শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হাটহাজারীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কামার সম্প্রদায়
প্রকাশ: ১১:৩০ am ২৬-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৩০ am ২৬-০৮-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


হাটহাজারীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামার সম্প্রদায়ের কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁরা পশু জবাই, মাংস বা হাঁড় কাটার বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করছে। উপজেলার হাটহাজারী, ইছাপুর, চারিয়া, মুহুরীহাট, মির্জাপুর, চৌধুরীহাট, কাটিরহাট, নাজিরহাট, নজুমিয়ার হাট, লালিয়ারহাট, মদনহাট ছাড়াও বিভিন্ন বাজারে অন্তত ২০টি কামারশালা রয়েছে। এসব কামারশালায় দৈনন্দিন কাজে ব্যবহূত কাঁচি, কুড়াল, কোদাল, খুন্তি, শিকল ইত্যাদি তৈরি করা হলেও কামারগণ এখন দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি তৈরিতে বেশ ব্যস্ত রয়েছে। আবার বিগত বছরে নড়বড়ে ধার কমে যাওয়া জিনিসপত্র মেরামতও করছে তারা। প্রতিটি কামারশালায় দুই থেকে ৩ জন কামার কাজ করছে। হাড়ভাঙা খাটুনি ও ঝুঁকিপর্ণূ এ কাজ করে তারা শক্ত লোহাকে আগুনে পুড়িয়ে হাতুড়ি পেটা করে দা, বটি, ছুরি তৈরি করছে।

সরেজমিনে হাটহাজারী কাচারী সড়কের বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে রতন কর্মকার, রাজকুমার, হাটহাজারী বাজারের অমর কর্মকার, সতীন্দ্র কর্মকার, কাজল কর্মকার, বালি কর্মকার, অলক কর্মকারসহ অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানায়, অতীতের ন্যায় সারা বছর কাজ না থাকলেও তারা এই কোরবানির সময়টার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাঁরা কামারশালায় তৈরিকৃত লৌহজাত প্রতিটি ছোট, মাঝারি ও বড় ছুরি গুণগত মান অনুযায়ী ৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকা, একইভাবে দা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দামা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বটি ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। আবার শান দিতে আনা বিভিন্ন উপকরণও কাজ অনুযায়ী মজুরি নিচ্ছেন।

খোরশেদ আলম নামে কামারশালায় আগত একজন জানান, আমি একটি দা ও ছুরি ৯০ টাকা দিয়ে মেরামত করতে এসেছি এখানে। জাহেদ ও রিয়াদ নামে দুই ব্যক্তি কোরবানি উপলক্ষে ৪০০ টাকা দিয়ে ৩টি ছুরি তৈরি করিয়ে নিতে এসেছেন।

কামাররা হতাশার সাথে জানান, কোরবানীর ঈদ ছাড়া তারা এ পেশার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবার চালাতে অক্ষম হয়ে পড়ছে। মানুষ এখন কর্মকারদের হাতে তৈরি জিনিস ব্যবহার না করে অত্যাধুনিক লেদ মেশিনের তৈরি দা, বটি, ছুরি ও স্টেইনলেস স্টিলের জিনিসপত্র ব্যবহার করার কারণে তাদের ভাগ্যে দুর্দিন নেমে এসেছে। মানবেতর জীবন-যাপনের কারণে হয়ত অদূর ভবিষ্যতে তাদের এ পেশা ছেড়ে অন্য কোনো কাজ বেছে নিতে হবে।

প্রচ
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71