মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৯শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
হঠাৎ রক্তবমি হলে
প্রকাশ: ১১:৩৭ am ২৫-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:৩৭ am ২৫-০৭-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বমির সঙ্গে রক্ত গেলে তাকে বলা হয় রক্তবমি বা হেমাটোমেসিস। সচরাচর পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার কারণে এমনটি হয়। বমির সঙ্গে তাজা লাল রক্ত যেতে পারে। রং হতে পারে কফির মতো। আবার ভেতরে প্রচুর রক্তপাত হলে ছোট ছোট জমাট রক্তদলা বমির সঙ্গে আসতে পারে।

রক্তবমির কারণ

-পেপটিক আলসার বা পেটে আলসার হলে

-অন্ত্রনালির নিচের দিকের রক্তবাহী নালি ফেটে গিয়ে (সাধারণত দীর্ঘ যকৃতের রোগে হয়)

-অন্ত্রনালি, পাকস্থলী বা অন্ত্রের ঝিল্লি ক্ষয়ে গেলে

-অ্যাসপিরিন বা এ-জাতীয় ওষুধ বিশেষ করে খালিপেটে খেলে

-পাকস্থলীর ক্যান্সারে

-রক্তের রোগ, রক্তের ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া

উপসর্গ

প্রথমেই রক্তবমি শুরু নাও হতে পারে। অনেকক্ষণ ধরে পেটে ব্যথার পর বমি করতে করতে রক্তবমি শুরু হতে পারে। এ পর্যায়ে রক্ত কম পরিমাণে বের হলে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে বেশি রক্তবমি হলে দুর্বলতা, অস্বস্তিবোধ, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে ঘেমে যাওয়া, ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়া, ভুলভাল বলতে শুরু করার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। তবে রক্তবমি হওয়ার পেছনে কোনো কারণ বা রোগ থাকলে তার লক্ষণও দেখা যাবে। তবে তার জন্য চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়বে। যেমন- লিভার সিরোসিসের জন্য হলে জন্ডিস, আয়তনে বড় যকৃত, পেটে পানি জমা ইত্যাদি খুঁজে পাবেন চিকিৎসক।

রোগ নির্ণয়

রক্তবমির ক্ষেত্রে রোগী বা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। এটা রোগ নয়, রোগের ফল। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ থাকে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। যেমন- লিভার সিরোসিস, আলসার, শরীরে স্থায়ী কোনো ব্যথাজনিত রোগ ইত্যাদি।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষাগুলো হলো-এন্ডোসকপি, বেরিয়ামমিল এক্স-রে, পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, লিভার ফাংশন টেস্ট, রক্তের বিভিন্ন কণিকার পরিমাণ, ব্লিডিং টাইম, ক্লটিং টাইম, রেডিও নিউক্লিড স্ক্যান ইত্যাদি।

হঠাৎ রক্তবমি শুরু হলে করণীয়-

* ঠাণ্ডা তরল খাবার পরিমাণমতো যেমন ঠাণ্ডা দুধ পান করতে হবে

* গরম বা দানাদার খাবার যেমন ভাত-রুটি খাওয়ানো যাবে না

* গলা, বুক জ্বলে যাওয়ার অনুভূতি হলে কয়েক চামচ অ্যান্টাসিড সাসপেনশন খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সাসপেনশন খাওয়ালে আবার বমি শুরু হয়।

* রোগীকে শোয়ানোর সময় পা একটু ওপরে রাখলে ভালো হয়।

তবে এগুলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়। তাই অবশ্যই রোগীকে নিকটস্থ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

কাদের ঝুঁকি বেশি

* বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি।

* আগে থেকেই ক্যান্সার আছে।

* লিভার বা কিডনি ফেইলিওর আছে।

* আগেও এমন রক্তবমি হয়েছে।

* হৃৎপিণ্ডের অসুখ বা ডায়াবেটিস আছে।

প্রতিরোধ

- পেটে আলসার যাতে না হয়, সে জন্য আগেভাগেই খাবারের প্রকার ও সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অ্যালকোহল বা ধূমপানে বিরত থাকা, অ্যাসপিরিন বা এ-জাতীয় ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মমতো ওষুধ সেবন ইত্যাদি।

- হেপাটাইটিস বা অন্যান্য লিভারের রোগ, যা দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগ সৃষ্টি করতে পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রক্ত দ্রব্যাদি ব্যবহারে সতর্ক থাকা, অ্যালকোহল পানে বিরত থাকা ইত্যাদি। তবে কোনো কারণে হেপাটাইটিস হয়ে গেলে তার যথাযথ চিকিৎসা যত্নসহকারে গ্রহণ করা।

- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাজনিত রোগ বা সাময়িক ব্যথাজনিত রোগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যথার ওষুধ বা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ অবশ্যই ভরাপেটে খাওয়া বা খুব বেশি এসিডিটি হলে রেনিটিডিন বা এ-জাতীয় ওষুধ সেবন করা।

-পাকস্থলীতে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাব থাকলেও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাক্টরও থাকে। সেসব ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি এড়িয়ে চলা; যেমন পেটে আলসার থাকলে নিয়মকানুন মেনে চলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনে বিরত থাকা, অতিরিক্ত হাইড্রোকার্বন জাতীয় খাবার গ্রহণ (অর্ধসিদ্ধ মাংস) থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71