মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
৩০ বছরের নর্দমা এখন দৃষ্টিনন্দন এ্যাকুরিয়াম
প্রকাশ: ০৩:৫১ pm ২১-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:৫১ pm ২১-০৭-২০১৮
 
নড়াইল প্রতিনিধি:
 
 
 
 


নড়াইলে নিজ উদ্যোগে ৩০ বছরের নর্দমা সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন “মৎস্য এ্যাকুরিয়াম” করেছে পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম। বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ সংগ্রহ করে এখানে চাষ করা হচ্ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার দৃষ্টিনন্দন বিদেশি মাছও ছাড়া হয়েছে এখানে। 

খামারটি দৃষ্টিনন্দন করার জন্য এখানে তৈরী করা হয়েছে পানির ফোয়ারা, সাধারনের বসার জন্য তৈরী করা হয়েছে বেঞ্চ। খামারের চারিদিকে রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ফলজ ও বনজ গাছের চারা। এই এ্যাকুরিয়াম তৈরী করার ফলে এলাকার কয়েক হাজার জনসাধারন তিন দশকের দুর্গন্ধ ও মশার উৎপাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। আগে যেখানে সাধারন জনগন চলাফেরা করার সময় নাকে রুমাল অথবা কাপড় দিয়ে যেত। এখন সেখানে এই প্রকল্প গ্রহন করার ফলে বিকাল হলেই বেড়াতে আসছে প্রকৃতি প্রেমীরা।

জানা গেছে, শহরের প্রান কেন্দ্রে নড়াইল-মাগুরা সড়কের পাশে জেলা পরিষদ ও সড়ক বিভাগের এক একর জায়গার একটি জলাশয়ে ত্রিশ বছর যাবৎ এলাকার মানুষ ময়লা আর্বজনা ফেলতো। ফলে এটি সৃষ্টি হয়েছিল ময়লার ভাগাড় হিসাবে। এখানে দীর্ঘদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূর্গন্ধে এলাকার মানুষ চলাচল করতে পারত না। বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসলে নিজ উদ্যোগেই এই ময়লার ভাঙ্গাড়কে সংস্কার করে তৈরী করেন দৃষ্টিনন্দন মৎস্য খামার। এখানে চাষ করা হচ্ছে কই, শিং, মাগুর, পুটি, পাবদা, টাকি, চিতল, শোল, খল্লা, বেলেসহ অন্তত ১৫ রকমের দেশি মাছ। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের দৃষ্টিনন্দন বিদেশি মাছও চাষ করা হয়েছে এখানে। খামারের চারিদিকে রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ফলজ ও বনজ গাছের চারা। পুলিশ সুপার নিজ হাতে প্রতিদিন সকাল বিকাল এই খামারের পরিচর্যা করেন। প্রকল্পটির নাম দিয়েছের পুলিশ মৎস্য এ্যাকুরিয়াম, নড়াইল।
 
এই প্রকল্পের পূর্ব পাশে নড়াইল মহিলা কলেজে লেখাপড়া করছে প্রায় এক হাজার ছাত্রী। এই কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী মোছাঃ কাজী লিমা। সে জানায়, ঐ (ময়লার ভাঙ্গাড়) জায়গা থেকে তাদের কলেজে এবং হোষ্টেলে প্রচুর দূর্গন্ধ আসতো। মশার কামড়ে এবং দূর্গন্ধে রাতে তারা হোষ্টেলে ঘুমতে পারতো না। এখন কোন দূর্গন্ধ নেই, মশার উৎপাতও কমে গেছে। এখন বিকাল হলেই এই মৎস্য এ্যাকুরিয়ামে ঘুরতে আসে তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রনি শেখ জানান, আর্বজনার গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাতে মানুষের চলাচলে কষ্ট হত। দূষিত বাতাসের গন্ধে পরিবেশ ভারি হয়ে থাকতো। এলাকার মানুষের বিভিন্ন রোগবালাই হতো। এলাকার শিশুরা ছিল বেশি ঝুঁকিতে। এ খামারে পাশে বড় খেলার মাঠ থাকলেও গন্ধে ছেলেমেয়েরা ৬-৭ বছর এই মাঠে খেলা করে না। মাঠের পাশে সরকারী তিনটি তিনতলা বিশিষ্ট সরকারী কোয়াটার থাকলেও এখানে কোন পরিবার বসবাস করে না। এখন মৎস্য প্রকল্প গ্রহন করায় এলাকার পরিবেশ অনেক সুন্দর হয়েছে। বিকাল হলে মনে হয় এটি একটি পার্ক। 

সরকারী ছুটির দিনে গত শুক্রবার বিকালে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন নড়াইল পৌর এলাকার মহিষখোলা গ্রামের নাসরিন খানম। তিনি জানান, মৎস্য এ্যাকুরিয়াম করায় জায়গাটি বদলে গেছে। এটি একটি মিনি পার্কের রুপ নিয়েছে। এখানে ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরতে এসে অনেক ভাল লাগছে। এখানে ঘুরতে এসে তার সন্তানেরাও অনেক খুশি। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক জানান, নড়াইলে আগে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। এখন অনেক মাছ হারিয়ে গেছে। এই মৎস্য এ্যাকুরিয়ামে বিভিন্ন প্রকার দেশি মাছ সংগ্রহ করে চাষ করা হচ্ছে। এতে হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ কিছুটা ফিরে পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।

নড়াইলের পৌর মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস জানান, যেখানে মৎস্য এ্যাকুরিয়াম করা হয়েছে, এটি পৌর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ন এলাকা। এই এলাকাতেই সার্কিট হাউজ, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, গনপূর্ত প্রকৌশলীর বাস ভবন। এখানে রয়েছে রেজিষ্ট্রি অফিস, এলজিইডি ভবন, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী বেরসকারী অফিস। এই খামারটিতে আগে এলাকার লোকজন ময়লা আর্বজনা ফেলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে রাখতো। পুলিশ সুপার নিজ উদ্যোগে জায়গাটি পরিস্কার করে দৃষ্টিনন্দন মৎস্য খামার করার ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে।

সিভিল সার্জন মোঃ আসাদুজ্জামান মুন্সি বলেন, বসতিপূর্ণ এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেললে প্রচুর দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং মশার উপদ্রব বাড়ে। এই দূর্গন্ধে  এবং মশায় মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রোগবালাই হওয়ার আশংকা থাকে। জায়গাটি পরিস্কার করে মৎস্য খামার করায় এলাকার মানুষের রোগবালাই কমে গেছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম জানান, জায়গাটি দীর্ঘদিন ময়লা আর্বজনা ফেলায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে পাশে (২০ ফুট দূরে) মহিলা কলেজে হাজার খানেক শিক্ষার্থীসহ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুকিতে ছিল। সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করেই এটি করা হয়েছে। এর ফলে আমিষের ঘাটতিও কিছুটা পূরন হবে এবং এলাকার পরিবেশও ভাল থাকবে।

আরএম/বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71