বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
৭ খুন: তদন্তে নতুন গতি, অপেক্ষা নূর হোসেনের
প্রকাশ: ০৩:৩৫ am ২৩-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০৩:৩৫ am ২৩-০৩-২০১৫
 
 
 


নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মন্ডল হত্যাকাণ্ডের পরপরই মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করেন। মামলাটিতে ৩০/৩২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের।
এদিকে নূর হোসেনকে খুব দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানা গেছে। তাকে সীমান্তের কোন পয়েন্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনা হবে তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের এমন মন্তব্যের পরই তদন্ত কাজে নতুন গতি পেয়েছে।
ভারত থেকে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন।
তিনি জানান, ‘সাত খুনের তদন্ত কাজ শেষ। এখন শুধু নূর হোসেনের জন্য অপেক্ষা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্ত প্রতিবেদন আাদলতে দাখিল করা হবে।’
তিনি আরও জানান, খুনের এই ঘটনার সঙ্গে ৩০/৩২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষদিকে অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তবে দিনক্ষণ বেধে বলা সম্ভব নয় বলে জানান পুলিশ সুপার।
চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় র‌্যাব-সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া র‌্যাব-১১ সিইও লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম এম রানা ও নূর হোসেনসহ পর্যায়ক্রমে আসামি হিসেবে শীর্ষ তালিকায় থাকছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সূত্রটি আরও জানায়, হত্যার মূল হোতা র‌্যাব-১১ এর সাবেক কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেন স্বীকারোক্তিতে জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের সঙ্গে প্যানেল মেয়র ও সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের র্দীঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই নূর হোসেন নজরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বিষয়টি নিয়ে নূর হোসেন র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন মেজর আরিফ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেন। আরিফ বিষয়টি নিয়ে তারেক সাঈদ ও রানার সঙ্গে আলোচনা করেন।
নূর হোসেনের সঙ্গে যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে তাও আরিফের মাধ্যমে হয়েছে বলে জানা গেছে। আর লেনদেনকৃত এই টাকার একটি বড় অংশ আরিফ একাই কুক্ষিগত করেছেন। নূর হোসেনকে পাওয়া গেলে লেনদেনকৃত অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যেত বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
অভিযোগপত্রের তথ্য মতে, পুরো কিলিং মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন আরিফ। তবে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার খুন হওয়ায় হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হয়েছে বলে মনে করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আরিফ স্বীকার করেছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুলকে হত্যার পর নূর হোসেনকেও গুম করে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কারণ সে বেঁচে থাকলে যে কোনো সময় ঘটনা ফাঁস করে দিতে পারে।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আরিফ হোসেনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দেখা যায়, পুরো কিলিং মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন র‌্যাব-১১ সাবেক মেজর আরিফ হোসেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী কাউন্সিলর নজুলের সঙ্গে নূর হোসেন কোনোভাবেই পারছিলেন না। এ কারণেই নজরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নূর হোসেন। এজন্য নূর হোসেন বিপুল পরিমাণ টাকা দিলেও কত টাকা দিয়েছেন তা কেউ স্বীকার করেননি। তবে ফ্ল্যাট কেনাসহ বিভিন্ন সময় নূর হোসেনের কাছ থেকে আরিফ যে টাকা নিয়েছে তার প্রমাণ তদন্তে মিলেছে। অভিযোগপত্রেও লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল চলতি মাসের ১৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ বন্দরের এক অনুষ্ঠানে জানান, ‘নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তাদেরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। সাত খুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুতই আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।’
মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নূর হোসেনকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। ভারত সরকার নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে দিতে দিনক্ষণ ঠিক করে বাংলাদেশ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
এর দুই দিন পরই সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, নুর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করেছে। সীমান্তের কোন পয়েন্ট দিয়ে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। নূর হোসেন দেশে ফিরে আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এ ব্যাপারে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর হতে চলেছে। কিন্তু সাত হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়নি। নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আর কোনো আশ্বাস নয়; সরকার নূর হোসেনকে ফিরিয়ে এনেছে এটার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
মামলার এজাহারভূক্ত আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, ঠিকাদার হযরত আলী, যুবদল নেতা ইকবালসহ অন্য কোনো আসামিকে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের গ্রেপ্তার করলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে নূর হোসেনের সঙ্গে অন্য কারা কারা জড়িত আছে এবং কারা নুর হোসেনকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে তা বের হয়ে আসবে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত শেষে আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র আমরা চূড়ান্ত করেছি। আশা করছি আগামী মাসেই তা আদালতে দাখিল করতে পারব। এর মধ্যে র‌্যাবের ১৭ জনসহ ১৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। আমরা আসলে নূর হোসেনকে ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু তাকে না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দিতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ তার দুই সহযোগী গোলাম মোর্তুজা চার্চিল ও ক্যাশিয়ার আলী মোহাম্মদ সবকিছু বলে দিয়েছে। আর যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারাই তো আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে পুরো পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডের কথা অকপটে স্বীকার করেছে।’
এজাহারভূক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, তদন্তে যাদের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আলোচিত এই খুনের দুটি মামলায় এ পর্যন্ত র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ ১৭ জন সদস্যসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ১৯ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ছাড়াও ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ১৪ জন র‌্যাব সদস্যসহ ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
কনস্টেবল শিহাব ছাড়াও পুরো ঘটনার সঙ্গে ছিলেন এসআই পূর্ণেন্দু বালা, হাবিলদার ইমদাদ, সিপাহী তৈয়ব, ল্যান্স নায়েক বেলাল, হিরা, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, এবি আরিফ, চালক নাজিম ও দেলোয়ার। তারাও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম আদালতে হাজিরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের অদূরে পৌঁছালে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য তাদের গাড়িটি থামায়। সেই গাড়ির পেছনে অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারের গাড়ি ছিল। র‌্যাব সদস্যরা নজরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন, তাজুল ইসলাম, তাদের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর এবং পিছনের গাড়িতে থাকা অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71