বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
হিন্দু সংগঠনগুলোর নিস্ক্রিয়তা, হিন্দু নির্যাতনে বাংলার তালেবানদের আস্ফালন!
প্রকাশ: ১১:০৭ am ১১-১০-২০১৮ হালনাগাদ: ১২:১৭ pm ১২-১০-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


রাজু দাশ

এটা হল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অধ্যক্ষের তালেবানি বার্তা। যিনি একজন মানুষগড়ার কারিগর! একজন মানুষগড়া করিগরের আচরণ যদি অমানুষের মত হয় তাহলে দেশমাতার সন্তানদেরকে প্রকৃত মানুষ বানাবে কারা? এইসমস্ত মানুষদের হাতে যদি দেশ গড়ার গুরু দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে খুব শীঘ্রই বাংলা আফগানে পরিনত হবে।

প্রসঙ্গে, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিরল মহিলা কলেজে গত শুক্রবার (২৮ সেপ্টম্বর) অনার্স নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করে কলেজ কর্তপক্ষ। সেখানে ভোজে অংশ নেন প্রায় শতাধিক মানুষ। এ উপলক্ষে কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জ’র নির্দেশে ভোজের আয়োজন করা হয়। খাওয়ার মেনুতে খাসির মাংস থাকলেও খাবারে রয়েছে গরুর মাংস।

খাওয়ার আয়োজনের সময় কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু স্কাউটদেরকে বলেন, “তোমরা সবাইকে গরুর মাংস দিবে। কেউ হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক সবাই যেন মাংস পায়”।

অধ্যক্ষের এই কথা শুনে স্কাউটের সদস্যরা একাধারে সবাইকে খাসির মাংস বাদ দিয়ে গরুর মাংস দিতে থাকেন। অর্ধেক খাওয়ার পরে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ৪৫ থেকে ৫০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। এবং অধ্যক্ষের এহেন অমানবিক কাজের জন্য দৃষ্টন্ত মুলক শাস্তির দাবি করলে অধ্যক্ষ সুফিয়া উপরোক্ত তালেবানি বার্তাটি মিডিয়াতে দিলেন।

'বাংলাদেশ হল অসাম্প্রদায়িক নামক বিশাল একটা শস্য ক্ষেত যার থেকে সুফিয়াদের মত লক্ষ লক্ষ ভূত বের হয়। যে ভূতগুলো প্রতি মূহুর্তে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কাজ করে। এই প্রেতাত্মারা এত সাম্প্রদায়িক যে, তাদের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাশ তার পেইজবুক পেইজে দূর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানাতে পারে না! দূর্গা পূজা আসলে এই প্রেতাত্মাদের মন্দির আর প্রতিমা ভাঙ্গার মহড়া শুরু হয়ে যাই! হিন্দু মেয়েরা নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে না! প্রতিবছর বাংলাদেশ রামু, নন্দিরহাট, ব্রাম্মনবাড়িয়ার নাসিমনগর, রংপুর, পাবনার সাথিয়া, সিলেটের গোপালগঞ্জের মত ঘটনা সারা বিশ্বকে উপহার দেয়। 
মাইনরিটি ওয়াচ এর মতে ২০০১ সাল থেকে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে এক হাজার তিনশোর বেশি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই সাম্প্রদায়িক ভূতগুলির জন্যই বাংলাদেশ থেকে দিন দিন হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তারপরেও বুদ্ধিজীবীদের ভাষায় বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ! এই দেশের রাষ্ট্র ও তার সরকার ব্যবস্থা এই নির্যাতনের দায় এড়িয়ে বলে "বাংলাদেশে হিন্দুরা সুখে আছে শান্তিতে আছে"!'

