বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
পাবনায় ১০ বছরে নিহত সহস্রাধিক
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ‍অবাধে চলছে নছিমন করিমন
প্রকাশ: ০৮:২৬ pm ২৬-০১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৮:৪৩ pm ২৬-০১-২০১৬
 
 
 


পল্লব হোড় পলাশ: পাবনায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন অবাধে চলাচল করায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার সর্বত্র বিশেষ করে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় নসিমন-করিমনসহ ইঞ্জিনচালিত ট্রলিগুলো চলাচল করে সবচেয়ে বেশি। এগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে নিয়মিতভাবে ঘটে চলছে সড়ক দুর্ঘটনা। অবৈধ এ যানবাহনের কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িতদের মতে, গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

নসিমন-করিমন দুর্ঘটনার জন্য এগুলোর নির্মাণজনিত ত্রুটি ও চালকদের অদক্ষতাই মূলত দায়ী। চালকদের অনেকেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকাতো দূরের কথা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। ফলে এসব আনাড়ি চালকরা নিজেরা যেমন দুর্ঘনায় পড়ছে তেমনি মহাসড়কের অন্যান্য যানবাহনগুলোকেও দুর্ঘটনায় পড়তে বাধ্য করছে।
 
স্থানীয় ওয়ার্কশপে তৈরি বলে নসিমন-করিমনের ব্রেক, স্টিয়ারিং থেকে শুরু করে সবকিছুই দুর্বল। এগুলোর দৈহিক কাঠামোও ত্রুটিযুক্ত। এর ওপর এগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ও মালামাল বহন করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বেড়া ও কাশীনাথপুর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়ক ধরে অবাধে চলছে নসিমন ও করিমনগুলো। দুই বাসস্ট্যান্ডে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি ব্যস্ত রয়েছে সেগুলোর চালকদের কাছ থেকে টাকা তোলায়। বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যারা টাকা তুলছে তাদেরকে মাস্টার বলা হয়। মাস্টাররা প্রতিটি নসিমন-করিমন থেকে পুলিশের কথা বলে মাসিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ছাড়াও প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টাকা করে নিয়ে থাকে। বেড়া বাসস্ট্যান্ডে টাকা তোলার সময় লস্কর ও ঠান্ডু নামের দুই মাস্টার জানান, তারা নসিমন-করিমনগুলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ করে থাকেন। এ জন্য নসিমন প্রতি দৈনিক ১০ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাস্টার জানান, যে টাকা তোলা হয় তার বড় অংশটি পুলিশকে দেওয়া হয়। বাকিটা তারা পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়ে থাকেন।

এদিকে নসিমন-করিমনসহ ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানগুলোর চলাচল বন্ধের দাবিতে পাবনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি, মোটর মালিক গ্রুপ, ট্রাক মালিক গ্রুপ ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন একাধিকবার আন্দোলন ও পরিবহন ধর্মঘট করেছে। আন্দোলনের মুখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেগুলোর চলাচল বন্ধের আশ্বাস দিয়ে কয়েকবার সেগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযানও চালানো হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই সড়ক-মহাসড়কে সেগুলো আবার দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছে।

এব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার মো: আলমগীর কবীর বলেন, ‘নসিমন-করিমনের চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময়ই তৎপর। পুলিশ এগুলোর বিরুদ্ধে কয়েকবার অভিযানে নেমেছে। ভবিষ্যতেও অভিযান চলবে। আর পুলিশের নাম করে টাকা তোলার ব্যাপারটি এই প্রথম শুনলাম। এর সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ) পাবনার সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘নসিমন-করিমন এখন শহরে মূল সড়কে দাপিয়ে  বেড়াচ্ছে। এই যান মহাসড়ক ও শহরে বন্ধ করার জন্য নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। আমরা চাইলেও রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়না।

পাবনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম আহমেদ বলেন, এই সব অবৈধ্য যান এখন মহাসড়ক থেকে শহরে ঢুকছে। এদের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ মাসোয়ারা নিয়ে এ সব যান চলাচল করতে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অবিলম্বে এ সব যানবাহন বন্ধ না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ফিরোজ খান বলেন, ‘পাবনার মতো এত ব্যাপক পরিমাণ নসিমন-করিমন আর কোথাও চলে বলে আমার জানা নেই। গোটা জেলায় যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তার প্রায় সবই অবৈধ এ যানবাহনগুলোর কারণে ঘটছে। প্রশাসন এগুলো বন্ধে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না।’


এইবেলাডটকম/পলাশ/ইআ/এসডি/এমআর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71