রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
‘যশোর গেজেট’ পত্রিকার সম্পাদক ওয়াহেদ আলী আনসারী
প্রকাশ: ১২:২১ am ২১-০৪-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:২১ am ২১-০৪-২০১৫
 
 
 


বৃটিশ আমলে ঐতিহ্যবাহী যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দি যশোর গেজেট’ পত্রিকার প্রকাশক ওয়াহেদ আলী আনসারী ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারী চৌগাছা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ‘হাতে টাকা নেই অথচ আমাকে আজকেই রোজগার করতে হবে’’-এই প্রকৃতির দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ওয়াহেদ আলী আনসারী ১৯৩০ সালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন।
তিনি স্বদেশী আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা রাখেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ সম্মানে ভূষিতও হয়েছেন তিনি।
‘যশোর গেজেট’ পত্রিকার প্রকাশক, যা ১৯৪১ সালে প্রকাশ শুরু হয়। মুসলিম একাডেমী ও যশোর হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মহান এই পুরুষ।
সমাজে অনেক মানুষ থাকেন যারা নীরবে নিভৃতে কাজ করে চলে যান, কিন্ত সমাজ তাদেরকে স্মরণ করে না। একথা উল্লেখ করতে হয় যে, যশোরের শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর মানুষকে সেই বৃটিশ আমলে এগিয়ে নেয়ার জন্য যে কয়েকজন ব্যক্তি ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির।
বৃহত্তর যশোরসহ খুলনা অঞ্চলে যিনি মুদ্রণ শিল্প চালু করেছিলেন সেই ওয়াহেদ আলী আনসারীর নামের সাথে আলোচ্ছটার দ্যুতি বিচ্ছুরিত হয়। বৃটিশ ভারতের যশোরের চৌগাছায় জন্ম নেয়া বিশিষ্ট সাংবাদিক, ও সমাজসেবক এই মানুষটি আমৃত্যু দেশমাতৃকার কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী এই মানুষটি বহুভাষী, সুপন্ডিত ও নিজ ধর্মীয় জ্ঞানের সুবিদিত অধিকারী ছিলেন। তার কর্ম পরিধি বিশ্লেষণ করলে অন্তত: তাই প্রতিভাত হয়। তিনি একাধারে বাংলা, ইংরেজী, আরবী, ফারসী ও উর্দ্দু ভাষায় পারদর্শি ছিলেন। সাহিত্য রচনায় শব্দ প্রয়োগে বাংলা, আরবী ও ফারসীর আধিক্য দেখা যায়।
তার পৈত্রিক বাড়ি চৌগাছা উপজেলার গরীবপুর-এ। জনাব আনসারী ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারী উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতার নাম বাহার আলী বিশ্বাস। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বড় ভাই নেছার আলী বিশ্বাস, দ্বিতীয় আনসারী, তৃতীয় শাহাদাৎ আলী বিশ্বাস ও ছোট ভাই মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ এবং একমাত্র বোন আশরাফুন্নেসা খুকী। শৈশব থেকেই স্বাধীণচেতা ছিলেন এই মানুষটি।
সাহিত্য সাধনা
সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রে তার Ÿড় অবদান “কাব্যে কোরআন” রচনা করা। তিনি পবিত্র কোরআন শরীফকে আরবী থেকে বাংলায় অনুবাদ করে তা কাব্য আকারে লিখেছেন। সাত খন্ডে তিনি তার নিজের ‘কোরআন প্রচার প্রেস’ থেকে তা প্রকাশ করেন। বৃটিশ আমলে সমাজে শিক্ষার আলো যখন মৃয়মান, তখন তার এই প্রয়াস নি:সন্দেহে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা যায়।।
বেশ কয়েকটি গ্রন্থের পাশাপাশি ‘কাব্য-কোরআন’ তাঁর সাহিত্য সাধনার স্মারক চিহৃ। গ্রন্থ-‘কাব্যে কোরআন’, ‘নাস্তা’, ‘শেখ ফরিদ’, ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।
এছাড়া যশোরের আরেক পন্ডিত কর্মবীর মুনসী মেহেরুল্লাহকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে কয়েকজন মানুষ কাজ করেছেন- তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্র সেনানী। তার কোরআন প্রচার প্রেস থেকে কর্মবীর মুনসী মেহেরুল্লাহর অনেক পুস্তক প্রকাশ করা হয় । মনে প্রাণে মুনসী মেহেরুল্লাহর খাটি অনুসারী ও ভক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঝাউদিয়ার মেহেরুল্লা একাডেমী প্রাংগনে মুনসী মেহেরুল্লাহর ১২১ তম জন্ম বাষির্কীর সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওয়াহেদ আলী আনসারী। (সূত্র : দৈনিক দেশ, ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৮২ ইং, পৃষ্ঠা নং : ৬)
ওয়াহেদ আলী আনসারীর কোরআন প্রচার প্রেসের ম্যানেজার আহম্মদ আলী সাহিত্যরত্ম (১৯০৯-১৯৯১) তার “ফাগুণ এসেছে ফিরে ” কাব্য গ্রন্থের “কপোতাক্ষর তীরে ” কবিতায় লিখেছেন- “ কপোতাক্ষর এপার জ্বালিল জ্ঞানের মশাল/ গরীব পুরের গর্ব আনছারী/ জাতি জাগানোর অগ্রদূত/ মরেও তিনি অমর হয়েছেন/ বাংলায় কুরআন প্রচারই / প্রতিভা অদ্ভূত!” (সূত্র : ফাগুণ এসেছে ফিরে, একুশে বই মেলা, ঢাকা, ২০০৯ ইং, পৃষ্ঠা নং: ৬২)
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ১৯৮৭ সালে ‘চাঁদের হাট পুরস্কারে’ ভূষিত হন। প্রচুর লেখাপড়া করতেন তিনি। কিভাবে অনগ্রসর এলাকাবাসীকে শিক্ষা-দিক্ষায় এগিযে নেয়া যায় সে জন্য তার মনোয়োগ ছিল সব সময়।
১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল যশোরের বারান্দি পাড়ার নিজ বাস ভবনে মহান এই পুরুষ ইন্তেকাল করেন।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর জেলার একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বদেশী আন্দোলনের সাথে যুক্ত এবং কংগ্রেসের অনুসারী ছিলেন তিনি।
যশোর হোমিওপ্যাথী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, এটি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এছাড়া যশোরের ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মুসলিম একাডেমিরও প্রতিষ্ঠাতা এই মানবহিতৈষী। তৎকালীন সময়ে অনগ্রসর যশোরের মুসলিম সমাজকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে মুসলিম একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
কোরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার ভুমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি যশোরে প্রথমে কোরআন প্রচার প্রেস ও পরবর্তীতে আনসারী প্রেস প্রতিষ্ঠা করেন।
লেখক: মুরসালিন নোমানী,
সিনিয়র রিপোর্টার, বাসস;
সদস্য, বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71