'মরার উপর এই তালেবানিরা বার বার খাঁড়া হয়ে থাকবেই। এটা ঐতিহাসিক কাল থেকে হয়ে আসছে। তাদের লক্ষ হল হিন্দুদেরকে দেশ ত্যাগ করানো আর তাদের জায়গা সম্পত্তি দখল করা। এখন কথা হল হিন্দুরা মরার মতো থাকে কেন? জাগার শক্তি কি তাদের নেই? কেনো তারা বারবার মার খাবে আর নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করবে। এই দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলের দেশ। দেশ ত্যাগতো কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না? এটা কাপুরুষের ভাষা। প্রতিবাদের ভাষা হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে পেশি শক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়ানো। পশু বলির সময় দেখা যায় কোন হিন্দু কার থেকে কত বেশি হিংস্র হতে পারে তার প্রতিযোগিতা। কিন্তু তালেবানেরা যখন হিন্দুদের উপর খাঁড়া হয় তখন সে হিন্দুরা পশুর ছেয়েও নিরীহ হয়ে যাই। হিন্দুরা যত রাগ আর হিংস্রতা শুধু নিরীহ পশুর উপর দেখাতে পারে, হিন্দু নির্যাতনকারীর উপর নই। এই কাপুরুষতার গ্লানি থেকে হিন্দুদের বের হয়ে আসতে হবে।'

'বাংলাদেশে আনুমানিক প্রায় শতাধিক হিন্দু সংগঠন আছে। এই সংগঠন গুলোর কাজ কি? এই শতাধিক হিন্দু সংগঠন কি অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জুর বিরুদ্ধে একটি একটি করে একশত মামলা দিতে পারে না? পারে, কিন্তু কোনো সংগঠন তা করবে না। কারন হিন্দু হিন্দুর মধ্যেই কোনো ঐক্য নাই, সেখানে সংগঠনতো দূরের কথা! হিন্দুদের এই দূর্বল পয়েন্ট গুলো অধ্যক্ষ সুফিয়ারা যুগ যুগ ধরে ধরতে পেরেছে বলেই তারা বারবার প্রতি মুহুর্তে হিন্দুদের নির্যাতন ও নিপীড়ন করার সাহস পাই। হিন্দু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে যদি হিন্দু সংগঠনগুলো কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় না যায় তাহলে তো আমি মনে করি বাংলাদেশে হিন্দু সংগঠনের কোনো প্রয়োজন নেই। তাদেরকে হিন্দুদের মাথা হয়ে থাকার কোনো যুক্তি দেখছি না। বাংলাদেশে যতগুলো হিন্দু সংগঠন আছে সব সংগঠন যদি প্রতিটি হিন্দু ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে একটি একটি করে শতাধিক মামলা ঠুকে দেয় তাহলে দেখা যাবে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন অনেক কমে গেছে। যিনি এই একশটি মামলা খেয়েছেন সে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তার মৌলবাদী মেরুদন্ড একেবারে ভেঙ্গে যাবে। তাকে দেখে আর দশটা মৌলবাদী হিন্দু নির্যাতন করতে আসলে অন্তত দশবার চিন্তা করবে।'


'প্রায় হিন্দু সংগঠনকে দেখি নিজের চেহারা আর আমিত্ব প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কেউ রথ যাত্রায় ট্রি সার্ট মহড়া দিয়ে নিজের সংগঠন আর নিজের আমিত্ব প্রচার করে, কেউ দূর্গা পূজা আসলে ব্যানারে আমি অমুক সংগঠনের সভাপতি, আমি তমুক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলে নিজের ছবি দিয়ে চেহারা প্রচার করে, আবার কিছু সংগঠনকে দেখি বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের দালালি করে! হিন্দু সংগঠন গুলোর এসব আমিত্ব প্রচার আর রাজনীতিবিদদের দালালি হিন্দুদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে পথে বারংবার বাধা সৃষ্টি করে। তাই সকল সংগঠনকে নিজেদের আমিত্ব প্রচার আর দালালি বন্ধ করে সামগ্রিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। হোক আইনের মধ্য দিয়ে আর না হয় জনবলের মধ্য দিয়ে। যদি তা করতে না পারি, তাহলে অতিশীঘ্রই ৭.৫০% হিন্দু ০% এ এসে ঠেকবে!!!'

রাজু দাশ
অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট।
নি এম/

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71