রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ১২ই ফাল্গুন ১৪২৫
সর্বশেষ
 
 
স্টুলিশ থেকে সাইবার বুলিং ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা
প্রকাশ: ১১:৪৮ am ২৪-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:৪৮ am ২৪-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সাদা পায়রা বইছে জঙ্গি বার্তা! সন্তর্পণে। টের পাচ্ছে না কাকপক্ষীও। মাথার চুল ছিঁড়ছে FBI, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড থেকে NIA। বাধ্য হয়ে আইন আনতে হয়েছে কয়েকটি দেশকে। আইনের ফাঁক গলে ভারতে ডানা মেলছে স্টুলিশের সাদা পায়রা। নেটিজেনরা নয়া এই অ্যাপ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মত্ত। অথচ কেউ জানতেই পারছে না কীভাবে সন্ত্রাসবাদীদের কুনজরে বিষিয়ে উঠছে স্টুলিশ, সারার মতো অ্যাপ।

ঢাকার গুলশন হত্যাকাণ্ডর স্মৃতি এখনও টাটকা। হত্যালীলা চালিয়ে জঙ্গিরা তার ছবি আপলোড করেছিল একটি অ্যাপের সাহায্যে। প্রাথমিকভাবে ধোঁকা খান গোয়েন্দারা। কারণ, কে, কোন IP অ্যাড্রেস থেকে ছবি আপলোড করেছে বোঝা যাচ্ছিল না কিছুই। অনেক পরে জানা যায়, তারা ব্যবহার করেছে সিরিয়াসলি সিকিওর মেসেজিং সফ্টরওয়্যার। কলকাতা পুলিশের STF-এর হাতে ধৃত কয়েকজন জঙ্গির ফোনেও মেলে এমন অ্যাপ। গোয়েন্দাদের কাছে তারা স্বীকার করে সিকিওর মেসেজিং ওই অ্যাপের মাধ্যমে তারা তথ্য আদানপ্রদান করত। এতে প্রেরকের কোনও তথ্যই পাওয়া যায় না। ফলে তাদের কাছে অত্যন্ত সুরক্ষিত এই অ্যাপ। সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমন প্রযুক্তিতেই তৈরি হয়েছে স্টুলিশ। অ্যাপটি এমনই, যাতে নম্বর যাচাই করতে হয় না। আড়ালে থেকে তথ্য দেওয়া-নেওয়া হয়। সেই তথ্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

ফেসবুকের টাইম লাইনে উড়ছে সাদা পায়রা। দেখেছেন নিশ্চয়ই। প্রেম, ভালোবাসা কিংবা রাগ, অভিমান সোজাসাপ্টা পৌঁছে যাচ্ছে সবার কাছে। সোশাল মিডিয়া মারফত। নিজের টাইমলাইনে। নেটিজেনরা চুটিয়ে উপভোগ করছেন চেনা-অচেনার কাছ থেকে পাওয়া নানা বার্তা। মিলছে না প্রেরকের হদিস। অ্যান্ড্রয়েড প্লে-স্টোর থেকে ইতিমধ্যেই স্টুলিশের ডাউনলোড কয়েক লাখ ছাড়িয়েছে। এন এইচ এন্টারটেইনমেন্টের বানানো অ্যাপটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে জ়েট গতিতে। আর এতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। 

সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ বিভাস চ্যাটার্জির বক্তব্য, ভারতের আইটি অ্যাক্টের সেকশন ২ সাবসেকশন W অনুযায়ী এগুলো ইন্টার মিডিয়ারি। এই অ্যাপগুলো কিন্তু এনস্ক্রিপটেড এনভায়রনমেন্ট ব্যবহার করে। এনস্ক্রিপশনের জন্য প্রাইভেসিটা খুবই উপভোগ্য। কিন্তু, ক্রাইম হলে পুলিশের কাছে খুবই চ্যালেঞ্জিং। যদি অ্যানোনিমাসলি কোনও মহিলাকে নির্যাতন করা হয়, ব্ল্যাকমেল করা হয় বা ভয় দেখানো হয়, সেক্ষেত্রে তথ্য পেতে পুলিশের কালঘাম ছুটে যাবে। এই ধরনের অ্যাপ মারাত্মকভাবে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসবাদীরা। আমি আমার কাজেও তার প্রমাণ পেয়েছি। FBI বেশ কয়েকবছর আগে বলেছিল, পুলিশের দুঃস্বপ্ন হল এনস্ক্রিপশন। তার পেছনে এটাই কারণ ছিল। ভারত এবং ভারতের বাইরে সন্ত্রাসবাদীরা এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করেই সংকেত পাঠায়।

ইন্ডিয়ান স্কুল অফ অ্যান্টি হ্যাকিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপন সেনগুপ্ত বলেন, দেখুন এই অ্যাপগুলো বানানো হয়েছে ফ্রিডম অফ স্পিচের জন্য। কেউ কেউ খারাপ কাজে ব্যবহার করছে অ্যাপগুলো। মাদক পাচারকারি থেকে সন্ত্রাসবাদী সবাই এইসব অ্যাপ ব্যবহার করছে। আর এই অ্যাপে বাচ্চাদের সঙ্গে সাইবারবুলিং হতে পারে। যে কারণে বিদেশে অনেকে বন্ধ করে দিয়েছে এই আ্যাপগুলো। তাছাড়া যে মোবাইলে এই অ্যাপটা ব্যবহার করছেন তাতে ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনও করতে পারেন। সেক্ষেত্রেও হতে পারে সমস্যা। ডিটেলস হয়ত চলে যেতে পারে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে।


বিডি


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71