বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯
বুধবার, ১২ই আষাঢ় ১৪২৬
 
 
​​​​​​​শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেশ জুড়ে সাড়ম্বরে চলছে মা সরস্বতীর আরাধনা
প্রকাশ: ০১:১৫ pm ১১-০২-২০১৯ হালনাগাদ: ০১:১৫ pm ১১-০২-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


 

পদ্মপুরাণে উল্লিখিত সরস্বতীস্তোত্রম্-এ বর্ণিত হয়েছে,

শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা।
শ্বেতাম্বরধরা নিত্যা শ্বেতগন্ধানুলেপনা।।
শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চিতা।
শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারভূষিতা।।

অর্থাৎ, “চন্দ্রের নূতন কলাধারিণী, শুভ্রকান্তি, কুচভরনমিতাঙ্গী, শ্বেত পদ্মাসনে  আসীনা, হস্তে ধৃত লেখনী ও পুস্তকের দ্বারা শোভমানা বাগ্‌দেবী সকল বিভবপ্রাপ্তির জন্য আমাদিগকে রক্ষা করুন।” 

 হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, দেবী সরস্বতী ন্যায় সত্য ও জ্ঞানের প্রতীক। প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সাফল্যের আশায় শিক্ষার্থীরা দেবী সরস্বতীর আরাধনা করে থাকেন।

চট্টগ্রামের ঘাটফরহাদবেগ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিমা

প্রতি বছরের মত এবছরও শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সারাদেশ জুড়ে সাড়ম্বরে চলেছে মা সরস্বতীর আরাধনা। বাগ্‌দেবীর  চরণে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের অগণিত মানুষ। শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে পঞ্চমী তিথি।তাই অনেকের বাড়িতে শনিবারই দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রবিবার সকাল ১০টার মধ্যেই পঞ্চমী তিথির সমাপ্তি ঘটেছে। তারই মধ্যে মৃন্ময়ী দেবতার আরাধনা শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্ত করেছেন বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ।

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক ভাবে দেশবাসীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সরস্বতী পূজা বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় উৎসব। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে এই উৎসবে সকলের অংশগ্রহণ এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও ঐতিহ্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বাণী অর্চনার এই আবহ অম্লান হোক। জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ সাম্প্রদায়িকতা, অজ্ঞানতা, থেকে মুক্ত হয়ে একটি কল্যাণকর ও উন্নত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবে এটাই সকলের প্রত্যাশা”।

চলছে বাগ্‌দেবীর আরাধনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা। আবহমান কাল ধরে এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করে আসছেন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করেছেন। আমি মনে করি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। পারস্পরিক সম্প্রীতি সামনের দিনগুলোতে আরো সুদৃঢ় হবে– এ আমার বিশ্বাস”।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশের প্রতিটি মণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ সমাপ্ত।  সারা দিন ধরে চলেছে  ধর্মীয় আলোচনা সভা।  সন্ধ্যায় ছিলো আরতি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারা দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও মন্দিরে সরস্বতীর পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনে বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর পূজা হয়েছে।  জগন্নাথ হলের ঐতিহ্যবাহী পূজা ছাড়াও এবারের আকর্ষণ ছিল ক্যাম্পাসের ভিতরের জলাশয়ে চারুকলা অনুষদের বিদ্যার্থীদের  তৈরি ৪৫ ফুট উচ্চতার সরস্বতীর প্রতিমা।

অতএব এটা বলাই যায়, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের মনে যে অসাম্প্রদায়িক সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন আছে, তারই প্রতিফলন আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71