বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
১৯৭১ সালে রনদা প্রসাদ সাহা ও ভবানী প্রসাদ সাহাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়
প্রকাশ: ০৩:৩০ pm ২১-০৮-২০১৬ হালনাগাদ: ০৭:৫৯ pm ২১-০৮-২০১৬
 
 
 


ঢাকা:: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনী ও এদেশীয় দোসরদের হাতে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর এক মাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে অপহরণ ও নির্মম ভাবে হত্যার ৪৫ বছর পর ঘটনার ও মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

রোবরার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত দল মির্জাপুরে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে সহায়তাকারী হিসেবে রয়েছেন রুপল চন্দ্র দাস ও মো. লিটন মিয়া। তদন্ত দল গতকাল কুমুদিনী কমপ্লেক্স সহ মির্জাপুর ও সাহাপাড়া গ্রাম এবং তার আশপাশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার পুত্রবধূ শ্রীমতী সাহা, নাতী ও কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী ব্যবস্থাপক শ্রী রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দারসহ এই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারী দলের সদস্যরা কুমুদিনী পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শোনেন এবং তা আলামত হিসেবে রেকর্ড করেছেন। মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বেশ কয়েকজন সদস্য ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তদন্ত দলের কর্মকর্তাগণ কথা বলেছেন। দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবির হত্যার রহস্য উৎঘাটন করতে এর আগে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনও করেছেন তদন্ত সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন বলে জানা গেছে।

কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী ব্যবস্থাপক রাজীব প্রসাদ সাহা ও পরিচালক প্রতিভা মুৎসুদ্দি দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র রবির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেছেন।

গতকাল কুমুদিনী হাসপাতালে গেলে রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র রবির হত্যাকারীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রনদা প্রসাদ সাহার পরিবার সুত্রে জানা গেছে, তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক খান কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে আর তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলের অপহরণের ঘটনা তখন ঢাকা জেলায় কোনো অপহরণ ও হত্যা মামলা হয়েছে ছিল কি না, সে ব্যাপারে তথ্য জানাতে ঢাকার জেলা পুলিশ সুপারকে ৫ মে চিঠি দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। 

তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান এই চিঠি পাঠান। এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ মে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে নারায়নগঞ্জের খানপুর এলাকার সিরাজউদ্দৌলা রোডের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। রণদা প্রসাদ সাহা হলেন কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা।
এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে। অপহরণের ঘটনার পর তখন কোন হত্যা, অপহরণ মামলা হয়েছিল কি না; ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারকে জরুরী ভিত্তিতে তা জানাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, রণদা প্রসাদ সাহা ‘কুমুদিনী ডিসপেনসারি’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে সেটিই কুমুদিনী হাসপাতাল নামে পূর্ণতা লাভ করে। এ ছাড়া তাঁর প্রতিভাময়ী ভারতেশ্বরী দেবীর নামে ‘ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ’ স্থাপন করে টাঙ্গাইল অঞ্চলে নারী শিক্ষার সুযোগ করে দেন। এটি ১৯৪৫ সালে ভারতেশ্বরী হোমসে রূপলাভ করে কুমুদিনী নার্সিং স্কুল ও কলেজ এবং ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে কুমুদিনী মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার নামে মানিকগঞ্জে দেবেন্দ্র কলেজ স্থাপন করেন। এ ছাড়া তিনি মির্জাপুরে কুমুদিনী নার্সিং মহিলা স্কুল ও কলেজ, মির্জাপুর কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট বালক ও বালিকা বিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। 

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্তে আমরা গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পেয়েছি। রণদা ও তার পুত্র রবির অপহরন ও হত্যার জন্য ১৯৭১ সালে মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছিল সে মামলায় আসামী করা হয়েছিল মির্জাপুর বাজারের কুখ্যাত রাজাকার ওয়াদুদ মাওলানার দুই পুত্র মাহবুব হোসেন ও আব্দুর রশিদের নামে। এছাড়া তাদের আরও সহযোগী ছিল। আসামীদের মধ্যে আব্দুর রশিদ মারা গেছে। এখন তদন্ত রিপোর্ট টাঙ্গাইল রিপোর্ট টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কাছ প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই বিচার কাজ শুরু হবে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ/এমআর
-

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71