মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
৮৫ ভাগ আদিবাসী এখন ভূমিহীন 
প্রকাশ: ১১:২০ am ২৪-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:২০ am ২৪-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


একসময়ে জলাকীর্ন বরেন্দ্রভূমি অমানষিক পরিশ্রমের বিনিময়ে ফসলী জমিতে পরিনত করেছিল আদিবাসীরা। তাদের আজ পর্যায়ক্রমে ভূমিহীন হতে হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব সংস্কৃতি ঐতিহ্য।

সরকারি ভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীদের সংখ্যার সঠিক কোন পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে বরেন্দ্র অঞ্চলের নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২৫লাখ আদিবাসী বসবাস করছে।

জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের বন্ধুর অঞ্চল ও সমতল ভূমি এলাকায় বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘকাল যাবৎ করে আসছে। এ সকল আদিবাসী গোষ্টির মধ্যে সাঁওতাল, মাহলী, মু-ারী, ওরাও, পাহাড়িয়া, মাহাতো (কুর্মি) পাহান, সিং, রাজোয়ার কর্মকার, মুসহর, রাজবংশী, মুড়িয়ার, মালো, ক্ষত্রীয় বর্মন, গ-, রাই, বেদিয়া, কোল, বাগদি তরী প্রমুখ। দীর্ঘদিন ধরে এই সব আদিবাসীরা প্রকৃতির মাঝে বসবাস করে আসছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের এ অঞ্চলে আদিবাসীদের বসবাস শুরু থেকে দীর্ঘ পথ পরিক্রমের বিশেষ ভাবে বলা যায়, ১৭৭০-৭৩ আদিবাসী বিদ্রোহ, ১৭৮৩ সালে ঝাসিবিদ্রোহ, ১৭৯৮ সালে গঞ্জাম বিদ্রোহ ১৮০৪ নায়ার বিদ্রোহ, এছাড়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ভারত বিভাগ তৎ পরবর্তীতে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, তেভাগা আন্দোলন, নাচোলের সাঁওতাল বিদ্রোহ, পাক ভারত যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এই সব ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সামাজিক ঘটনা বলির কারণে ভিটাটুকু হারিয়ে আদিবাসীরা ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে হারিয়ে গেছে তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য সংস্কৃতি। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত এদেশের আদিবাসীদের মধ্যে ভূমিহীনদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ভাগ থেকে ২৫ ভাগের মধ্যে তা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৮৫ ভাগ। নির্যাতিত হত হতে ভিটেমাটিসহ হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ঐতিহ্য।

আদিবাসীরা কারামপূজা, সহরাইপূজা, বাহা উৎসব, ফাগুয়া উৎসব পালন করে থাকে। এসব উৎসবে আদিবাসীরা আগে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করত। কিন্তু বর্তমানে আদিবাসীদের অভাব অনটনের কারণে এ উৎসব গুলো তেমন ভাবে পালন করতে পারছে না। এছাড়া অনেক স্থানে আদিবাসী পল্লীর আসেপাশে অ-আদিবসীদের বসতি গড়ে উঠায় তারা আগের মত স্বাধীন ভাবে নিজেদের সাংস্কৃতিক উৎসবগুলো পালন করতে পাড়ছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে মানববন্ধনে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্র্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহানের সভাপতিত্বে রাজশাহী সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার যতদিন এদশের আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে পারবে না ততদিন আদিবাসীদের উপর নির্যাতন বন্ধ হবে না। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই বলে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশে ৫৪ টির অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ এখনো সরকারি গেজেটে অন্তভুক্ত করা হয় নি।

বক্তারা মালো, কুড়মী, বেদিয়া, তুরী, গঞ্জু, রাউতিয়া, লহার, রাজোয়ার, তেলি, গড়াইত, মুসহর, বানাই, রবিদাসসহ সকল বাদপড়া আদিবাসীদের অবিলম্বে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানান। বর্তমান ক্ষমতাশীন মহাজোট সরকার আদিবাসীদের বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার তাদের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতিহারে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক এবং স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ আজও নিতে পারে নি।


প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71