬) ও খুলনা জেলা শহরের সোনাডাঙা গোবর চাকা মেইন রোডের আবুল হোসেনের ছেলে চিশতি ওরফে চুন্নু চোরা (৪০)।

আশাশুনি উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের ইসমাইল সরদারের ছেলে শহীদুল সরদারের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, ছয় বছর আগে যাত্রাদলের নায়িকা হিসেবে সাতক্ষীরার আশাশুনির দুর্গাপুর গ্রামের সোনা চৌকিদারের বাড়ির পাশে মাঠে গান করতে আসা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বটবাড়ি গ্রামের মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে সোমা বিশ্বাসকে(২৫) ফুসলিয়ে নিয়ে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিমের সহযোগিতায় ধর্মান্তরিত করে টুম্পা খাতুন নাম দিয়ে তাকে বিয়ে করেন একই উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মাদকাসক্ত সাইফুল্লাহ। বর্তমানে তাদের  মরিয়ম নামে দু’ বছর দু’ মাসের একটি মেয়ে আছে।

খাজরা ইউপি’র সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তমেনাসহ একের পর এক পাঁচজনকে বিয়ের কথা গোপন রেখে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করা নিয়ে টুম্পার সঙ্গে সাইফুল্লার বিরোধ চলে আসছিল। প্রতিবাদ করায় সাইফুল্লাহ টুম্পাকে মাঝে মাঝে নির্যাতন করতো। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়ায় জোরালো কোন প্রতিবাদ না করেই সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সব ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে থাকে টুম্পা। এরই জের ধরে গত বছরের ৯ জুন দিবাগত রাত তিনটার দিকে স্বামীর বাগদা চিংড়ির হ্যাচারির বাসায় শাহানেওয়াজ ডালিমসহ ১৪/১৫ জন টুম্পার উপর ঝাপিয়ে পড়ে গনধর্ষণ করে। পরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে ও কাথা জড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ১০ জুন টুম্পাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন টুম্পা মারা যায়। নিজেরা বাঁচতে আসামীরা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজস করে টুম্পা খাতুনের লাশ পিরোজপুরে দাফন করে। 

মামলার বাদি নিজেকে নিহত টুম্পা খাতুনের ধর্ম ভাই বলে উল্লেখ করেন। আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(১)/৯(২)/৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। বিচারক মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। 

গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আক্তারুল ইসলাম সকল আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২৬ এপ্রিল বাদি চুড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজির আবেদন দাখিল করেন।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. এসএম হায়দার আলী আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71