বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
৬ টাকার লবণ ৩৮ টাকায় বিক্রি
প্রকাশ: ০৬:৩৯ pm ১৬-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:৩৯ pm ১৬-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা অতি মাত্রায় ঝুঁকে পড়েছেন লবণ ব্যবসায়ের দিকে। চাষীদের কাছ থেকে ৬ টাকায় কেনা লবণ বাজারে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। ফলে কেজিতে লাভ পাচ্ছেন পাঁচ গুণেরও বেশি। 

এক বছরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় থেকে ৩২টি সল্ট ক্র্যাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের নিবন্ধন নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এসব মিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় স্থাপন করা হবে। বর্তমানে এসব জেলায় দু’শতাধিক লবণ মিল রয়েছে। শিল্প লবণ ছাড়াও ৮০ শতাংশ মিল মালিক এখন প্যাকেটজাত ভোজ্য লবণ বিক্রি করছে। প্যাকেট করা এসব লবণ আসলেই আয়োডিনযুক্ত কিনা তা নিয়ে ভোক্তাদের মনে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। আবার খোলা বাজারে শিল্পের লবণও চড়া দামে ‘খাবার লবণ’ হিসাবে বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সূত্র জানিয়েছে, বাজার চেয়ে গেছে প্যাকেটজাত তথাকথিত আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণে। বাজারজাত অধিকাংশ লবণের প্যাকেটে বিএসটিআই এর মনোগ্রাম ও উত্পাদনের তারিখ উল্লেখ নেই। তারপরও বাজারে বাধাহীনভাবে এগুলো বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট করা এসব লবণে প্রয়োজনীয় অনুপাতে আয়োডিনযুক্ত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝিরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আয়োডিনবিহীন প্যাটেকজাত লবণের সন্ধান পায়। বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ   জানান, শিল্প লবণের লাইসেন্স দেয় বিসিক। এসব লবণ খোলা বাজারেও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কম বিনিয়োগে বেশি লাভ লবণ ব্যবসায়। এখন লবণ উৎপাদনের মৌসুম চলছে। নভেম্বর মাস থেকে লবণ উত্পাদন শুরু হয়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্বে উত্পাদন শুরু হয়েছে। চাষীরা উত্পাদিত লবণের মূল্য কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬  টাকার বেশি পায় না। মিল মালিকরা মৌসুমে চাষীদের কাছ থেকে পানির দামে লবণ কিনে গুদামে মজুদ করে রাখে। পরে এসব লবণ পরিশোধনের মাধ্যমে খোলা বাজারে, বস্তায় ও প্যাকেটজাত করে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। ৭৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা লবণ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে বারশ’ টাকা দরে। আর প্যাকেটজাত লবণ আয়োডিনযুক্ত বলে কেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কম বিনিয়োগে এত লাভ দেশে অন্য কোনো ব্যবসায় নেই বলে এই ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা এ প্রতিবেদককে জানায়।

বিসিক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে শিল্পের লবণ খোলা বাজারে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। শিল্পের জন্য বিক্রি করলে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১২ টাকার বেশি মূল্য পাওয়া যায় না। খাবার লবণ হিসাবে বিক্রি করতে পারলে দ্বিগুনের বেশি দাম মেলে। বেশি লাভের আশায় এরা লবণের সাথে পটাসিয়াম সালফেট মিশিয়ে বাজারজাত করছে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

চট্টগ্রাম লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, আমদানি করা ৫ লাখ মেট্রিক টন লবণের মধ্যে বিভিন্ন মিল মালিকদের কাছে এখনো প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন লবণ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। খোলা বাজারে বিক্রি করা লবণে আয়োডিন যুক্ত করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।


আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71