রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হিন্দুরা এখন কী করবেন?
প্রকাশ: ১১:৫২ am ২৮-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৫২ am ২৮-১১-২০১৭
 
বিভুরঞ্জন সরকার
 
 
 
 


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের ওপর দিন দুপুরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে ১০ নভেম্বর। টিটু রায় নামের একজন তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন বলে প্রথমে গুজব ছড়ানো হয়। পরে অবশ্য জানা গেছে, টিটু রায় নিরক্ষর। একজন মুসলমানই ওই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। তার পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পরও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। টিটু রায়ের বাড়ি ওই ঠাকুরপাড়া গ্রামে। স্ট্যাটাসের ঘটনাটি নাকি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ঘটেছে। তখন থেকে ধীরে ধীরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে। টিটু রায়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয় ৪ নভেম্বর। হামলার ঘটনা ঘটে ১০ নভেম্বর। তাই এ কথা বলা যাবে না যে ‘উত্তেজিত’ ‘ধর্মপ্রাণ’ জনতা আকস্মিকভাবে হিন্দুরের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তারা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই কাজটি করেছে। ঘটনার দিনও স্থানীয় প্রশাসন কঠোরতা দেখালে পরিস্থিতি এমন পরিণতির দিকে গড়াতো না। আক্রমণ করার পরিকল্পনা নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা সংগঠিত হয়েছে, সমবেত হয়েছে, পুলিশের মাইক নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে, উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ ভেবেছে,  এ আর এমন কী!
তারপর যা হওয়ার তাই হয়েছে। ‘ধর্মপ্রাণ' কয়েক হাজার মানুষ উন্মত্ত হয়ে হামলা চালায় হিন্দু পাড়ায়। প্রথমে টিটু রায়ের বাড়ি, এরপর আশেপাশের ঘরবাড়িতে। এই সম্মিলিত উন্মত্ততা মোকাবিলায় একপর্যায়ে পুলিশ শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হয়। বেশ কয়েকজন আহত হয়। একজন হামলাকারী নিহতও হয়। পুলিশ প্রশাসন যদি আগেভাগে সচেষ্ট ও সতর্ক হতো তাহলে রংপুরের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো বলে অনেকেই মনে করেন। পুলিশ উত্তেজনা ছড়ানোর সুযোগ দিয়েছে, এরপর প্রতিরোধে এগিয়েছে। পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনাটি কারও কারও কাছে গৌণ হয়ে গেছে। মুখ্য হয়েছে মুসলমান মারা যাওয়ার বিষয়টি। কেউ কেউ এমন মন্তব্যও করেছেন যে, হিন্দুদের কয়েকটি বাড়ি পুড়েছে, যেগুলো খুব সহজেই পুনর্নির্মাণ করা যাবে। কিন্তু একজন মুসলমান যে মারা গেলো, তাকে তো আর নতুন করে জীবন দেওয়া যাবে না। কাজেই রংপুরের ঘটনায় হিন্দুদের চেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মুসলমানের! 

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মুসলমান-হিন্দু পাশাপাশি শান্তি-সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করাই এখানকার শত শত বছরের রেওয়াজ, ঐতিহ্য। হিন্দুর বিপদে মুসলমান প্রতিবেশী পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, আবার মুসলমান প্রতিবেশীর বিপদে হিন্দুও ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকে না। তবে এখন পরিস্থিতি তেমন আছে বলে মনে হয় না। এখন কোনও হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বী বিপদে পড়লে মুসলমান আর ঝাঁপিয়ে পড়ে না। অন্তত গত কয়েকটি ঘটনায় তেমনটি দেখা যায়নি। রংপুরে নয়, নাসিরনগরেও নয়। আরও কিছু কিছু জায়গায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় কাউকে রক্ষাকারী হিসেবে এগিয়ে যেতে দেখা যায়নি।

