শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
শনিবার, ১লা পৌষ ১৪২৫
 
 
হিন্দু নারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, ৪ হিন্দু পরিবার এলাকা ছাড়া
প্রকাশ: ১০:৩৩ am ৩০-১০-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:৩৩ am ৩০-১০-২০১৮
 
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
 
 
 
 


সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চুপড়িয়া পশ্চিমপাড়ার চারটি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গত শনিবার বিকেল ৫টায় চুপড়িয়া ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মজনু মালীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মেদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল হাশেম, দৈনিক মানবজমিনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ইয়ারব হোসেন, দীপ্ত টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য রঘুনাথ খাঁ, আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড পুলিশিং কমিটির সভাপতি আরিজুল ইসলাম, নির্যাতিত পরিবারের সদস্য সুমন দাস প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমামের নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই চিন্তা চেতনা নিয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্ভ্রম রক্ষায় বদ্ধপরিকর। অথচ একটি বিশেষ মহল তার সেই চিন্তা চেতনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পশ্চিম চুপড়িয়ায় এক হিন্দু নারীকে বর্বোরচিতভাবে নির্যাতন করেছে।

আবার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল ঘটনাটি নাটক বলে প্রচার করছে। তাদের ঘরে পলিথেনে মোড়া চিরকুটে হুশিয়ারি দিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে। এতে ওই চারটি পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চাইছে। শুক্রবার তারা তাদের সকল আসবাবপত্রসহ চলে যাওয়ার সময় একটি প্রতিবেশিও তাদের কাছে জানতে চাইল না যে কেন তারা চলে যাবে।

সুস্থ ও সামাজিক পরিবেশে এ ধরণের ঘটনা অপ্রতাশিত। এ খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় শুধুমাত্র চুপড়িয়ার নয় সারা দেশের সম্মান নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়রা এলাকার হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ না নিলে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর হবে।

প্রসঙ্গত, ১৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চুপড়িয়া পশ্চিমপাড়ায় এক হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীকে বাড়ির কাছে মাঠে একাকী পেয়ে গ্রামের জামায়াত কর্মী দেলোয়ার হোসেনসহ তিনজন পরনের কাপড় ছিঁড়ে তার দু’ পা মেহগনির গাছের সঙ্গে ও দু’ হাত পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে ধর্ষনের চেষ্টা করে।

এসময় তার সামাজিক সম্মান নষ্ট করার জন্য মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা হাত পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ নিয়ে থানায় মামলার পর দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হলে স্বার্থান্বেষী মহলটি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে। অন্যথায় তাদের দেখে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেয় তারা।

একপর্যায়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান, চুপড়িয়া মহিলা সংস্থার সভানেত্রী মরিয়ম মান্নান, ইউপি সদস্য এরশাদ আলী, আবু বক্কর সরদারসহ একটি মহল সংখ্যালঘু নারীর উপর নির্যাতনের ঘটনা ঠিক নয় ও দেলোয়ারকে সংখ্যালঘুরাই হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার দিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। এতে মনোবল ভেঙে যায় ওই চারটি হিন্দু পরিবারের।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নির্যাতিতার ঘরের বারান্দায় বাঁশের চটার রেলিং এর ফাঁক দিয়ে একটি চিরকুট লিখে ইটের সঙ্গে পলিথিনে ভরে ছুঁড়ে দেওয়া হয়। অপক্ক হাতের লেখায় ওই চিরকুটে বলা হয় ‘ তোদের সব শেষ করে দেব’। খবর পেয়ে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরদিন শুক্রবার সকালে তারা পরিবারের সকল জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার উদ্যোহ নিলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরস্তাদের বাড়িতে এসে শান্তনা দিয়ে তাদের নিরাপত্তারক্ষায় শনিবার বিকেলে সকল শ্রেণীর মানুষকে নিয়ে চুপড়িয়া ছিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠে মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন।

যদিও রাতে একইভাবে একটি চিরকুট লিখে পলিথিনের মধ্যে ইটের সঙ্গে রেখে অশোক দাসের বারান্দার পাশে ফেলে রাখা হয়। তাতে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে সকলে মিলে একইসাথে বসবাস করার কথা বলা হয়।

নি এম/প্রার্থ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71