সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
হিন্দুরা কেন পিঁছিয়ে যাচ্ছে? কি করলে আবার এগোবে? একটি সহজ সমীকরণ
প্রকাশ: ০২:৫৬ pm ১১-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:২০ pm ১১-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


মৃণাল মজুমদার

হিন্দু ধর্মের মূল সমস্যা সামাজিক দিক থেকে এরা কেন্দ্রীয় ভাবে খ্রিস্টান, ইহুদি বা মুসলিম দের মত মন্দির কেন্দ্রিক  organised নয়। ধর্মে সবার সব যোগ্যতা অর্জনের অধিকার ছিলো না, সিলেবাস অনুযায়ী যোগ্যতা শেখার কোনো ইনস্টিটিউশনও  নেই।   যোগ্যতা অর্জন করলেও যোগ্যতা অনুসারে দায়িত্ব পায় না। হিন্দু সন্যাসীরা, যারা ত্যাগী ও আসলে সমাজ সেবী ও সমাজের সবাইকে নিজস্ব স্বার্থ ছাড়া উপকার করতে পারে, তারা  সমাজ ছেড়ে অনেক দূরে নিজেদের আখড়াতে থাকে। একজন হিন্দুকে নিরপেক্ষ ভাবে বলার কেউ নেই কিভাবে বাল্যকাল থেকে জীবন যাপন করলে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, সুখী হওয়া যায়, বিপদে পড়লে হিন্দুদের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে গেলে বিনা পয়সায় সঠিক পরামর্শ পাওয়া যায়, ২ দিন থাকা যায়। সামাজিক ভাবে প্রত্যেক হিন্দু নিজের কথাই ভাবতে গিয়ে  অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সামাজিক ভাবে যৌথ উদ্যোগে সমাজের মানুষের কোনো উপকারে লাগেনা। একটাই যৌথ উদ্যোগ- ধুম ধাম করে দেবতাদের পূজার নামে তোলা দিয়ে পাপমুক্ত হওয়া! হিন্দু বা সনাতন ধর্ম কি, কেন, তার নানা সংস্কার এর পিছনে কি বিজ্ঞান ভিত্তিক যুক্তি আছে, মাতৃভাষায় সহজ করে কোনো হিন্দু জানার সুযোগ পায়না। হিন্দু ধর্ম কে ব্যবহার করে একদল ধর্মগুরু নিজের পরিবারের আখের গোছায়, সামগ্রিক হিন্দুদের কোনো উপকার হয়না। 

একজন খ্রিস্টান নিকটস্থ চার্চে গিয়ে পাদ্রীকে সব সমস্যার কথা বলতে পারে, পাদ্রী হবার এডুকেশন যেহেতু কেবল ধর্ম শিক্ষা নয়, আইন, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, পরধর্ম, চিকিৎসা, আত্মরক্ষা, মনোবিদ্যা, কথা বলে মানুষ কে অনুপ্রাণিত করার বিদ্যা, ...সব কিছুই একটু একটু শিক্ষা দেয়া হয়, তাই তারা অন্যের সমস্যা বুঝতে পারে, সমাধান এর পথ বলতে পারে, নিজে না পারলে তার উপরস্থ পাদ্রী বা কোনো এক্সপার্ট এর সন্ধান দিতে পারে। আর পাদ্রীরা কারো গোপন কথা অন্যকে বলেনা। তেমনি পাদ্রীদের জীবনধারণের দায়িত্ব খ্রিস্টান সমাজের উপর, তাদের উপযুক্ত বেতন আছে, প্রত্যেক খ্রিস্টান ওয়েস্টার্ন দেশে আয়ের উপর নির্ভর করে ধর্ম ট্যাক্স দিতে বাধ্য, যা কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় ও ভাগ হয়। যেখানে কাজ করে সেই অফিস বেতন থেকে কেটে প্রতিষ্ঠান এর একাউন্ট এ পাঠায়, ক্যাথলিক  বা প্রটেস্টান্ট বা অর্থডক্স খ্রিস্টান সংগঠন  তাদের ধর্ম কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, নানাবিধ ব্যবসা ( শিক্ষা, চিকিৎসা, old age হোম, প্রোডাকশন , হাসপাতাল ) যে যায় করে, তা দিয়ে তাদের সমাজের উপকার করে। হিন্দুরা সব দেবতা বা গুরুর  ভোগে খরচ করে।  হিন্দুরা  শারীরিক, মেন্টালি আনফিট, ভীতু, স্বার্থপর। বাঁচতে গেলে হিন্দু সমাজ এর রিফর্ম দরকার। কেমন হতে পারে সেই রিফর্ম? 

