সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
সোমবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু
স্বদেশ ফেরার অপেক্ষায় ২২৬০জন রোহিঙ্গা
প্রকাশ: ০৬:৩৭ pm ১২-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:৩৯ pm ১২-১১-২০১৮
 
কক্সবাজার প্রতিনিধি
 
 
 
 


কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিয়েছে মিয়ানমার। 

দেশটির কর্মকর্তারা রবিবার জানিয়েছেন, ১৫ নভেম্বর থেকে দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার প্রথম দলটির প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুতি নিয়েছে। আর প্রতিদিন ১৫০ জন করে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে অ্যারেঞ্জমেন্ট নামে প্রত্যাবাসন চুক্তিটি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে, প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার করে রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গ্রহণ করবে মিয়ানমার। আর সেটার পদ্ধতি ও পথনকশাও চূড়ান্ত। সেই মোতাবেক সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে থাকবে পাঁচটি ট্রানজিট ক্যাম্প। প্রত্যেক কর্মদিবসে ৩০০ রোহিঙ্গাকে নিয়ে যাওয়া হবে সেসব ট্রানজিট ক্যাম্পে। এরপর সেখান থেকে পাঠানো হবে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের দুটি রিসেপশন ক্যাম্পে। আর রিসেপশন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদেরকে পাঠানো হবে নিজ নিজ গ্রামে, তাদের ঘরবাড়িতে।

এদিকে গত মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় ৫ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন শুরু হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রথম গ্রুপটিকে ফেরত নেয়া শুরু করবে মিয়ানমার।

সম্প্রতি, ঢাকায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার তৃতীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রথম দল মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। 

ওই দলে থাকছে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন সদস্য। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। এর কিছু দিন আগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ঘুরে একই কথা ব্যক্ত করেছিলেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব উ মিন্ট থু।

এছাড়া ৬৫ হিন্দু শরণার্থী পরিবারেরও প্রত্যাবাসন সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু প্রত্যাবাসনের কাছাকাছি সময়ে পৌঁছালেও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারা, কীভাবে, কোন ঘাট দিয়ে যাবেন। এ বিষয়ে কারও সু-নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নভেম্বরে মাঝামাঝি সময়ে প্রত্যাবাসন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানিয়েছেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য স্থল-জলপথের ঘাট দুটিই প্রস্তুত রয়েছে। উভয় দেশের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে কাজ শুরু হয়েছে।’ 

নভেম্বরের মাঝামাঝি প্রত্যাবাসন শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

এদিকে বাংলাদেশের তরফ থেকে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের একটি লিস্ট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান শুরুর পর সেখান থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছে সেখানে আর ফিরে যাবে না। এদিকে, বাংলাদেশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা কাউকে জোর করে ফেরত পাঠাবে না।

তবে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কথা বললেও জাতিসংঘ বলছে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়াটা নিরাপদ নয়। কারণ, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছে মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

রবিবার বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগুনে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ এবং পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে যে এটা হবে কিনা। তবে আমাদের দিক থেকে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আর আমরা সেটাই করেছি। গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল মিয়ানমার। কিন্তু এ প্রক্রিয়া শুরু হতেই এক বছরের মতো সময় লেগে গেছে।

বৃহস্পতিবার দু'টি নৌকায় করে ২ হাজার ২৫১ জনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উইন মিয়াত আয়ে। অপরদিকে ২ হাজার ৯৫ জনের দ্বিতীয় গ্রুপটিকে পরে যে কোন সময় নৌকায় করে ফেরত পাঠানো হবে। কর্তৃপক্ষ তাদের এমন স্থানে পাঠাবে যেখানে তাদের জন্য সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং তারা কাজ করারও সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও টেকনাফের কেরণতলীর (নয়াপাড়া) ঘাট দুটির কাজ শেষ হয়েছে। ঘুমধুম পয়েন্ট দিয়ে স্থলপথে এবং কেরণতলী পয়েন্ট দিয়ে নাফ নদী হয়ে নৌপথে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো হবে। চলতি মাসে (নভেম্বর) মাঝামাঝি নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফের কেরণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে প্রথম ব্যাচ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নাফ নদীর তীরে প্রধান সড়কে লাগানো কাঁটাতারের ভেতর একটি সাইনবোর্ডে লেখা আছে, কেরণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাট, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য। ভেতরে ঢুকলে দেখা মিলে টিনের তৈরি আধাপাকা সারি সারি ঘর। প্যারাবন থেকে নদীর দিকে ঝুঁকছে লম্বা কাঠের জেটি, এক লাইনে ১১টি করে তিন লাইনে ৩৩টি সেমি-টিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার ও চারটি টয়লেট। এখানে প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের রাখা হবে বলে জানা গেছে। তাদের দেখভালের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের আলাদাভাবে চারটি ঘর রয়েছে। পুরো কাজটি বাস্তাবায়ন করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা ও এশিয়ার শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক উপ-সহকারী মন্ত্রী রিসার্ড অলব্রাইট। তিনি রবিবার কক্সবাজারের ঘুমধুম প্রত্যাবাসন ঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিরাপদ, মর্যাদা ও স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। রাখাইনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দাতা সংস্থাকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়া দরকার।’তবে রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার।

গত শনিবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে কক্সবাজার টেকনাফ শালবাগান শরণার্থীর ক্যাম্পের চার নারীসহ ৯ জন রোহিঙ্গা নেতাদের মুখে নির্যাতনের কথা শুনেন জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার। বৈঠকে থাকা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে বিচার পায় সেজন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত। 

নি এম/চঞ্চল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71