সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮
সোমবার, ৭ই কার্তিক ১৪২৫
 
 
স্বপন সাহাকে হত্যার পর শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিল পিন্টু
প্রকাশ: ০৫:২১ pm ১৭-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:২১ pm ১৭-০৭-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে ২১ মাস আগে নিখোঁজ কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহাকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে গুম করা হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যার মূল ঘাতক পিন্টু দেবনাথ আরো দুই বছর আগে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে। 

সম্প্রতি আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে স্বপন কুমার সাহা হত্যার বিষয়টি।

এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যাকারী পিন্টুর পরকীয়া প্রেমিকা রত্না রাণী চক্রবর্তী ও শহরের আমলাপাড়া এলাকার আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে এ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই মামুনই পিন্টুর কথিত বড় ভাই বলে প্রমাণ মিলেছে। যার প্ররোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে বন্ধু প্রবীরকে সাত টুকরা করে হত্যা করে লাশ সেফটি ট্যাংকে গুম করেছিল।

এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যা মামলার প্রধান আসামী পিন্টু দেবনাথসহ চারজনকে আসামি করে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন নিখোঁজ স্বপন কুমারের পরিবার। সোমবার বিকেলে স্বপন কুমারের বড় ভাই অজিত কুমার সাহা বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে স্বপন কুমারের ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন পিন্টু দেবনাথের পরকীয়া প্রেমিকা রত্না রাণী চক্রবর্তীর কাছ থেকে উদ্ধার করেছে। মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রত্না রাণী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে।

রবিবার রাতে দুইজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠায় তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আশেক ইমাম শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে। ২১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ৯ জুলাই শহরের আমলপাড়া এলাকার একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের সাত টুকরা খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত পিন্টু দেবনাথ ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। এতে সে প্রবীরকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড এবং হত্যার পর লাশ গুমের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

এছাড়া জবানবন্দী ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু জানায়, আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুনকে সে ও প্রবীর ‘বড় ভাই’ হিসেবে ডাকতো। বছরখানেক আগে মোল্লা মামুন একদিন পিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায়। তখন প্রবীরের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, প্রবীর তোর বন্ধু না শত্রু? পিন্টু নির্দ্বিধায় প্রবীরকে বন্ধু বলে স্বীকার করলে মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে চড় মারে ও গালি দিয়ে বলে প্রবীর তোর বন্ধু না। এরপর মোল্লা মামুন ফোন করে প্রবীরকে।

মোবাইলে লাউড স্পিকারে পিন্টুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেই প্রবীর বলেছিল, ওরে মাইয়া লোক দিয়া... কইরা র‌্যাব দিয়া ধরাইয়া দেন দাদা। ওর টাকা পয়সা বাইরা গেছে, অর্ডারও বাইরা গেছে। ওর দোকানডা আমার লাগব। প্রিয় বন্ধুর মুখে এমন কথা শোনার পরই ক্ষোভ জন্মে পিন্টুর মধ্যে।

এদিকে ৯ জুলাই যখন প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয় তখন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন মোল্লা মামুন। তাকে এরপর থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। পরে সোমবার সকালে তাকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রোববার গভীর রাতে মাসদাইর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রত্মা বেগমকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু জানিয়েছে স্বপন ভারতে চলে গেছে। কিন্তু পুলিশের ধারণা ছিল প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ স্বপনের ভাগ্যেও হয়তো নির্মম কোনো পরিণতি ঘটে থাকতে পারে। স্বপনের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

ওই জিডির প্রেক্ষিতে সোমবার স্বপনকে গুমের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে অজিত কুমার সাহা। পরে তাৎক্ষণিক মামলাটি ডিবিকে হস্তান্তর করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয় মামুন ও রত্মাকে। মামলায় এ দুইজন ছাড়াও পিন্টু দেনবাথ ও বাপন ভৌমিক বাবুকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অজিত কুমার সাহা জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। তখন তদন্তে বেরিয়ে আসে যে কাশীপুর উত্তর গোয়ালবন্দ এলাকার সেলিনা আক্তার নামের এক নারীকে স্বপন কুমার সাহা গোপনে বিয়ে করেছেন। ওই সময়ে আবার স্বপনকে না পেয়ে ১১ নভেম্বর সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি জিডি করেন। পরে স্বপনের বন্ধু কালীরবাজার এলাকার পিন্টু দেবনাথকেও জিজ্ঞেস করি। কিন্তু পিন্টু বার বার বলে আসছিলেন স্বপন ভারত চলে গেছে।

গত ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগী বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি পিন্টু দেবনাথের পরকীয়া প্রেমিকা রত্মা ব্যবহার করছে।

১৫ জুলাই রবিবার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা স্বপন না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু।

ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের রত্মা জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় বসে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার রাতে রত্মার দেওয়া তথ্যমতে রাতেই মোল্লা মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। সে পিন্টুর কাছ থেকে দুইজনের নাম করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এস আই মফিজুল ইসলাম জানান, স্বপনকে গুমের অভিযোগে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে আনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এ ব্যাপারে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71