সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
হঠাৎ করেই থেমে গেছে কূটনীতিক তৎপরতা
প্রকাশ: ১০:২৬ am ২২-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ১০:২৬ am ২২-০৩-২০১৫
 
 
 


ঢাকা : হঠাৎ করেই থেমে গেল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দৃশ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের চলমান হরতাল-অবরোধের শুরু থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংকট সমাধানে ছিল তৎপর। কিন্তু হঠাৎ করে গত ৩ মার্চের পর দৃশ্যমান আর কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা না দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট একাধিক কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, গত ৩ মার্চ বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কিছুটা হতাশ হয়েই তারা নিস্ক্রিয় হয়ে গেছেন।

ইইউ জোটভুক্ত দেশের একাধিক কূটনৈতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, গত ৩ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতে কূটনীতিকরা বলেছিলেন, অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করতে। তারা সরকারের সঙ্গে দূতিয়ালি করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন খালেদা জিয়াকে। কিন্তু পরদিন আবারো বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের চলমান কর্মসূচি অব্যহত রাখায় কূটনীতিকরা কিছুটা হতাশ হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে পেট্রলবোমাসহ আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যাওয়ায় বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সংকট নিরসনে প্রায় প্রত্যেকটি দেশ, কূটনৈতিক জোট এবং সংস্থা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক সংলাপের পক্ষে মত দিয়েছে। গত আড়াই মাসে একই সঙ্গে জাতিসংঘ প্রভাবশালী দেশগুলো একাধিকবার সরকারকে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছিল, নাশকতামূলক কর্মসূচি প্রত্যাহার না করলে এবং জামায়াতকে বাদ না দিলে সরকার কোনো আলোচনায় বসবে না।

তবে কূটনৈতিকক সূত্রগুলো বলছে, ঢাকাস্থ দূতাবাস, জাতিসংঘ, কমনওয়েথ ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত সমস্যার সমাধান চায়। ইতোমধ্যে একাধিকবার বিবৃতির মাধ্যমে তারা সংকট সমাধানে কি ধরনের উদ্যোগ হতে পারে সেই ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনরত বিএনপিদলীয় জোট এবং সরকার পক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়েনি।

কূটনৈতিক একাধিক সূত্র বলেছেন, জানুয়ারি মাসেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচএম মাহমুদ আলীর কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রস্তাব নিয়ে যায়। এরপর ওআইসি ও এশিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চায় কূটনীতিকরা। এ পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতমাসে দুই দফা রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন পদ্মায় বৈঠক করেন ব্রিফিং করেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিং-এ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর প্রায় একমাসেরও বেশি সময় কূটনৈতিক তৎপরতা বিবৃতি উদ্বেগ ও নিন্দার মধ্যেই ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের ২২ তারিখের পর থেকে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কূটনীতিকরা তৎপর হয়ে উঠে। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী জোট ও দেশগুলোর কাছে সংকট সমাধানে তাদেরকে সংলাপের মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাব দেওয়ায় কূটনীতিকরা বিষয়টি আমলে নেয়।

গতমাসে জাতিসংঘ সংকট সমাধানের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পৃথক চিঠি পাঠায়। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সেই চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্টই বলা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সরকার কোনো প্রকার সংলাপ করবে না। একইভাবে বিএনপির পক্ষ থেকেও চিঠি দিয়ে জাতিসংঘকে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি খালেদা জিয়া লেখেননি বলে জানালেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে সেটি দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি দলীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কোনোভাবেই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ দূতাবাসের ১৫টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতেরা প্রধানমন্ত্রীকে যৌথ চিঠি দিয়েছেন। এতে চলমান সহিংসতা ও ধ্বংসাÍক কার্যকলাপের নিন্দা জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানোর সপ্তাহ খানেক আগে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, জাপান, নরওয়ে, ফ্রান্স, তুরস্ক ও নরওয়ের কূটনীতিকেরা অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের বাসায় বৈঠক করেন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য দূর করার ওপর তারা ওই বৈঠকে জোর দেন।

১৬ কূটনীতিকের এই অনুরোধের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ১ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। ১৬ কূটনীতিককে অবহিত করার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

সরকারের অবস্থান জানার পর এই জোট খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেয়। মার্চের ৩ তারিখে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন ১৬ কূটনীতিক। সেখানে তারা সহিংসতা বন্ধ করতে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেন এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান জানতে চান। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় কূটনীতিকরা দুইভাগে বৈঠক করেন এবং একটি চিঠি দেন তাকে।

বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে খালেদা জিয়াকে হরতাল অবরোধ কর্মসূচি বাদ দিয়ে সহিংসতা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প কর্মসূচির দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়টি ভাবতে পরামর্শ দেন। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের দমন পীড়নের চিত্র তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। তিনি সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে তার মত দেন। সংলাপের তারিখ দিনক্ষণ ঠিক করা হলেই কেবল কর্মসূচি তোলা হবে এমন ইঙ্গিত দেন। এসময় কূটনীতিকরা বিএনপির প্রতি তাদের পরামর্শের চিঠিটি খালেদার হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতাকে লেখা চিঠিতে সই করেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট, কানাডার হাইকমিশনার পিয়েরে বেনোয়া লাঘামে, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোসিমা, ডেনমার্কের হ্যানে ফুগু এসকেয়ার, ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু, জার্মানির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ফার্দিনান্দ ভন ভেইয়ে, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জারবেন ডি জং, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেট লুনডেমো, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন-ইয়াং, স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুই তেজাদা চাকোন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ইয়োহান ফ্রিসেল, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ফশ এবং তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হুসেইন মুফতুগলু। 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71