মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হা-ভাতের ভবিষ্যৎ ও আমাদের অর্ধশূন্য পাকস্থলী 
প্রকাশ: ০২:৪১ pm ০৫-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:৪১ pm ০৫-১২-২০১৭
 
হাসান হামিদ:
 
 
 
 


কবীর সুমনের গান আছে না একটা?
‘কেউ যদি বেশি খাও, খাবার হিসেব নাও
কেননা অনেক লোক ভাল করে খায় না;
খাওয়া না খাওয়ার খেলা, যদি চলে সারাবেলা
হঠাৎ কি ঘটে যায় কিচ্ছু বলা যায় না।’

সে যাই হোক, আমরা বাঙালিরা খাওয়া দাওয়াতে কিন্তু বেশ। নিজেরা সাইজে পিঁপড়ের সমান হলেও আমরা হাতি সাইজ পরোটা গিলি গোগ্রাসে। এ বিষয়ে একটি গল্প বলে নিই। তারপর কিছু সুখবর এবং আশার কথা বলবো। এক দেশে ছিল একটি পিঁপড়া। সেই দেশের সীমান্তে দালালের কাজ করতো পিঁপড়ে। একদিন সেখানকার এক হাতি তাকে বলল:

—আমাকে বর্ডারটা পার করিয়ে দাও না!
—ঠিক আছে, আমার সঙ্গে চলো; বলল পিঁপড়ে।

দুজন হাঁটতে শুরু করল সীমান্তের উদ্দেশ্যে। পিঁপড়ে সামনে আর হাতি তার পেছনে। এমন সময় সীমান্তরক্ষী চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল:
—কে? কে যায় ওখানে?
—আমি পিঁপড়ে; পিঁপড়ে বলল।
—তা তো দেখতেই পাচ্ছি, কিন্তু সঙ্গে ওটা কে?
রীতিমতো রেগে উঠে বলল পিঁপড়ে:
—কে মানে? সঙ্গে করে খাবারও নিতে পারব না নাকি!

এবার আসল কথায় আসি। প্রথমেই সুখবর। ২০১৭ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে (বিশ্ব ক্ষুধাসূচক) দুই ধাপ এগিয়েছে আমাদের বাংলাদেশ। গত বছর ৯০-এ থাকা বাংলাদেশের এবারের অবস্থান ১১৯টি দেশের মধ্যে ৮৮তম। একটি দেশের মানুষ কী পরিমাণ বা কোন মাত্রায় ক্ষুধার্ত থাকে, তার ওপর ভিত্তি করে এই ইনডেক্স তৈরি করা হয়। তবে দুই ধাপ এগোলেও এই সূচকে বাংলাদেশ এখনো নিচের সারিতেই রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত (১০০তম) ও পাকিস্তান (১০৬তম)।. সূচকে দেখা যায়, দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ১৯টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তান, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান-ভারত এবং উত্তর কোরিয়া। সূচকে সবচেয়ে নিচের সারিতে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ যথাক্রমে সাদ, সিয়েরালিওন, মাদাগাস্কার ও জাম্বিয়া। এ ছাড়া আফ্রিকার দক্ষিণ সুদান, লাইজার, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের অবস্থানও তলানিতে। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মূলত, বিশ্ব ক্ষুধা সূচক নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারটি মানদণ্ড বেছে নেওয়া হয়। এগুলো হলো- অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা ও শিশুমৃত্যু হার। এই চারটি বিষয়ের ক্ষেত্রে দেশগুলোর পরিস্থিতি বিচার করে ১০০ পয়েন্টের এই সূচক তৈরি করা হয়।

