বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
হবিগঞ্জে মাছ চাষে স্বাবলম্বী  ইয়াকুত আলী
প্রকাশ: ০৮:০৮ pm ২৬-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:০৮ pm ২৬-০৯-২০১৭
 
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


মোহাম্মদ ইয়াকুত আলী একজন সফল খামারী। ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে সরকারি চাকরির পেছনে না দৌড়ে আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে নামেন ৪ বছর আগে। পৈত্রিক ৯ একর জমিতে শুরু করেন মাছ ও সবজি চাষ। ৮ একর জমিতে ছোট বড় ৬টি পুকুরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আর ১ একর জমিতে রয়েছে তার সবজি খামার। মৎস্য থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ এবং সবজি থেকে ২ লাখ টাকা আয় করছেন উচ্চ শিক্ষিত যুবক মোহাম্মদ ইয়াকুত আলী। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু যে তিনি নিজে স্বনির্ভর হচ্ছেন তা নয়, তার খামারে প্রতিদিন কাজ করছেন গ্রামের ৬ জন দরিদ্র শ্রমিক। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে তারাও তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা এনেছেন- এমনটাই জানালেন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের ভেড়াখাল গ্রামের মোহাম্মদ ইয়াকুত। 

তিনি বলেন, আমি পিতা-মাতার একমাত্র পুত্র সন্তান। আমার বড় এক বোন আছেন। তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে চাকরির পেছনে না ঘুরে আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে মনোনিবেশ করলাম। সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে যোগদান করে যে সময় ও মেধা ব্যয় করব তার চেয়ে কম সময় ও মেধা ব্যয় করে নিজ উদ্যোগে কিভাবে অধিক উপার্জন করা সম্ভব তা নিয়ে ভাবতে থাকলাম। এক সময় মনে হল পৈত্রিক অনেক জমি রয়েছে, সেগুলোতে বছরে ২টি ফসল উৎপাদন হয়, তাও সন্তোষজনক নয়। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে কিছু করা যায় কী না এমন চিন্তা মাথায় আসলো। বিষয়টি নিয়ে পরিবারসহ প্রতিষ্ঠিত লোকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করলাম। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম জমিগুলো ব্যবহার করে মৎস্য ও সবজি খামার গড়ে তুলবো। যেই চিন্তা সেই কাজ। প্রথমে স্থানীয় মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করলাম। তাদের পরামর্শ নিলাম। পরবর্তীতে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য চাষের উপর বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলাম। 

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে নামলাম মাঠে। ৮ একর জায়গাজুড়ে পৃথক ৬ টি পুকুর খনন করলাম। পুকুরখনন, মাছের পোনা, মাছের খাবার ও শ্রমিক মজুরি ইত্যাদি মিলিয়ে আমার প্রাথমিক পুঁজি প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এ অর্থ আমি পারিবারিক ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করি। ৪ বছর পূর্বে শুরু করা মাছ চাষে প্রথম বছর আমার তেমন একটা লাভ না হলেও পরবর্তী বছর থেকে বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। তাছাড়া আরও ১ একর জায়গায় সবজি চাষ করছি। সেখানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে বছরে আমার প্রায় ২ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। এভাবে দুইটি প্রকল্প থেকে আমার বছরে কমপক্ষে ১২ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। তাছাড়াও আমার বাড়িতে বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা গ্যাসের ব্যবস্থা করেছি। বসতবাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করে ১২ মাস ফল উৎপাদন করছি। এসব ফল নিজের পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রিও করছি। 

তিনি বলেন, মৎস্য চাষ প্রকল্পে প্রথম দিকে যে সময় দিতে হতো এখন আর আমার তেমন একটা সময় দিতে হয় না। শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করে চলছেন। আমি সময় সময় তদারকি করে যাচ্ছি। এ অবস্থায় এক বছর পূর্বে মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সে হিসেবে সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান বাড়েনি। চাইলেই একটি শিক্ষিত ছেলে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে যোগদান করতে পারছে না। পদ সংখ্যার চেয়ে প্রার্থী কয়েক গুণ বেশি থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আমার কাছে মনে হল চাকরি পাওয়ার আশায় সময় নষ্ট না করে স্বনির্ভর হওয়ার রাস্তা খোঁজা অনেক ভাল। আমি চাই আমার মতো এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরি খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট না করে মৎস্য চাষের মতো লাভজনক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ুক। আমি তাদের সব রকম পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এভাবে বেকার যুবকরা নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে যেমনি ভাবে নিজে সাবলম্বী হবে তেমনি অনেক গরিব অসহায় মানুষেরও কর্মসংস্থান হবে।

 

এসসি/আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71