শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
হিন্দু ধর্ম বিশ্বধর্ম, মায়ের মতো আশ্রয় দেয় সবাইকে : মমতা
প্রকাশ: ০৬:৪১ pm ০২-০২-২০১৬ হালনাগাদ: ১০:০৭ pm ০৫-০২-২০১৬
 
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিন্দু ধর্ম সর্বজনীন ধর্ম এবং বিশ্বধর্ম। এই সত্য কথাটাই উচ্চারণ করলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত শনিবার বিকেলে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রণবানন্দজি মহারাজ প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ভারত সেবাশ্রম সংঘের শতবর্ষের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হিন্দু ধর্ম সর্বজনীন ধর্ম। বিশ্বধর্ম। এই ধর্ম সবাইকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে। মা যেমন বিশ্বজনীন। হিন্দু ধর্মও তাই।”

তবে ধর্মের সাথে সাম্প্রদায়িকতার যে কোনও রকম সম্পর্ক নেই, এদিন সেটাও পরিস্কার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “হিন্দু ধর্ম বিশ্বজনীন।কিন্তু সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত।নিজের ধর্মের প্রতি সকলের নিশ্চই বিশেষ শ্রদ্ধা থাকবে, কিন্তু তা বলে অন্য ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধা থাকবে, তা হতে পারে না। নিজের ধর্মকে ভালো বলে অন্য ধর্মকে গালাগাল করলে তা সহিষ্ণুতা নয়।” খবর যুগশঙ্খের।

তিনি আরও বলেন, “ধর্ম রসগোল্লা নয়। ধর্ম মানে চিন্তা, আদর্শ ও বিশ্বাস। জামাকাপড় পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু আদর্শ পরিবর্তন করা যায় না।” মানবসেবার কাজে ভারত সেবাশ্রম সংঘের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসকে দৃষ্টান্ত করে তিনি বলেন, “সহিষ্ণুতার আর এক নাম সর্বজনীন ধর্ম।” আর এই সহিষ্ণুতার উদাহরণ দিতে গিয়ে অবধারিতভাবে স্বামী বিবেকানন্দের কথা বলে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।

হিন্দু ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিকতার দিক থেকে জগৎসভায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য ধর্ম প্রসঙ্গেও স্বামীজির শ্রদ্ধাবোধের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বামীজির মানব প্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “স্বামীজি যেখান থেকে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকে শুরু করেছিলেন প্রণবানন্দজি। তিনি মানুষকে ভালোবাসার কথা বলেছিলেন।”

মানব সেবায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মানুষের সেবা করার মাধ্যমে যারা ঈশ্বর সাধনা করে, যারা মানুষকে ভলোবাসার কথা বলে, তাদের নাম ভারত সেবাশ্রম। প্রণবানন্দজি মহারাজ শিবজ্ঞানে জীবসেবার কথা বলেছিলেন।”

সেবামূলক কাজে অনেক সময়েই সরকারের থেকেও অনেক দ্রুততার সঙ্গে ভারত সেবাশ্রম সংঘ যে এগিয়ে আছে, সে কথা স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে সরকারের থেকেও এরা এগিয়ে।”

কীভাবে সরকারের থেকেও এই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মূখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গঙ্গাসাগরকে নির্মল গ্রাম করার অনেক আগেই ভারত সেবাশ্রম এই কাজটি শুরু করেছে।” ভারত সেবাশ্রম সংঘের কাজের কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রামকৃষ্ণ মিশন শিক্ষায় এক নম্বরে। কিন্তু ভারত সেভাশ্রম সংঘ বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগে সবার আগে এগিয়ে যায়।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রসংশা করেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিশ্মাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবলমাত্র গায়ত্রী দেবীর কন্যা নন, উনি ভারতমাতার কন্যা। মহিয়সী নারী।ওঁর বাস্তবধর্মী বিবেচনা শুধু বাংলাকে নয়, ভারতবর্ষ
কে মুগ্ধ করে।”

এদিন বাংলাদেশের নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, “প্রণবানন্দজি বাংলাদেশের মানুষ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সেবাশ্রম সংঘের অপরিসীম অবদান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য যেমন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে স্মরণ করছি, তেমনই প্রণবানন্দজি মহারাজকে গভীরভাবে স্মরণ করছি।” মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সেবাশ্রম সংঘ কয়েক লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে তাঁদের সেবা করেছিল বলেও শাহজাহান খান স্বীকার করেন। শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় নয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজিতপুরে নদী ভাঙনের ফলে আশ্রয়হীন মানুষদের সেবার কাজে কীভাবে ভারত সেবাশ্রম সংঘ এগিয়ে এসেছে, সে কথাও স্বীকার করেন শাহজাহান খান। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত-ই-ইসলামীর সহযোগিতায় যেভাবে পাকিস্তান বাংলাদেশে একের পর এক গণহত্যা সংগঠিত করেছিল, সেই দুর্দিনে দুর্গত মানুষদের আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র দিয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘ সাহায্য করেছিল বলে জানান বাংলাদেশের এই মন্ত্রী।

এদিনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, প্রাক্তন বিচারপতি শ্যামল সেন, প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।


এইবেলাডটকম/আরটি/এমআর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71