মোদ্দা কথা হলো, যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশের পরিস্থিতি তত ভালো অর্থাৎ সেখানে ক্ষুধাজনিত পীড়ন কম। এ বছর মোট ১১৯টি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জিএইচআই-এর র্যাং কিং করা হয়। আর তাতে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ এগিয়েছে। তবে অবস্থানের অগ্রগতি হলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘গুরুতর’ ক্ষুধার সমস্যা রয়েছে। আরবাস্তবতা বলছে, এখন আমাদের দেশে খাবার মোটেও সাধারণের নাগালের মধ্যে নেই। ফসল হানি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক মানুষকে পথে বসিয়েছে। তারা পাকস্থলি অর্ধখালি রেখেই দিন কাটায়। তবে আশার কথা হলো, ক্ষুধা ও দারিদ্র্র্য নিরসনের জন্য সব সরকারই কাজ করেছে এবং এখনো করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও দেশে দেশে ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড় কমছে না। এটা স্বীকৃত যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের যোগসূত্র অত্যন্ত নিবিড়। অর্থাৎ দরিদ্র ব্যক্তিরাই ক্ষুধার্ত। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী ক্ষুধার্ত ব্যক্তির সংজ্ঞা হলো যে ব্যক্তি অনাহারে রয়েছে। কারণ খাদ্য ক্রয়ের কোনো সামর্থ্যই তার নেই। সাধারণ ধারণায় ক্ষুধা মানেই আহারের অভাব। অর্থাৎ এ অভাবের জন্যই জনমানুষ ক্ষুধার্ত হয়।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী ক্ষুধার সংজ্ঞায় পুষ্টির অভাব বা অপুষ্টিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সংজ্ঞায় কোনো ব্যক্তি যদি প্রতিদিন এক হাজার ৮০০ ক্যালরির মানসম্পন্ন খাবার না খেতে পারে, তাহলে সে অপুষ্টির শিকার হবে। অপুষ্টির অর্থ পুষ্টির অভাবও হতে পারে। অর্থাৎ নির্ধারিত পরিমাণের ক্যালরির ঘাটতি। এ সংজ্ঞায় খাদ্য গ্রহণের পরও মানুষ ক্ষুধার্ত হয়। উল্লিখিত প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো অপুষ্টি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করা। এ সংস্থা আশা করে, সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। খাদ্য প্রত্যেক মানুষের প্রাথমিক ও প্রধানতম অধিকার। মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পূর্বশর্তই হচ্ছে তার খাদ্যের অধিকার পূরণ করা। সাংবিধানিকভাবে জনগণের খাদ্যেও অধিকার অর্জন এবং পুষ্টিমান উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিদ্ধ।

আমরা দেখছি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। খাদ্য নিরাপত্তা পরিসংখ্যানে উন্নতি হয়েছে আগেরকার তুলনায়। ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স) ২০১৭ অনুযায়ী, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও পুষ্টি দুরীকরণে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু তাতেও আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, যে উন্নত দেশগুলোকে (যেমন আমেরিকা, ইংল্যান্ড ইত্যাদি) এই তালিকায় ধরা হয়নি, এতে আছে শুধু উন্নয়নশীল আর পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলো। তাই এটুকু বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে এই বিশ্ব-ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স, সংক্ষেপে জিএইচআই) বাংলাদেশের অবস্থা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ জায়গায়। দেশের গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়া টিউবলাইটটাকে খুব উজ্জ্বল দেখাচ্ছে এই কারণেই যে তার পিছনটায় অনেকটা জায়গা জুড়ে সূচিভেদ্য অন্ধকার।

