সোমবার, ২০ মে ২০১৯
সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
ফিরে দেখা : পল্লীকবির আসমানী
প্রকাশ: ১১:৪৬ pm ২৬-১১-২০১৫ হালনাগাদ: ১১:৪৬ pm ২৬-১১-২০১৫
 
 
 


অদিতি সরকার :
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।


পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের এই ‘আসমানী’ কবিতাটি ১৯৪৯ সাল তাঁর ‘এক পয়সার বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এই কবিতা মাধ্যমিক স্কুলের পাঠ্য বইয়েও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কে আসমানী :
পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের কবিতার একটি চরিত্র থেকেই ফরিদপুরের রসুলপুর গ্রামের অতি সাধারণ এই আসমানী বেগম সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিলেন অতি পরিচিত একটি নাম । কবিতার বর্ণনায় পাওয়া হত দরিদ্র আসমানী যে বাস্তবেরই এক চরিত্র তার সন্ধান মেলে কবিতাটি লেখার অনেক বছর পর।

রসুলপুর আসমানীর শ্বশুর বাড়ি, বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ভানুর ডাঙ্গী গ্রামে, আসমানীর বাবা আরমান মল্লিক। বড় আদর করে আরমান মল্লিক মেয়ের নাম রেখেছিলেন আসমানী। মাত্র ৯ বছর বয়সে বিয়ে হয় আসমানীর। বর রসুলপুর গ্রামের হাসেম মণ্ডল, সতীনের সংসার। আসমানীকে ঘরে আনার আগেই আরেকটি বিয়ে করেছিলেন হাসেম মণ্ডল। 



কিভাবে দেখা পান কবি :

মূলত কবি জসীমউদ্দীনের ভাই সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ এর শ্বশুর বাড়ি ছিল আজকের ফরিদপুর সদরের ইষান গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। সেখানে একবার বেড়াতে গিয়ে এই আসমানীর দেখা পান জসীমউদ্দীন।


ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের মফিজ ইমাম মিলন জানান, জসীমউদ্দীনের ‘জীবন কথা’ বইয়ের প্রথম সংস্করণে এই তথ্যটি ছিল। তবে ফরিদপুরের একজন জেলাপ্রশাসক জালাল আহমদে উদ্যোগ নিয়ে এই আসমানীকে খুঁজে বের করেন।

কিন্তু কবিতার চরিত্র হয়েও সারা দেশের মানুষের কাছে আসমানীর যে আবেদন, বাঙ্গালীর মানসপটে আসমানীর যে চিত্রায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান বলছেন তাঁর মৃত্যুর পরও আসমানী অমলিন। কবির সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যিনি অমরতা লাভ করেছেন, বাস্তব জীবনে তাঁর অস্তিত্ব আমাদের আলোড়িত করেছে। তাঁকে কবিতার মধ্য দিয়ে কবি আমাদের আপনজন করে তুলেছেন।

আসমানী আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া পল্লীকবির সাহিত্য কর্মে।


আসমানীর সংসার :
আসমানী বেগমের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে জেষ্ঠ্য কন্যা আলেয়া বেগম তাঁর মায়ের সম্পর্কে বলেন, “আমার মা তখন অনেক ছোট, নয় যখন বয়স, তখন জসীমউদ্দীন আমাদের গ্রামে আসেন। তবে অনেক পরে আমরা জানতে পারি, জসীমউদ্দীন আমার মাকে নিয়েই এই কবিতা লিখেছেন।

আসমানী আজও বেঁচে আছেন, পল্লীকবির কবিতার আসমানী বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। কবির কবিতার যে আসমানী সে আসমানী, আজও তেমনই আছে।

আসমানীর আত্নপ্রকাশ :
২০০৩ সালে পত্রপত্রিকায় ‘আসমানীকে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশব্যাপী জসীমউদ্দীনের সৃষ্টি বাস্তব চরিত্র আসমানীকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এর কয়েক বছর পর এনজিও সংস্থা প্রশিকা একটি ছোট্ট আধুনিক টালির ঘর নির্মাণ করে দেয় আসমানীকে। তারপর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসমানীকে দেখতে রসুলপুরে আসতে শুরু করে।

জসিমউদ্দিন অর্ধশত বর্ষ আগে চিরায়ত বাংলার রসুলপুর গ্রামে রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়িতে অন্ন-বস্ত্র ও জীর্ণশীর্ণ বসতবাড়িতে আসমানীকে দেখতে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বাংলার চিরায়ত নারী দুঃখ-দুর্দশা, ক্ষুধা-যন্ত্রণার সাথী হওয়ার জন্য। কবির আসমানী আজ জীবন সায়াহ্নে, হয়তো বাঁচবেন না বেশি দিন। কিন্তু কবিতার আসমানীরা-চিরায়ত বাংলার আসমানীরা বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।

এই চরিত্রটি পল্লীকবি এঁকেছিলেন বাস্তবের নারী আসমানীকে দেখেই।

আসমানীর বিদায়:
সবশেষ বিদায় নিলেন আসমানী। তবে আসমানী বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া পল্লীকবির সাহিত্য কর্মে।পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের অমর সৃষ্টির বাস্তব চরিত্র সেই আসমানী বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে মৃত্যু বরন করেন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে আসমানী পার করেন জীবনের ৯৭টি বছর ।


হৃদরোগ আর কিডনির নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন লড়াই করে ২০১২ সালের ১৮ আগষ্ট  শনিবার ভোরে তিনি মারা যান ।

আসমানী আজও বেঁচে নেই, তবে পল্লী কবির কবিতার আসমানী বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। কবির কবিতার যে আসমানী সে আসমানী আজও তেমনি আছে ।

এইবেলা ডটকম
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71