আমার এই বক্তব্যের সঙ্গে হয়তো দ্বিমত পোষণ করবেন কেউ কেউ। করতে পারেন। কিন্তু আমার ধারণা, আমি ভুল বলছি না। হিন্দু-মুসলমান ধর্মীয় পরিচয় আমাদের মধ্যে এখন অনেক প্রবল হয়েই উঠেছে। পাকিস্তানি আমলেও আমি নিজেকে হিন্দু মনে করে অস্বস্তি বোধ করতাম না। এখন আমাকে হিন্দু পরিচয়ের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।  ‘মালাউন' শব্দটি পাকিস্তানি আমলেও শুনেছি কিন্ত অবশ্যই এখনকার মতো এত নগ্নভাবে নয়। হিন্দুদের দেশপ্রেম নিয়ে পাকিস্তান আমলেও কটাক্ষ করা হতো। এখন তার মাত্রা আরও বেড়েছে। দুই নৌকায় পা রাখার খোঁটা হিন্দুদের জন্য বাঁধা। একজন সামর্থ্যবান হিন্দু ভারতে একটি বাড়ি করলে সেটা দোষের। কতজন হিন্দুর এদেশ-ওদেশ দুই দেশেই বাড়ি আছে? আবার মুসলমানরা যখন শয়ে শয়ে বিদেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করে, তখন তার দেশপ্রেম নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না।

একজন মুসলমান যদি এদেশে তার জীবন ও সম্পদ নিরাপদ না ভেবে অন্যদেশে ঠিকানা খুঁজতে পারে, তাহলে একজন হিন্দু কেন সেটা পারবে না? নাকি দেশটা ভারত বলেই সমস্যা, অন্য কোনও দেশ হলে সমস্যা নেই? বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নের প্রসঙ্গ উঠলেই কেউ কেউ বলে ওঠেন, যাই বলুন না কেন বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতের মুসলমানের তুলনায় অনেক ভালো আছে! আমি বুঝতে পারি না কেন এই তুলনা?  ভারতে যদি মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হয় তাহলে তার জন্য বাংলাদেশের হিন্দুরা কি কোনোভাবে দায়ী? বাংলাদেশের হিন্দুরা কি ভারতে গিয়ে মুসলিম নির্যাতন করে? তাহলে ভারতের ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দুরা কেন নির্যাতনের শিকার হবে?  বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা-নির্যাতনের কোনও ঘটনায় কি ভারতে মুসলমানদের ওপর পাল্টা কোনও ব্যবস্থার কথা কখনও শোনা গেছে?

বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। শতকরা আট ভাগে এসে ঠেকেছে। হিন্দুরা বাংলাদেশে খুব ভালো আছে, বলতে আসলে কি বোঝানো হয়? এটা ঠিক, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সরকারি চাকরিতে পদায়ন-পদন্নোতিতে হিন্দুদের ক্ষেত্রে বৈষম্য কিছুটা কমেছে। সচিব, ডিসি, উপাচার্য, এমনকি প্রধান বিচারপতি পদেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের থেকে নিয়োগ দানের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটা কি শতকরা আট ভাগের বেশি হয়েছে? এমনকী হয়েছে যে অযোগ্য কাউকে শুধু হিন্দু বিবেচনায় একটি পদে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে? আগে হিন্দুদের সাধারণত কোনও উচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হতো না। তাদের যোগ্যতা থাকার পরও বঞ্চিত করা হতো। এখন তা কিছুটা দূর হয়েছে। কিছু উচ্চ সরকারি পদে হিন্দুদের দেখা যায়। এতেই যদি কারও চোখ টাটায় তাহলে কী করার আছে? এমন তো নয় যে জনসংখ্যার তুলনায় হিন্দুরা অন্যায্যভাবে বেশি পদ-পদবি পেয়ে বসেছে।

আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটি অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে। পাকিস্তানের মতো ধর্মই যদি রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে এত রক্ত, এত জীবন, এত ত্যাগের বিনিময়ে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র কেন? দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রটি বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার এখন শুধু বেশি নয়, বলা যায় ধর্মই রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চাকারী ঐতিহ্যবাহী দলগুলো এখন আর এই নীতির প্রতি যথেষ্ট আস্থাশীল নয় বলেই মনে হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আপস-সমঝোতার পথে হাঁটছে। আর বামপন্থীরা ধর্মনিরপক্ষতাকে কিতাবের পাতায় ঠাঁই দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে।