সবচেয়ে মুশকিল হলো সংবাদমাধ্যমে গদ্য লেখায় শব্দ খরচ হচ্ছে প্রচুর, কিন্তু ক্ষুধার রাজ্যের অধিপতিদের কানে আওয়াজটা বোধহয় তীক্ষ্ণভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে দেখে নেওয়া যাক সন্তোষজনক পরিস্থিতিতে আছে কোন দেশগুলো। প্রথম চোদ্দটা দেশকে বেশ ভালো জায়গায় রাখা হয়েছে। এরা হল বেলারুশ, বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনা, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, কিউবা, এস্তোনিয়া, কুয়েত, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মন্টেনেগ্রো, স্লোভাক রিপাবলিক, তুর্কি, ইউক্রেন এবং উরুগুয়ে। ক্ষুধার সূচকে এদের মান ৫ এর কম। সবথেকে খারাপ অবস্থায় আফ্রিকার দেশগুলো। ১৯৯২ সাল থেকে যারা খুব ভালো উন্নতি করেছে তাদের মধ্যে আছে কিউবা, কুয়েত, তুর্কি, ব্রাজিল, এবং চীনের মতো দেশ। যেসব সূচকের উপর ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে সেগুলোতে বাংলাদেশের অগ্রগতি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। সূচকগুলো আবার যথেষ্ট পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত (কো রিলেটেড)। আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে অপুষ্টি। তার ফলস্বরূপ উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাতে গত সিকি শতাব্দীতে বাংলাদেশের উন্নতি একেবারেই হয়নি বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়। আর সহজেই বোঝা যায় এ জন্যেই খেলাধুলোয় অনেক পিছিয়ে আমাদের দেশ। ক্রিকেট বা কবাডি সেভাবে বিশ্বজোড়া খেলা নয়, অল্প কয়েকটা দেশ খেলে। হকি ব্যাডমিন্টনেও একেবারে পেছনের সারিতে। একটু বড় প্রেক্ষাপটে ভাবলে ফুটবল, দৌড়, সাঁতার এইরকম বিভিন্ন খেলাধুলোয় কিন্তু আমাদের দেশ একেবারেই পিছিয়ে। তাই শরীর যে আমাদের তৈরি নয় তার প্রমাণ করার জন্যে খুব কষ্ট করতে হয় না। তবে এই মুশকিল শুধু বাংলাদেশের নয়, এটা আসলে সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমস্যা।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশ বেশ উন্নতি করেছে যে বিষয়ে তা হল শিশুদের ওপর শারীরিক অত্যাচারের মাত্রা কমেছে অনেকটা। তার সঙ্গে আর একটা খবর পাওয়া যাচ্ছে যে ২০২০ সালের মধ্যে অপুষ্টি দূরীকরণের বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু আমাদের দেশে পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়নের দূরত্ব সব সময়ই বেশি থাকে। তাইতো সমস্যার বড় বেশি সমাধান দেখা যায় না! তাইতো পরিসংখ্যানের চেয়ে বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহই রয়ে যায়। 

অনেকে অবশ্য ক্ষুধা-দারিদ্র্য বিষয়ে এ ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রশ্ন তোলেন, এই সংখ্যাগুলো দিচ্ছে কে? তারা কি বিশ্বাসযোগ্য? এর উত্তর হল কাজটা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বা সংক্ষেপে আইএফপিআরআই। ওয়েবসাইটে এদের খুঁজে পাওয়া যায় ‘ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ ডট আইএফপিআরআই ডট অরগ’ এই ঠিকানায়। ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এই সংস্থায় বর্তমানে কাজ করেন প্রায় ৬০০ কর্মী, প্রায় ৫০টি দেশজুড়ে। গত বারো বছর ধরে তারা গবেষণা করছেন বিশ্ব-ক্ষুধা সূচক নিয়ে। সাধারণ বুদ্ধিতে এই সংস্থাকে অবিশ্বাস করার বিশেষ কারণ নেই। তাঁরা স্বপ্ন দেখেন ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে আর কোন ক্ষুধার্ত মানুষ থাকবেন না। ভাবতে তো ভালোই লাগে, তবে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা না কমলে এই সম্ভাবনা কিন্তু খুব কম। আইএফপিআরআই এর প্রতিবেদন পাঠ করলে বোঝা যায় যে, বিশ্বের বেশ কিছু দেশে রাজনৈতিক হিংসা বিভিন্ন সময় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আজকের দিনে নাইজেরিয়ার গড় পরিস্থিতি খুব খারাপ নয়, কিন্তু এই দেশের উত্তরপূর্বে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে আছেন। ২০০০ সালের কাছাকাছি সময়ে ভয়ংকর মারামারির ফলে অবস্থা ভীষণ খারাপ ছিল অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া আর রোয়ান্ডায়। আজকের দিনে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে, আর তাই খিদের কষ্ট এসব দেশে সামান্য হলেও কমেছে। বিশ্বজোড়া অসাম্য তো আর প্রকৃতির সৃষ্টি নয়, সে মানুষেরই বানানো। তাই মানুষকেই ফুল ফোটাতে হবে, তবেই তো গরম পাত্রে টগবগ করে ফুটবে চেনা শস্য। দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার ভাতের গন্ধ থেকে সাহারার আশেপাশে দাঁত দিয়ে নরম রুটি ছেঁড়ার শব্দ, সবটাই পুর্ণিমার চাঁদে আলোকিত হোক ২০৩০ এর আগেই। ক্ষুধা পেলে তো ভালোই লাগে, যদি চট করে খাবার জুটে যায়। সেটা হচ্ছে না বলেই তো পরিসংখ্যানে মাপতে হচ্ছে ক্ষুধা বিশ্বজুড়ে ছ্যাঁকা লাগছে ক্ষুধা সূচকের। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। 

সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অসম্ভব দরিদ্র দেশগুলোর সঙ্গে অপুষ্টিতে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হয় দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার। অবাক করার বিষয় হলো সেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থা বিপজ্জনক জায়গায়। দারিদ্র এবং অপুষ্টি যে শিশুমৃত্যুর হার বাড়িয়ে দেয় সেই নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই। সে প্রমাণ আমাদের দেশে ফিরে আসে বারবার। দু-তিন মাস অন্তর অন্তর শুনতে পাওয়া যায় বাংলাদেশের কোনও হাসপাতালে একদিনে মারা গেল বেশ কয়েকটি শিশু। তারপর দোষারোপের পালা চলে কিছুদিন। খবর বাসি হয়ে যায়। তবে যে ব্যাপারটা এখানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা হল আফ্রিকার পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে মরু অঞ্চলে কৃষিজমির নিম্নমান এবং অতি উষ্ণ জলবায়ু সমস্যার একটা মূল কারণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই ব্যাপারটা একদম উলটো। বাংলাদেশ এবং তার আশেপাশের দেশগুলোর বেশিরভাগ জায়গাই সুজলা-সুফলা। তাই এই অঞ্চলে ব্যাপক অপুষ্টির মূল কারণ শস্যের অভাব নয়, রাজনীতির দৈন্য। তবে অন্ধকারের মধ্যেও দু-এক টুকরো আলোর রেখা থাকে। আমরা চাই সেই রেখাটি পরিপূর্ণ হয়ে রোদ নামাবে আমাদের জীবনযাপনে। আর কোনো অন্ধকার থাকবে না। 
শেষ করবো একটি মজার ঘটনা বলে। ঘটনাটি কোনো বই পুস্তকে নেই। কয়েক দিন আগে ‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা পদক ২০১৭’ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ফেরদৌসী মজুমদার তাঁর ভাই নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত গল্প বলেছিলেন। গল্পটি খাদ্য বিষয়ক ছিল এবং এ গল্পই বলে দেয় শ্রদ্ধেয় মুনীর চৌধুরী কতোটা রসিক মানুষ ছিলেন।

একদিন রাতে মুনীর চৌধুরী তাঁর ছোট বোন ফেরদৌসী মজুমদারকে ডাকতে দরোজায় টোকা দিলেন। আর বাসায় ভাই বোনদের সাথে মজা করে সাধু ভাষায় কথা বলতেন। তো তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
-    কী করিতেছিস?
-    ভক্ষণ করিতেছি। বললেন ফেরদৌসী মজুমদার।
-    ভক্ষণ তো রাজা উজিররা করেন, আমরা সাধারণেরা খাই আর তোরা গিলিস!

গবষেক ও সদস্য, জাতীয় গ্রন্থকন্দ্রে, ঢাকা।

এসকে 


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71