বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পায়নি মঙ্গলা-জয়ন্তী
প্রকাশ: ০৮:৩৭ pm ১৬-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৩৭ pm ১৬-০৪-২০১৮
 
বিকুল চক্রবর্তী
 
 
 
 


১৯৭১ সালে স্থানীয় রাজাকারদের ভয়ে ৯৯ ভাগ সংখ্যালঘু বাড়িঘর ফেলে আশ্রয় নেন ভারতে। আর দেশে ফিরে তাদের জীবনে শুরু হয় আরেক সংগ্রাম। রাজাকাররা এ সব সংখ্যালঘু পরিবারের সমস্ত মালামাল, গবাদি পশু লুটে নিয়ে পুঁড়িয়ে দেয় বাড়িঘর। 

মৌলভীবাজারের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে রাজাকারদের ভয়ে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লোক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ও আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নেন। যার মধ্যে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিলো ৯০ ভাগ। এদিকে ভারতে আশ্রয় নেয়ার আগেই এদেশীয় রাজাকারদের দ্বারা ও তাদের সহযোগিতায় প্রাণ হারান হাজার হাজার সংখ্যালঘু অধিবাসী। এদের নখের আঁচড়ে খত-বিক্ষত হন শত শত নারী।

তাদেরই একজন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলা বৈদ্য। তখন তাঁর বয়স হবে বার তের। এইটুকু বয়সে মঙ্গলা চুষে বেড়াতেন সারা গ্রাম। তার প্রাণচঞ্চলতা দৃষ্টি কাড়ে পুরো গ্রামের। মনে তার নানান রঙ্গের রঙ্গিন স্বপ্ন। কিন্তু কে জানতো মঙ্গলার এই রঙ্গিন স্বপ্ন সারা জীবনের বিষাদে পরিণত হবে। ১৯৭১ সালের মে মাস ( বৈশাখের ২৪ তারিখ ) হঠাৎ করেই পাকিস্তানি বাহিনী হানা দেয় তাদের গ্রামে। মিটিং এর কথা বলে গ্রামের রাজাকাররা পুরো গ্রামের সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ে আসে কামিনী দেবের বাড়িতে। এ সময় আতর মহাজন ও শেরপুর সাধুহাটির মদরিছ মেম্বার ও মৌলানা আব্বাস সব পুরুষদের আলাদা করে বাড়ির ডানপাশের রাস্তায় গিয়ে লাইন ধরে দাঁড়াতে বলে আর মহিলাদের বাড়ির উঠানে লাইন ধরায়। সন্ধ্যার একটু আগে ব্রাশফায়ার করে ২৮ জন পুরুষকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে এসে সুন্দরী মহিলা ও যুবতীদের পছন্দ করে নিয়ে যায় কামিনী দেবের ঘরের ভিতরে। বাকিদের তাড়িয়ে দেয়। সেখানে মঙ্গলা, জয়ন্তী, প্রণতি, সুজলা বৈদ্য ও সন্ধ্যা রানীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তাদের এই পাশবিক অত্যাচারে এরা সবাই সেদিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। নির্যাতন শেষে রাজাকাররা তাদের ভিতরে রেখে ঘরে আগুন দিয়ে চলে যায়। এ সময় আগুনের তাপে একজনের জ্ঞান ফিরলে তিনি ঘরের বেড়া (বাঁশের দেয়াল) ভেঙ্গে টেনে টেনে সবাইকে ঘর থেকে বের করেন। সেদিন তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। চিরতরে নিঃশেষিত হয় মঙ্গলার রঙ্গিন স্বপ্নগুলো।

একই ভাবে নরিয়া গ্রামের জয়ন্তী বৈদ্যের স্বামী, বাসুর ও দেবরকেও হত্যা করে নরপশুরা। হত্যা করে সম্ভ্রম লুটে নেয়া সুজলা, প্রণতী ও সন্ধ্যার সজনদেরও। প্রকাশ্যে সকলের সামনে তাদের ধরে নিয়ে সম্ভ্রম লুটে নিলেও স্বাধীনতার ৪৬ বছরে তাদের ভাগ্যে জুটেনি মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) স্বীকৃতি। তারা জানেনও না কিভাবে বীরাঙ্গনা উপাধি পেতে আবেদন করতে হয়। কেউ তাদের উৎসাহিতও করে নি। আর স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিক্রম হলেও এখন তাদের মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে।

এদিকে যে রাজাকাররা তাদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলো আজও তারা এবং তাদের পরিবার পরিজন আছেন বহাল তবিয়তে। কিন্তু সম্ভ্রম হারানো বীরমাতারা রয়ে গেছেন আজও অন্ধকারে। তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়ার দাবী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: জামাল আহমদের।

মৌলভীবাজারের এই সকল বীরমাতাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ স্ব উদ্যোগে খোঁজে বের করে তাদের জীবনের শেষবেলায় অন্তত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানে ভুষিত করবেন এমনটাই চাওয়া সম্ভ্রম হারানো মায়েদের স্বজনদের।

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71