শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হবিগঞ্জে থামছে না বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল
প্রকাশ: ০৬:৫৯ pm ০৮-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:৫৯ pm ০৮-০৫-২০১৮
 
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 
 
 
 
 


হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামছেনা। মঙ্গলবার বানিয়াচং উপজেলাত মুরাদপুর ইউনিয়নে বজ্রপাতে জুবাইল মিয়া (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় বজ্রপাতে হোসেনপুর গ্রামে ফিরোজা বেগম নামে এক গৃহবধূ আহত হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকালে মুরাদপুর হাওরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত জুবাইল মিয়া মর্দনপুর গ্রামের মুতাহিল মিয়ার ছেলে। আহত গৃহবধূ ফিরোজা বেগম নীল হোসেনপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের স্ত্রী। 

জানা যায়, সকালে প্রচণ্ড ঝড়ের সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এসময় মুরাদপুর হাওরে ধান কাটার সময় জুবাইল গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে নীল হোসেনপুর গ্রামের গৃহবধূ ফিরোজা বেগম বাড়ির আঙ্গিনায় বজ্রপাতে ওই গৃহবধূ আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও হবিগঞ্জের বিভিন্নস্থানে ১৫ দিনে ১৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সোমবার (৭ মে) সকাল ১১টায় বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বৃন্দা চিত্তা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অপর এক শ্রমিক। নিহত শ্রমিকরা হলেন, উপজেলার কবিরপুর গ্রামের মৃত নাদু বৈষ্ণবের ছেলে অধীর বৈষ্ণব (২৭) ও তেলঘরি গ্রামের বীরেশ্বর বৈষ্ণবের ছেলে বসু বৈষ্ণব (৩২)। এ ঘটনায় আহত শ্রমিক হলেন, তেলঘরি গ্রামের হরিচরণ বৈষ্ণবের ছেলে কৃষ্ণধন বৈষ্ণব (৩২)। বৃন্দাচিত্তা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিন শ্রমিক। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধীর বৈষ্ণব। গুরুতর আহত অবস্থায় বসু বৈষ্ণবকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত কৃষ্ণধন বৈষ্ণবকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ মে) দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের তাউসী গ্রামে বজ্রপাতে হেনা বেগম (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হেনা বেগম ওই গ্রামের কাতার প্রবাসী সোহেল মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেনা বেগমের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একই দিন বানিয়াচং উপজেলার মুড়ারআব্দা গ্রামে বজ্রপাতে রনধীর চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ওইদিন দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রনধীর মুড়ারআব্দা গ্রামের মৃত যতীন্দ্র চন্দ্র দাশের ছেলে।
দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে মুড়ারআব্দা হাওর থেকে ধান নিয়ে ফিরছিলেন রনধীর। এ সময় বজ্রপাতের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শুক্রবার (৪ মে) দুপুরে বাহুবলে উপজেলার গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরে বজ্রপাতে মোঃ আবুল কালাম (৩৫) নামে এক কৃষক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরো দু’জন। নিহত কালাম গুঙ্গিয়াজুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ভবানী গ্রামের সঞ্জব উল্লার ছেলে। আহতরা হলেন-একই গ্রামের কুটি মিয়ার ছেলে ছাদ মিয়া ও আফতাব মিয়ার ছেলে ওয়াজিদ উল্লা। ওই দিন সকাল থেকেই হাওরে ধান কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ওই তিনজন। দুপুরে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতের তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ছাদ ও ওয়াজিদকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বুধবার (২ মে) সকাল ১০টার দিকে বানিয়াচং উপজেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হন। এ ঘটনায় আরো একজন আহত হয়। নিহতরা হলেন- উপজেলা সদরের বাসিয়াপাড়া এলাকার তৈয়ম উল্লার ছেলে করিম উল্লা (৬৫) ও বড়ইউড়ি গ্রামের তাহির মিয়ার ছেলে শাহীন মিয়া (২৫)। আহত জাহেদ মিয়া (৩০) বড়ইউড়ি গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে। আহত জাহেদকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ওই দিন সকাল ৯টায় একই উপজেলা সদরের বাসিয়াপাড়া গ্রামের করিম উল্লা ধান কাটতে হাওরে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

৩০ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ তেলকুমার হাওরে বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামে এক ধান কাটা শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। শামসুল হক উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার গাজী আবদুর রহমানের ছেলে। শামসুল সকালে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে দক্ষিণ তেলকুমার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে তার ছাতা ও মাথায় আগুন ধরে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয়রা শামসুলকে উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২৬ এপ্রিল বাহুবল উপজেলার সোয়াইয়া গ্রামের হারুণ মিয়ার পুত্র রাজু আহমেদ (১০) বন্ধুদের সাথে বাজারে গেলে বজ্রপাতে আহত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২২ এপ্রিল রবিবার বিকেলে লাখাই উপজেলার সজনগ্রামে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পার্শ্ববর্তী হাওরে ধান কাটার কাজ করছিলেন নুফুল ও আপন নামে দুই কৃষক। এ সময় বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন তারা। পরে পাশের জমিতে কর্মরত শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন- সজনগ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে নুফুল মিয়া (৪৫) ও ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আপন মিয়া (৩৫)। একই দিন বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা আগলা বাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মঈন (১২) বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে খেলা করছিল। এ সময় বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু।

১৭ এপ্রিল সকাল ১১টায় বানিয়াচং উপজেলার পৈলারকান্দি গ্রামের আমীর আলী নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ওই দিন সকালে আমীর আলী ধান উঠানোর কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এসসি/বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71