কয়েক বছর আগেও হিন্দুদের ওপর কোনও জুলুম হলে অনেককেই তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে দেখা যেত। এখন তা দেখা যাচ্ছে না। কেন? কারণ, এখন আর হিন্দু নির্যাতন কেবল জামায়াত-বিএনপি করে না। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলই এখন গরম তাওয়ায় রুটি সেঁকার কাজটি করছে। রংপুরে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবেই জড়িত ছিল। কারা কারা জড়িত ছিল তার নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কোনও দল এখন পর্যন্ত বলেনি যে, হামলার সঙ্গে জড়িত দলীয় ব্যক্তিটিকে তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাহলে মানে কী দাঁড়াচ্ছে? সবাই ঘটনাগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর প্রশ্রয়ের সুযোগেই একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন পর্যন্ত কোনও ঘটনায় বামপন্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ শোনা যায়নি। তবে তারা বলিষ্ঠভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তারও কোনও প্রমাণ নেই।

আওয়ামী লীগের অবস্থান বড়ই বিস্ময়কর। হিন্দুদের বলা হয় আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। ভোট দেওয়ার অপরাধে হিন্দুদের ওপর দোজখ নেমে আসছে কয়েক বছর ধরেই। অথচ হিন্দুদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনও বলিষ্ঠ দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। কোনও ঘটনা ঘটলেই বলা হয় সরকারকে বিব্রত করার জন্য বিরোধী বিএনপি-জামায়াত এসব করছে। ব্যস, দায়িত্ব শেষ। যদি জানেনই কারা অপকর্মগুলো করছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করার অপরাধে আজ পর্যন্ত একজনেরও কোনও শাস্তি হয়েছে? উল্টো এখন দেখা যাচ্ছে, স্থানে স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও দুর্বৃত্তির সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগে একজনকেও দল থেকে বহিষ্কারের কোনও নজির নেই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের কিছু ক্ষতিপূরণও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই নাকি হিন্দুদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে। এই ধরনের ঢালাও রাজনৈতিক বক্তব্য কি সংখ্যালঘুদের মনে কোনও নিরাপত্তা বোধ জাগায়? বিএনপি-জামায়াত ২০০১-এর নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের ওপর কী ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালিয়েছিল, তার কথা মির্জা ফখরুল ভুললেও ভুক্তভোগীরা নিশ্চয়ই ভোলেনি। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা না দিয়ে বিএনপি নেতা বলতে পারতেন, সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে কিছু সংখ্যক মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ে সংখসালঘুদের ওপর অত্যাচার করছে। এটা আমরা আর বরদাশত করবো না। বিএনপির কোনও কর্মী যদি এসব অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হবে।

না, তিনি তা বলেননি। বলবেনও না। তারা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের দলের দুর্বৃত্তদের আড়াল করতে চান। আবার আওয়ামী লীগও একই কাজ করে। সব অপকর্মের দায় বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপিয়ে নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে চায়। এই পাল্টাপাল্টি রাজনীতি অপরাধীদের একধরনের দায়মুক্তি দিচ্ছে। যারা পরিকল্পিতভাবে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের ওপর নিয়মিত বিরতিতে হামলা চালাচ্ছে, তারা বুঝে নিয়েছে, তাদের কিছু হবে না। কোনও না কোনও রাজনৈতিক প্রশ্রয় তারা পাবেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। অন্যদিকে আক্রমণকারীদের একজন, যিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দিয়েছেন ২০ হাজার টাকা। তাহলে কী দাঁড়ালো ব্যাপারটা? তিনি কি প্রকারান্তরে আক্রমণকারীদের উৎসাহিত করলেন না? তাকে তো ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পুলিশ গুলি করেনি। তিনি অন্যদের ঘর পোড়াতে গিয়ে, অন্যদের মারতে গিয়ে মারা পড়েছেন। তাহলে তার জন্য দরদ দেখালে কী প্রমাণিত হয়?  গৃহস্থ ও ডাকাতকে একই ভাবে বিচার করলে ডাকাতকে কি আস্কারা দেওয়া হয় না?

আমাদের রাজনীতি এখন আমাদের প্রতিনিয়ত প্রতারিত করছে। বিভেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা এখন কোনও ব্যাপারেই আর একমত হওয়ার অবস্থায় নেই। এই বাস্তবতায় সংখ্যালঘু বা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভবিতব্য কি শুধু পড়ে পড়ে মার খাওয়া? আর, এক একটি ধাক্কা খেয়ে নীরবে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া? 

লেখক: কলামিস্ট

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71