সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
সোমবার, ৪ঠা পৌষ ১৪২৪
 
 
হিন্দু বোনের জন্য চিতা সাজালেন মুসলিম ‘ধর্মভাই’
প্রকাশ: ০৬:২০ am ০২-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:২০ am ০২-০৫-২০১৭
 
 
 


প্রতিবেশী ডেস্ক: বিভাজনের নানা ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে যেন ধর্মের বোধ ও সংজ্ঞাটিকেই গুলিয়ে দিচ্ছে৷

তবে এরই মধ্যে কিছু কিছু ব্যতিক্রমী ছবি যেন সমস্ত হতাশার মধ্যেও আশার আলো জাগিয়ে তোলে৷ সেরকমই এক ছবি সামনে আনলেন শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু পালিত৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেছেন কৃষ্ণেন্দু৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে শ্মশানে চিতার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক প্রৌঢ় মুসলমান ভদ্রলোক৷ কেন তিনি শ্মশানে? কৃষ্ণেন্দুবাবু জানাচ্ছেন, তাঁর বন্ধুর ঠাকুমার প্রয়াণের জন্যই তিনি শ্মশানে গিয়েছিলেন৷ সেখানেই দেখেন এই ভদ্রলোককে৷

হয়তো একটু চমকে গিয়েছিলেন৷ প্রশ্ন করে জানতে পারেন, এঁকে ভাইয়ের চোখেই দেখতেন বন্ধুর ঠাকুমা৷ যাকে ধর্মভাই বলা হয়৷ বন্ধুর ঠাকুমার কাছে ইনি ছিলেন তাই-ই৷ হিন্দু বোনের অসুস্থতার খবর পেয়েই পৌঁছে গিয়েছিলেন বাড়িতে৷ মাথার কাছে বসে নমাজ পড়েছেন, দোয়া করেছেন৷ কীর্তন আর নমাজ চলেছে একসঙ্গে৷

যদিও শেষরক্ষা হয়নি৷ পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন বোন৷ আর তাঁর অন্তিমশয্যা রচনা করতে শ্মশানে পৌঁছেছেন এই বৃদ্ধ ধর্মভাই৷

নিজের হাতে চিতা সাজিয়ে তুলছেন৷ কৃষ্ণেন্দুবাবুর প্রত্যাশা, সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের ধর্মভাই হয়ে উঠুক৷ সময়ের প্রত্যাশাও বোধহয় তাই-ই৷

print-scrn

বিভাজনের ভেদরেখা যতই মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক, আর যে কারণেই মাথাচাড়া দিক, সম্প্রীতির এই ধরনের ছবিও কিন্তু কম নয়৷ এই কদিন আগেই মালদহে এক হিন্দু হতদরিদ্র পরিবারের যুবকের সকারে এগিয়ে এসেছিলেন মুসলিম গ্রামবাসীরা৷ এক গ্রামবাসী জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষ ধর্ম নিয়ে এত মাতামাতি করে না৷

যদি দুটো মন্ত্র পড়াই হয়, তাতে কি ধর্ম খোয়া যাবে? ওই যুবককে তাঁরা ভাইয়ের মতোই দেখতেন৷ আর সেই ভাই শেষের দিনে সঙ্গ না দিলে যে আল্লাও তাঁদের ক্ষমা করত না বলেই মনে করেছিলেন গ্রামবাসীরা৷ অর্থাৎ কোনও ধর্ম তথাকথিত কচকচানি নয়, মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধর্মকেই মর্যাদা দিয়েছিলেন তাঁরা৷

ঠিক যেমন হিন্দু মন্দিরের জন্য আনায়াসে পৈতৃক জমি দান করেছিল এক মুসলিম পরিবার৷ এ ছবিগুলির পাশেই উজ্জ্বল হয়ে থাকলেন এই বৃদ্ধও৷

সত্যিই যদি সকলেই এভাবে সবার ধর্মভাই হয়ে উঠতে পারেন, তবে পৃথিবীটা যে অন্যরকম হয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ আর অনেক হতাশার মধ্যেও, অনেক তথাকথিক বিভাজনের কাহিনির মধ্যেও তাই ভরসা জোগায় এই সত্যিগুলিই৷

 

এইবেলাডটকম/পিসি 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
Loading...
 
 
 
Loading...
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক: সুকৃতি কুমার মন্ডল

Editor: ‍Sukriti Kumar Mondal

সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন # sukritieibela@gmail.com

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

   বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ:

 E-mail: sukritieibela@gmail.com

  মোবাইল: +8801711 98 15 52 

            +8801517-29 00 01

 

 

Copyright © 2017 Eibela.Com
Developed by: coder71