বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
৪৬ বছরেও শহীদ এম এ গফুর হত্যার বিচার হয়নি
প্রকাশ: ০৭:১৬ pm ০৬-০৬-২০১৮ হালনাগাদ: ০৭:১৬ pm ০৬-০৬-২০১৮
 
খুলনা প্রতিনিধি
 
 
 
 


দীর্ঘ ৪৬ বছরে ভাষাসৈনিক, স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক, সাবেক এমপি শহীদ এম এ গফুর হত্যার বিচার হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ এ মহান নেতার হত্যার বিচারের জন্য দক্ষিণবঙ্গের মানুষরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

খুলনার কয়রা উপজেলায় হরিনগর গ্রামে বিখ্যাত সানা বংশে আলী সানার ঘরে বাংলা ১৩৩২ সালের ২৬শে বৈশাখ জন্মনেন বরেণ্য নেতা এম এ গফুর। মৌখালী খাসমহল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে আশাশুনির বুধহাটা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরবর্তী ভর্তি হন খুলনা বিএল কলেজে। যোগ দেন নয়া-সাংস্কৃতিক সংসদ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গণে। রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রী দলের খুলনা জেলা সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। ভারত বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্থানে ভাষা আন্দোলন শুরু হলে ভাষা সংগ্রাম কমিটির খুলনা জেলা আহবায়কের দায়িত্ব নিয়ে ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। উঠে আসেন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে। ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হলে জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। প্রবল গতিতে এগিয়ে যান রাজনৈতিক অঙ্গণে শীর্ষ পদে। নজর কেড়ে নেয় বাঙালী জাতির ধারক, বাহক ও পথপ্রদর্শক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের। 

১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর মনোনীত হয়ে পাইকগাছা আশাশুনি (বর্তমান কয়রা-পাইকগাছা, খুলনা-৬) হতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা পাকিস্তান সরকারের যোগাযোগামন্ত্রী খান এ সবুরের বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। উক্ত সংসদীয় আসনটি বাংলাদেশের পাঁচটি আসনের মুসলিম লীগের বিজয়ী আসন হিসেবে থাকলেও অকল্পনীয়ভাবে এ অঞলের মানুষ এম এ গফুরকে জয়ী করে মেম্বার অফ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (এম এন এ) পদে বসান। নির্বাচিত হয়ে তিনি বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাটসহ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে আসে স্বাধীনতার ডাক। স্বাধীনতার একজন অন্যতম সংগঠক হিসেবে এলাকার ছাত্র-যুব সমাজকে নিয়ে গেরিলাযুদ্ধ শুরু করে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর আগ্রাসনকে প্রতিহত করে বিপুল বিক্রমে যুদ্ধ করে এলাকাকে করেন হানাদারমুক্ত। এম এন এ (এমপি) পদে থাকার সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাইকগাছায় আলমতলা নামক স্থানে বেড়িবাঁধ উদ্বোধন করতে এসে তাকে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি মন্ত্রীত্ব না নিয়ে এলাকার উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখেন।

এরপর ১৯৭২ সালের ৫ জুন। এম এ গফুর নদীপথে নৌকাযোগে বিভিন্ন নদী ও খালের বাঁধ, বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে তেরআলিয়া নদীর বাঁধ দেখে সন্ধ্যায় পাইকগাছার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। উপজেলার চাঁদখালীর সাহাপাড়ায় পৌঁছালে, আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। স্বাধীনতার মাত্র ছয় মাসের মাথায় পরাজিত রাজাকারদের বুলেটের আঘাতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বন্ধ হয়ে যায় এলাকার সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড। অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন দক্ষিণবঙ্গের হাজার হাজার মানুষ। এ ঘটনায় তার সঙ্গী চাঁদখালীর রিয়াজউদ্দিন ও হড্ডার কামাল হোসেনও শহীদ হন। এ ঘটনায় ওই সময় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই হত্যাকান্ডের আর বিচার হয়নি। মামলাটি চলে যায় হিমাগারে। বর্তমান সরকার মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে রায় কার্যকর করছে। কিন্তু এম এ গফুর হত্যার বিচার হয়নি। 

এ ব্যাপারে এম এ গফুরের জ্যৈষ্ঠ পুত্র পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার ইকবাল মন্টু বলেন, তার বাবা জাতির জনকের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার উন্নয়নে তিনি জীবনবাজি রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার হত্যার বিচার অবশ্যই করবেন বলে এখনো তিনি বুক বেঁধে আছেন। 


এমএএম/বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71