বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হাজার বছরের পুরনো শহর মাটির নীচে, সাক্ষী এক প্রাচীন মন্দির
প্রকাশ: ০২:৩৭ pm ০৪-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:৩৭ pm ০৪-০১-২০১৭
 
 
 


প্রতিবেশি ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ উইক-একটি গোটা সপ্তাহ ধরে চলে নানা কার্যকলাপ, যার উদ্দেশ্য, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহ্যমণ্ডিত যাবতীয় বিষয়কে জনসমক্ষে তুলে ধরা, এবং তা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব যে দেশের নাগরিকদের উপরেই, সেই ব্যাপারে সচেতনা গড়ে তোলা।

চলতি মাসের ১৯ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ছিল এই ‘সপ্তাহ’। ভূস্বর্গ, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই চলছে গোলাবর্ষণ, সেখানকারই একটি ছোট্ট জায়গা অবন্তিপোরা। ঐতিহ্যের নিরিখে যার তাৎপর্য অন্যান্য যে কোনও জায়গাকে মাত দিতে পারে।আজ শোনা যাক তার কিছু কথা—সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়।সঞ্জীব কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘আঁধি’ ছবির পাগলকরা গানে ভেসে গিয়েছিল গোটা দেশ।কখনও তাঁরা রোম্যান্টিক সুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পরি-মহলের সবুজ গালিচায়, কখনও বা ডাল লেকের জলে। ছবির অন্য একটি গানের দৃশ্য শ্যুট করা হয় কাশ্মীরেরই আরও একটি জায়গায়, নাম অবন্তিপোরা। 

‘তেরে বিনা জিন্দগি সে...’ গানটির প্রক্ষাপট ছিল অবন্তিপোরার একটি মন্দির।চাঁদনি রাতের সেই সব দৃশ্যে, ঐতিহাসিক সেই মন্দিরটি সে ভাবে বোঝা না গেলেও, চাক্ষুষ করার পরে, সেখান থেকে প্রায় হাত ধরে টেনে বের করে আনতে হয়েছিল বর্তমান প্রতিবেদককে।জম্মু-কাশ্মীরের পুলওমা জেলার এক সময়ের অবন্তিপোরা শহরটির স্রষ্টা ছিলেন রাজা অবন্তীবর্মন।মোটামুটি ৮৫৪ থেকে ৮৮৩ সালের মধ্যে ভূস্বর্গ শাসন করেছেন এই হিন্দু রাজা।তাঁর রাজত্বকালেই তৈরি হয় এই মন্দির।বিশাল এই মন্দির ‘কমপ্লেক্স’-এর মূল মন্দিরটি শিবের।কিন্তু সেখানে ভগবান বিষ্ণুর অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। মন্দিরের দেওয়াল ও স্তম্ভে যে কারুকাজ রয়েছে, তা খানিক খুঁটিয়ে দেখলেই বিষ্ণুপুরাণের নানা ছবি দেখা যায়।মন্দির চত্বরে পৌঁছতে গাড়ি-রাস্তা থেকে বেশ কিছুটা নেমে যেতে হয় সিঁড়ি দিয়ে। উপর থেকেই গোটা চত্বরটি দেখা যায়। সেখানেই থমকে যান অনেকে। কয়েক হাজার বছর আগে এমন বৃহদাকার মন্দির কীভাবে তৈরি করেছিলেন রাজা, তা ভেবেই বোধহয় পা আটকে যায় পর্যটকদের। 

১ নং জাতীয় সড়ক ধরে শ্রীনগর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরত্বেই রয়েছে ঐতিহ্যের অবন্তিপোরা।শ্রীনগর-অনন্তনাগের মাঝামাঝি এই মন্দির বর্তমানে পর্যটকদের ‘ডেরা’ হয়ে উঠেছে। পহেলগাম থেকে ফেরার পথে, চালক পিন্টু ভাইয়ের সাজেশন শুনে ভাগ্যিস গাড়ি ঘুরিয়েছিলাম। না হলে বড় আফশোস থেকে যেত।বেলা প্রায় চারটে তখন।পড়ন্ত বিকেলে, ভিনরাজ্যের এই আগন্তুকের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয়রাও।শহর কলকাতার ভিক্টোরিয়ার বাগানে ইউতি প্রেমিকযুগলকে দেখা যায় ঝোপের আড়ালে।এখানেও ফুটে ওঠে তেমনি ছবি। তবে এখানে ঝোপঝাড় নয়, রয়েছে কারুকাজ করা স্তম্ভ।পরিবার নিয়ে ঘুরতেও এসেছিলেন অনেকে। 

সেদিনের হিন্দু মন্দিরে আর দীপ জ্বলে না।কিন্তু পাশেই তৈরি হয়েছে এক নয়নমনোহর মসজিদ।সন্ধের আজানের আওয়াজে সেখানকার প্রত্ননৈঃশব্দ যেন নতুন প্রাণ পাচ্ছিল।ইউনেস্কোর তালিকায় হয়তো তার নাম নেই, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে অবন্তিপোরা। একটি আস্ত রাজ্য মাটির তলায় চলে গিয়েছিল হয়তো ভূমিকম্পের জন্য। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সৌজন্যে এ যুগের মানুষ পুরো শহরটি দেখতে না পেলেও, মন্দিরটি দেখেই সন্তুষ্ট হন। ভূগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া অবন্তিপোরার উপরে গড়ে উঠেছে বর্তমানের জনবসতি।খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই মন্দিরের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।তবে, এএসআই-এর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরের প্রতি যত্নবান প্রতিবেশীরাও। 

এইবেলাডটকম/এবি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71