বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
১০০ টাকা জন্য মাদ্রাসা শিক্ষকের বর্বরতা
প্রকাশ: ০৯:০৬ am ১২-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৩৮ am ১২-০৮-২০১৭
 
বরিশাল প্রতিনিধি
 
 
 
 


বরিশালের গৌরনদীতে ১০০ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর (৮) মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর অবস্থায় ওই শিশু ছাত্রীকে তার মা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন তাকে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রা.) মহিলা কওমি মাদ্রাসার আবাসিক হলে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিশু ছাত্রীর মা উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো.  কামাল হোসেন বেপারীর স্ত্রী রেনু বেগম জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর পূর্বে তার একমাত্র শিশু কন্যা কামরুন নাহার সুমাইয়াকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই তাকে (সুমাইয়া) মাসিক তিন হাজার টাকা চুক্তিতে মাদ্রাসার আবাসিক হলে রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার এক ছাত্রী গোপনে তাকে ফোন করে জানায় মাদ্রাসার তিন নারী শিক্ষক সুমাইয়াকে রাতে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। খবর পেয়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার শিশু কন্যা সুমাইয়াকে উদ্ধার করেন। এ সময় মাদ্রাসার বড় খালামনি (সুপার) তাকে জানান, অপর এক ছাত্রীর ১০০  টাকা চুরির ঘটনায় সুমাইয়াকে শাসন করা হয়েছে। তবে কোন ছাত্রীর টাকা চুরি হয়েছে তা তিনি (সুপার) বলতে পারেননি।

নির্যাতনের শিকার শিশু ছাত্রী সুমাইয়ার বরাত দিয়ে তার মা রেনু বেগম আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১০০ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসার সুপার (বড় খালামনি হিসেবে পরিচিত) ও মেঝ খালামনি এবং বাংলা খালামনি তার মেয়ে সুমাইয়ার মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেনু বেগম বলেন, ‘বড় খালামনির নির্দেশে মুখে গামছা বাঁধার পর মাদ্রাসার আবাসিক হলের মেঝ খালামনি গুণে গুণে আমার মেয়েকে ৬০টি ও বাংলা খালামনি ১০০টি বেত্রাঘাত করেছেন।


এতে আমার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে (সুমাইয়া) রাতের খাবার দেওয়া হয়নি। খবর পেয়ে আমি সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক হলে উপস্থিত হয়ে গুরুতর অবস্থায় শিশু কন্যা সুমাইয়াকে উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করি। ’ এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "যেকোনো অপরাধ করলে কওমি মাদ্রাসায় শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ আইন সারা দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রচলিত। তাই টাকা চুরির ঘটনায় ছাত্রী সুমাইয়াকে মাদ্রাসার খালামনিরা (শিক্ষক) শাসন করেছেন। " শিশু শিক্ষার্থী সুরাইয়াকে নির্যাতনকারী ওই তিন শিক্ষকের নাম জানতে চাইলে তিনি দম্ভ করে বলেন, "মাদ্রাসার প্রধান সুপার (বড় খালামনি) আমার স্ত্রী, অন্য দুইজনও আমার নিজস্ব লোক, তাদের নাম বলা যাবে না। " তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার নিকট আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।

এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। " 

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71