- প্রত্যেক গ্রাম বা ওয়ার্ড নিয়ে এক একটা ইউনিট বানিয়ে, সেখানে ৫০০-১০০০ লোক একত্র হতে পারে, তেমন মন্দির বানানো। সব হিন্দু সেই মন্দির-ক্লাব এর স্বয়ংক্রিয় ভাবে মেম্বার।
- একই মন্দিরে সব ধরনের পূজা হবে, সার্বজনীন আর কোনো পূজা হবে না।
-আয় অনুযায়ী যেভাবে নানা পূজায় চাঁদা দেয়, সেই টাকা মন্দিরের একাউন্ট এ মাসিক বা বাৎসরিক ভাবে ট্রান্সফার করবে। মিনিমাম কত, সেটা সেই অঞ্চলের লোকেরা নির্ধারণ করবে।
-মন্দিরকে কেন্দ্র করে আয় বাড়ানো, সামাজিক কাজ বাড়ানো।
- আয় বাড়ানোর জন্য মন্দিরের ভিতরে বিয়ে, জন্মদিন, শ্রাদ্ধ, বিবাহ বার্ষিকী .... তেমনি নানা বিধ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা, বাজার এর চেয়ে কম টাকায় সেই সার্ভিস বিক্রি করা, গরিব দের জন্য সাবসিডি দেয়া। 

- মন্দির সব বয়সের মানুষ দের জন্য নানা সুযোগ এর ব্যবস্থা রাখবে, কম পয়সায় বা ফ্রিতে, তেমনি ফিটনেস, আত্মরক্ষা,  জিম ,সাঁতার, টিউশন, নাচ গান, যোগ, ড্রাইভিং শেখা, ধর্ম বিষয়ে সেমিনার,  কম্পিউটার শেখা  ইত্যাদি কাজ করবে।
-একবার ফ্রিতে মন্দিরের ভোগে স্থানীয় গরিবদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবে, যদি চাহিদা থাকে 
- মন্দির থেকে আয়ের একটা অংশ সেন্ট্রাল কমিটিতে যাবে, যা দিয়ে তারা নানা রকম ব্যবসা করবে, যেভাবে খৃস্টানরা করে ।
- সেন্ট্রাল কমিটি হিন্দু পুরোহিত হবার  অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার এর সাথে মিলে বা নিজের উদ্যোগে করবে, সেখানে ভর্তি হতে গেলে কমপক্ষে ১০ ক্লাস পাশ করতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রী নেয়া হবে, প্রত্যেকে কাজ পাবে, যারা সেখান থেকে পাশ করবে। যোগ্যতা অর্জন করে একমাত্র তারাই কোনো মন্দিরের দায়িত্ব নিতে পারবে, পূজারী হবে বা কোনো হিন্দু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এর সাথে যুক্ত হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা স্টাইলে হিন্দু সরকারি প্রতিষ্ঠান দরকার হবে। 
-মন্দির প্রধান কোনো নির্লোভ অবিবাহিত সন্যাসী হওয়া ভালো। তবে যতদিন না মেলে, ততদিন অন্য কেহ দায়িত্ব পালন করবে।
- সমাজে কোনো রকম যৌতুক থাকবেনা।  বাবা মায়ের সম্পত্তি ও দায়িত্ব কিভাবে ভাগ হবে, তা নিয়ে বিতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সমাজ । সব কিছু রাজনীতি মুক্ত পরিবেশে হবে।
- সব হিন্দু গুরুকে এই ইনস্টিটিউশন এর আওতায় আসতে হবে। 

-------- এরপর আপনার মতামত জানতে চাই--

 

মৃণাল মজুমদার, জার্মানী থেকে

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71