শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
শনিবার, ১লা পৌষ ১৪২৫
 
 
স্বপ্ন ছিল আমিও একদিন রাবির ছাত্র হবো
প্রকাশ: ০৮:৫১ pm ২৮-০১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৯:০০ pm ২৮-০১-২০১৬
 
 
 


সাজু আহমেদ,রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ। আয়তনের দিকদিয়ে এটি দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে রাজশাহী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে মতিহারের সবুজ চত্বরে প্রায় ৬০০ একর জমির উপর এটির অবস্থান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস রক্তে রঞ্জিত ইতিহাস। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যে দেশের শিক্ষক  ছাত্রদের জন্য তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে যেটি প্রথম করেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ ড. মুহম্মদ শামসুজ্জোহা। মূলত তার এই জীবন দানের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল । তাকে হত্যার প্রতিবাদে  সারা দেশের ছাত্র সমাজের মধ্যে আন্দোলনের অগ্নিশিখা ছড়িয়ে পড়েছিল, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তিনি ছিলেন অন্যতম মহানায়ক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। যেখানে বর্তমান ভিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দীন ।



রাজশাহী শহর হতে পূর্বে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের বাম হাতেই রাজশাহী বিশ্বদ্যালয়ের প্রধান ফটক। মূল ফটকদিয়ে সামনে ঢুকতেই চোখে পরবে সাবাশ বাঙলা। ভাস্কর্যের নির্মাতা হলো দেশের বিখ্যাত ভাস্কর নিতুণ কুন্ডু। সাবাশ বাঙলার পাশেই অবস্থিত আধুনিক অডিও সিস্টেমসহ ২০৬ আসনবিশিষ্ট শীততাপ নিয়ন্ত্রিত  সিনেট ভবন। তার একটু সামনেই দেখতে পাওয়া যাবে বিশ্বদ্যালয়ের  প্রথম প্রশাসনিক ভবন। প্রশাসনিক ভবনের সামনেই তৈরী হচ্ছে শহীদ ড.মুহম্মদ শামসুজ্জোহা স্মৃতিফলক। তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এই বছরে শুরু হয়েছে এই স্মৃতিফলক তৈরীর কাজ।

প্রশাসনিক ভবনের সামনেই অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সুর্বণ জয়ন্তী টাওয়ার। এটির ভিত্তি প্রস্থার স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রশাসনিক ভবনের উত্তর –পশ্চিমে মনোরম স্থাপত্যসমৃদ্ধ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রন্থাগার। অবস্থানের দিক দিয়ে দ্বিতীয় হলেও পুরাতুন বই সংগ্রাহের দিক দিয়ে প্রথম স্থানে আছে এই গ্রান্থাগারটি। এর নিচতলায় ইস্যু কক্ষ, দোতলায় ক্যাটালগ ও পাঠকক্ষ, তিনতলায় গ্রন্থাগার অফিস, সংবাদ পাঠকক্ষ।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। এখানে আছে শহীদ সংগ্রামশালা, দুটি ম্যুরাল ও উন্মুক্ত মঞ্চ। শহীদ সংগ্রামশালার মধ্যে আছে মুক্তি যুদ্ধের সময়কার নানা সরঞ্জাম। যেটা দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমায় বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দর্শনাথীরা। এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত নানা রকম উপকরণ। শহীদ মিনারের পিছনে অবস্থিত রাকসু ভবন ও তার পাশেই অবস্থিত কেন্দ্রীয় কাফেটেরিয়া যেখানে ছাত্ররা সুলভ মূল্যে নাস্তা ও দুপরের খাবার খেয়ে থাকে। শহিদুল্লাহ কলাভবনের ডানে অবস্থিত কলা, আইন , বিজনেস স্টাডিজ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অফিস ডীনস কমপ্লেক্স। রাকসু ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত বিজ্ঞান ওয়ার্কশপ  এবং তার সামনে অবস্থিত আধুনিক আলোক সজ্জা ও শব্দ নিয়ন্ত্রিত কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য রয়েছে মেডিকেল সেন্টার। এখানে রয়েছে প্যাথলজি, এক্সরে, ইসিজি, আই ডেন্টাল পরিবার পরিল্পনা বিভাগ ইত্যাদি। প্রশাসনিক ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত পরিবহণের স্ট্যান্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য রয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবহণ। এছাড়া রয়েছে  আইবিএস ভবন, বিএনসিসি ভবন, জুবেরী ভবন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের পাশেই অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ।

১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বপ্রাচীন সংগ্রামশালা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বঙ্গীয় শিল্পকলার বিপুল ও বর্ণাঢ্য সংগ্রহের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। রাজশাহী শহরে অবস্থিত, সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐহিহ্যের স্মারক এই জাদুঘরটি ১৯৬৪ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক জায়গায় এর ক্যাম্পাস রয়েছে যেটি নারকেল বাড়িয়া নামে পরিচিত।



রাজশাহী  বিশ্বদ্যায়ের মোট একাডেমী ভবনের সংখ্যা ১১ টি । এগুলো হলো রবীন্দ্র ভবন, সিরাজী ভবন, মমতাজউদ্দীন কলা ভবন, শহীদুল্লাহ কলা ভবন, কৃষি অনুষাদ, চারুকলা অনুষদ, প্রথম বিজ্ঞান ভবন, দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন, তৃতীয় বিজ্ঞান ভবন, চতুর্থ বিজ্ঞান ভবন । অনুষদ, কৃষি অনুষদ, প্রকৌশল অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যানো একাডেমিক ভবনগুলো এক জায়গায় থাকলেও কৃষি অনুষদটি একটু দূরে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে ট্রেন রাস্তা যার পাশে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ । অপরূপ সৌন্দার্যের আধার এই চারু কলা অনুষদ । এখানে রয়েছে বিচিত্র রকম মূর্তি । 

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিভাগের সংখ্যা ৫৯ টি।  দেশের বৃহত্তম বিদ্যাপীটে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারে নি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মোট আবাসিক হলের সংখ্যা ১৮ টি। এর মধ্যে ছেলেদের জন্য রয়েছে  ১১ টি হল আর মেয়েদের জন্য রয়েছে ৬ টি হল। এই বছর নতুন করে উদ্বাধন করা হয়েছে বঙ্গমাতা ফজিতুন্নেছা হল ।

বিশবিদ্যালয়ের মোট অনুষদের সংখ্যা ৮ টি । এগুলো হলো কলা অনুষদ, আইন অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বিজনেজ স্টাডিজ অনুষদ, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ ।দীর্ঘদিন  বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে চালু হয়েছে ছাত্র ও শিক্ষকদের মিলনকেন্দ্র শেখ সুরঞ্জন সমাদ্দর সংস্কতিক কেন্দ্র ।

প্রাকৃতিক সৌর্ন্দদের অপরূপ আধার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারিদিক সবুজ গাছগাছিতে ভরা আর আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বিখ্যাত প্যারিস রোড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হলের পূর্ব দিকে অবস্থিত বর্ধভূমি । কথিত আছে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী বাঙ্গালীদের নির্মম ভাবে হত্যা করার পরে এখানে ফেল রাখত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস চারিদিক  সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের স্বর্গ। এই স্বাধীন বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন থাকবে এই বিদ্যাপীঠ। নিজস্ব পরিচয়, ভাব ও গৌরব নিয়ে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


এইবেলা ডটকম/ এসসি  
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71