শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর হামলা
১ বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশ
প্রকাশ: ১০:৪০ am ৩০-১০-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৪০ am ৩০-১০-২০১৭
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
 
 
 
 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি মন্দিরসহ শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এক বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশ। যে কারণে শুরু হয়নি বিচার কাজ। উপরন্তু ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দু-চারজন ছাড়া বাকিরা জামিনে বেরিয়ে গেছে।

আজ ৩০ অক্টোবর; এক বছর পূর্ণ হলো নাসিরনগরে তাণ্ডবের। এক বছর আগে নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ আনে। পরে এ অজুহাতে গত বছর নাসিরনগর সদরে চালানো হয়েছিল নারকীয় তাণ্ডব। এ ঘটনায় পুলিশসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে থানায় ৮টি 

মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়। ঘটনার এক বছরেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় পুলিশের ব্যর্থতায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ ক্ষতিগ্রস্তরা। অথচ মামলার তদন্ত নিয়ে পুলিশ খুবই আশাবাদী। পুলিশের দাবি, সঠিক বিচার কাজের স্বার্থে ঘটনার ব্যাপক তদন্ত করা হচ্ছে। এ কারণেই প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে আটটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামে জেলে পরিবারের এক নিরক্ষর যুবক ফেসবুকে পবিত্র কাবাঘর অবমাননা করেছে অভিযোগে তাকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় এক দল যুবক। পরদিন ৩০ অক্টোবর এলাকায় মাইকিং করে নাসিরনগর উপজেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে নাসিরনগর উপজেলা সদরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে পৃথক দুটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সমাবেশ দুটিতে সাম্প্র্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয় এবং পরিণতিতে তাণ্ডবের শিকার হয় হিন্দুরা। এ ঘটনার এক বছর পার হলেও জড়িতরা বিচারের আওতায় আসেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই বলেন, তাণ্ডবের ঘটনা অনেকেই মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছে। তার পরও পুলিশ জড়িতদের চিনতে পারছে না। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নাসিরনগর সদরের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা ও একটি মামলার বাদী বিমল বিহারী চৌধুরী বলেন, ৩০ অক্টোবরের ঘটনা একাত্তরকে হার মানিয়েছে। ৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভয়ে আমরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে ছিলাম। আমাদের জিনিসপত্র লুট হয়নি। কিন্তু ওই দিন দুর্বৃত্তরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার দাদা বিনোদ বিহারী চৌধুরী, ভাতিজা সুব্রত চৌধুরীসহ তিনজনকে জখম করেছিল। মেয়ের বিয়ের জন্য ঘরে রাখা দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বহু জিনিস লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি তার দায়ের করা মামলা সম্পর্কে হতাশা জানিয়ে বলেন, বিচার পাব বলে মনে হচ্ছে না। 

গৌরমন্দিরের সেবায়েত অশীতিপর বৃদ্ধ মন্টু মালাকার অধিকারী ওই দিনের ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ওই দিনের ঘটনার নৃশংসতা আর মনে করতে চাই না।

নাসিরনগর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি আদেশ চন্দ্র দেব মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু জাফর বলেন, 'মামলাগুলো খুবই স্পর্শকাতর। কোনো অপরাধীই যেন পার পেয়ে না যেতে পারে, সে জন্য ব্যাপক তদন্ত করতে গিয়ে প্রতিবেদন দিতে দেরি হচ্ছে। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে আটটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'নাসিরনগর হামলার ঘটনার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমরা এ পর্যন্ত ১০৪ জনকে গ্রেফতার করেছি। ১৩ জন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এক বছরে নতুন করে অন্তত দুইশ' লোককে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়নি, তাদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সঠিক তথ্য-প্রমাণসহ যেন আদালতে উপস্থাপন করা যায় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্যই একটু দেরি হচ্ছে।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71