রবিবার, ১৯ মে ২০১৯
রবিবার, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
হিন্দুর রক্তে রাঙানো দশ ই ফেব্রুয়ারি-বরিশাল গণহত্যা
প্রকাশ: ০৫:২৬ pm ১১-০২-২০১৯ হালনাগাদ: ০৫:২৬ pm ১১-০২-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


হিন্দুর খুনে রক্তে রাঙ্গানো ১০ই ফেব্রুয়ারি..।
হিন্দু হয়েও সেই কালো দিন কি কখনো ভুলতে পারি?

না, আমরা জানি না এসব। জানিনা মানে জানতে দেওয়া হয়নি। কাল্পনিক এক সম্প্রীতির গান শুনিয়ে শুনিয়ে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। আমরা জানি না ছেচল্লিশের ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালী কী, পঞ্চাশের বরিশাল কী, বাষট্টির ভৈরব বা চৌষট্টির খুলনা কী আর একাত্তরেরই বা ঠিক কী হয়েছিলো! ইতিহাস তো আর ভালো মন্দ দিয়ে হয় না, যে বিকৃত এবং বিক্রিত ইতিহাসে ধাপে ধাপে চলা ইসলামিক নৃশংসতা গুলিকে আমাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা হয়েছে, সেই ইতিহাস কতটুকু সত্য হতে পারে?

১৯৪৬’র ১০ই অক্টোবরে নোয়াখালির হিন্দু নরমেধ যজ্ঞের পর…… ১৯৫০ সনে আজকের দিনেই ঢাকা – বরিশালের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিন্দুর উপর নেমে এল বিভৎস জাহাদি তান্ডব।

ফলাফল?
১৯৫০ সালের এই হিন্দু গণহত্যার ঘটনা নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লো। কারণ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটি মহল দাঙ্গা ছড়িয়ে দিতে খবর রটিয়েছিল যে, কোলকাতায় এ কে ফজলুল হককে হিন্দুরা মেরে ফেলেছে। পাশাপাশি এও রটে যে এক মুসলমান মহিলার উপর অত্যাচার করা হয়েছে। এই মিথ্যে গুজবের ফলে তীব্রভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় আক্রান্ত হয় হিন্দুরা। এটা ছিল পাকিস্তান সরকারের একটা পরিকল্পনা। সে সময় ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ৯ দিনে মেরে ফেলা হয় দশ হাজার হিন্দুকে। এ দাঙ্গা চলেছিল ১০শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বরিশালের মাধবপাশার জমিদার বাড়ির ২০০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়। এ এলাকার তীব্র আক্রান্ত গ্রাম হলো লাকুটিয়া এবং কাশিপুর। তবে সে সময়ে মুলাদীর নদী লাল হয়ে গিয়েছিল অসহায় হিন্দুর রক্তে। এলাকায় মেরে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল ২৫০০ হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষকে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বাড়িঘর। লুটপাট করা হয়েছিল সহায়-সম্পদ। ধর্ষণের শিকার হয়েছিল অসংখ্য নারী। দখল করা হয়েছিল প্রত্যেকের জমিজমা যারা সবাই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের।

পরপর কয়েক সপ্তাহের এই হিন্দু নিধন যজ্ঞে বাংলাদেশের এক বিপুল জনসংখ্যার হিন্দু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। হিন্দু মহল্লা গুলি ছারখার হয়ে শ্মশানে পরিনত হল। সেই নৃশংস গণহত্যার বলি হয়েছিলেন প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি হিন্দু নারী পুরুষ ও শিশু। এক লহমায় দেশত্যাগ করে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রায় ৩৫ লক্ষ হিন্দু! ঘটনার অভিঘাতে দেশভাগের সবচেয়ে ট্র্যাজিক চরিত্র তথা ভারত ভাগের একমাত্র হিন্দু সমর্থক, সিডিউল্ড কাস্ট ফেডারেশানের সেক্রেটারি তৎকালীন পাকিস্থান মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী শ্রী যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল একবস্ত্রে উদ্বাস্তু হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে আসেন। এই বাংলা থেকেই তিনি তৎকালীন পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে তার পদত্যাগ পত্র পাঠান… যে পত্রে তিনি সবিস্তারে সে ভয়াবহ অত্যাচারের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে পরিশেষে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশে আর হিন্দুর অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71