শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
হুমকিতে ঝিনাইদহের জলজ প্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য
প্রকাশ: ১২:৪৪ am ২০-০৪-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:৪৪ am ২০-০৪-২০১৫
 
 
 


ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পৌর এলাকাসহ তিনটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক পুকুর, খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ খরা এবং সাম্প্রতিক কয়েক দফা ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ভূ-উপরিভাগের মানবসৃষ্ট বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা পানির সঙ্গে মিশে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে গৃহস্থালি, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্যে বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন উপজেলার অর্ধশত গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বিকল্প হিসেবে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করলেও তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এদিকে পানিদূষণের ফলে এলাকার জলজপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মারা যাচ্ছে নদী-পুকুর ও জলাশয়ের মাছসহ বনজঙ্গলের পশুপাখি। ফলে অর্থ সংকটে পড়েছেন মত্স্যচাষীরা।
জানা গেছে, ৬ এপ্রিল গভীর রাতে উপজেলার ৬ নং সারুটিয়া, ৫ নং কাঁচেরকোল, ৭ নং হাকিমপুর ও পৌরসভাসহ অন্তত ৫০টি গ্রামের ওপর দিয়ে প্রলয়ঙ্কয়ী কালবৈশাখী বয়ে যায়। এতে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়। ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঝড়ে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সূত্র আরো জানায়, ঝড় ও দীর্ঘ খরার কবলে পড়ে পানিদূষণে পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মারা যাচ্ছে। খাল-বিল, নদী-নালার পানি পচে দুর্গন্ধ এবং কালো হয়ে গেছে, যা ব্ল্যাকডেড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও মত্স্য কর্মকর্তারা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন মত্স্যচাষী ও খামারিরা।
মত্স্যচাষীরা জানান, ঝড় আর শিলাবৃষ্টির কারণে মত্স্য খামারিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ পুকুর, দীঘি আর চাষযোগ্য বিল-ঝিলের পানি এখন ব্ল্যাকডেড। বাধ্য হয়ে পোনা মাছ তাড়াহুড়া করে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের জেলে অসিত কুমার জানান, তার ছয় একর খামারের পানি নষ্ট হয়েছে, ফলে অল্প বয়সেই বিক্রি করতে হচ্ছে শত মণ মাছ। এতে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কবলে ক্ষতিগ্রস্ত মত্স্যজীবী পরিবারগুলো বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় ঋণের জালে জড়িয়ে যাবে। সংকট উত্তরণে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
কীর্ত্তিনগর গ্রামের মাছচাষী হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি তিন একর জলাশয়ে তার মাছ চাষ করেছেন। ঝড়ের ফলে ময়লা-আবর্জনা জলাশয়ের পানিতে মিশে পচে কালো হয়ে যাচ্ছে। পটাশ ও চুন দেয়ার পর মাছ মরা কিছুটা কমলেও পানির রঙ আগের মতোই রয়েছে।
মৌকুড়ী গ্রামের আব্দুস সোবহান বলেন, পানিতে ঝড়ের আবর্জনা পড়ে পুকুরের পানি কালো হয়ে গেছে। এতে মাছসহ জলজপ্রাণী মারা যাচ্ছে। এ অবস্থা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সরদার আবুল বাসার খাইরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ খরার পর ৬ এপ্রিলের কালবৈশাখীতে ভূ-উপরিভাগের ময়লা-আবর্জনায় পুকুরের পানি কালো হয়ে গেছে। এতে পুকুর ও জলাশয়ের অনেক মাছ মারা গেছে। এ অবস্থায় পানি শোধন প্রয়োজন। নতুবা এ পানি জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের ঘটনা এলাকায় নতুন বলে জানান তিনি।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71