শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
‘হিন্দু না ওরা মুসলিম, ওই জিজ্ঞাসে কোন জন’
প্রকাশ: ০৪:০৬ pm ৩০-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:০৬ pm ৩০-০৮-২০১৭
 
 
 


প্রভাষ আমিন 

আমাদের চারপাশে অনেক সুন্দর চেহারার মানুষ ঘুরে বেড়ায়। ফেসবুকেও তাদের সুন্দর সুন্দর ছবি দেখি। তাদের চেহারা দেখতে সুন্দর হলেও তাদের ভেতরটা সাম্প্রদায়িকতায় ঠাসা, ঘৃণা-বিদ্বেষে ভরা। দেখতে মানুষের মতো মনে হলেও তাদের আমি পুরো মানুষ মনে করি না। কারণ তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন না। কোনও কিছু ঘটলেই তারা মানুষকে দ্রুত ধর্ম দিয়ে, বর্ণ দিয়ে, জাত দিয়ে, লিঙ্গ দিয়ে বিবেচনা করেন। এই যেমন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়েছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। রান কম করেছেন, সেটা নয়, আমার আপত্তি তার আউট হওয়ার ধরনে। কোনও টেস্টের ওপেনার ৮ বলে ৮ রান করে আউট হলে তা নিয়ে সমালোচনা হবেই। ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। কিন্তু সৌম্য সরকার যখন দ্বিতীয় ইনিংসেও দিনের ২ ওভার বাকি থাকতে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন, তখন সেই সমালোচনার ঝড় তুঙ্গে ওঠে। সমালোচকদের দলে আমিও আছি। এমনিতে সৌম্য সরকার আমার খুব প্রিয় ব্যাটসম্যান। গত বিশ্বকাপের আবিষ্কার সৌম্য। বিশ্বকাপের পর থেকেই বাংলাদেশ যে বদলে গেছে, তাতে আছে সৌম্যর অবদানও। শুরুতেই তার দৃষ্টি সুখকর, ভয়ডরহীন ক্রিকেট দলকে দারুণ চাঙা করে দেয়। তার ঠিক করে দেওয়া মোমেনটামে দল এগিয়ে যায় জয়ের বন্দরে। কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটের সাফল্য তিনি টেস্টে টেনে নিতে পারেননি। শ্রীলঙ্কা সফরে তার তিনটি হাফ সেঞ্চুরি আছে, গড়ও প্রায় ৪০। তারপরও আমি বলবেো, টেস্ট ওপেনার হিসেবে সৌম্য সরকার এখনও নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারেননি। সৌম্যর স্বার্থেই তাকে একটু ব্রেক দেওয়া দরকার। টেস্টে যে খেলার সাথে ধৈর্য্যটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ এটা বোঝার জন্য তার সময় দরকার। সৌম্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনার ডিম পাড়া হাঁস। সে যাতে দীর্ঘদিন ডিম দিতে পারে, সে জন্য তার পাশে থাকতে হবে, প্রয়োজনে তার মেডিটেশন করতে হবে।

তামিমও একসময় ধুম-ধারাক্কা ব্যাটিং করতেন। সেই তামিম যে এখন এমন পরিণত হয়ে গেলেন, তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে সৌম্যসহ সবাইকে। মুশফিক, সাকিব, তামিম, রিয়াদরা চলে গেলে তো সৌম্য, সাব্বির, নাসির, মিরাজ, মুস্তাফিজদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। তবুও প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে সৌম্যর ব্যাটিং স্টাইল এব্ং আউট হওয়ার ধরনের তীব্র সমালোচক আমি। কিন্তু সেই সমালোচনার সময় আমার মাথায় কখনোই তার ধর্মটা আসেনি। কিন্তু ফেসবুকে অনেকেই দেখি তার ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ নিয়ে করছেন। সৌম্য নাকি কোটায় সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশ দল নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রধান কোচ হাথুরুর স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবেরও তীব্র সমালোচক আমি। কিন্তু কোনও খেলোয়াড় ধর্মীয় কোটায় বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েছে, এই সাম্প্রদায়িক ভাবনা যারা ছড়াচ্ছেন, তাদের জন্য করুণা করা ছাড়া আর কীইবা করার আছে?

সম্প্রতি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের বিস্তারিত রায় প্রকাশের পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এতদিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে বলে উচ্চ আদালতের সমালোচনা করে আসা বিএনপি এখন প্রধান বিচারপতির দারুণ সমর্থক। আর এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সরকারি দল এখন তার তুমুল সমালোচক। আদালতের রায় কারো পক্ষে, কারো বিপক্ষে যাবে। প্রত্যেক রায়ের বিপক্ষেই উচ্চতর আদালতে আপিল করা যায়। এমনকি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিপক্ষেও রিভিউ করা যায়। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিতর্ক আছে। এই রায়ের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আমারও আপত্তি আছে। কিন্তু সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সমালোচনা করতে গিয়ে যখন কিছু মানুষ তার জাত-ধর্ম টেনে আনছেন, তা খুবই আপত্তিকর। রায়ের সমালোচনা করা আর একজন মানুষের ধর্ম-জাত নিয়ে তাকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা এক কথা নয়। এস কে সিনহাকে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ করে আমরা আসলে আমাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকা সাম্প্রদায়িকতার বিষ দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছিল উদার, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। খুঁজে খুঁজে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেওয়ার জন্য নয়।

বলছিলাম সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কথা। যখনই রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে আসে, তখনই কিছু লোক সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে মাঠে নামে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। এই নিপীড়ন যখন তীব্র হয়, তখন রোহিঙ্গারা জান বাঁচাতে ছুটে আসে বাংলাদেশে। আসতে আসতে এখন বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গার বাস। এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখন বিশ্বে সবচেয়ে অভিশপ্ত ও অসহায় মানবসম্প্রদায়। রোহিঙ্গারা বাস্তবে থাকলেও কাগজে-কলমে নেই। এ যেন উল্টো প্রবাদ, কাজীর গরু গোয়ালে আছে, কেতাবে নেই। হাজার বছর ধরে রাখাইন অঞ্চলে বিকশিত হলেও মিয়ানমার সবসময় দাবি করে আসছে, তারা চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে যাওয়া। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কোনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তারা ক্যাম্পে বাস করে। তাদের পড়াশোনার সুযোগ নেই, চাকরির সুযোগ নেই, পাসপোর্ট নেই, এমনকি সন্তান নেওয়ার স্বাধীনতাও নেই। তার মানে মিয়ানমার চাইছে, প্রাকৃতিকভাবেই রোহিঙ্গারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, এভাবে চললে হয়তো একদিন যাবেও। কিন্তু নিশ্চিহ্ন হতে দেরি হচ্ছে বলে, মিয়ানমার সরকার কিছুদিন পরপরই কোনও না কোনও উসিলায় রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালিয়ে দেয়। তাদের লক্ষ্য দুটি, নগদে কিছু রোহিঙ্গাকে মেরে ফেলা, আর তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা।

মিয়ানমারে একজন গণতন্ত্রকামী নেত্রী আছেন, অং সান সুচি তার নাম, তিনি আবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও জিতেছেন। নে উইনের সামরিক শাসনামলে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ ছিলেন সুচি, অবরুদ্ধ ছিল মিয়ানমারও। তাই রোহিঙ্গাদের ওপর তখনকার হত্যাযজ্ঞ খুব বেশি আলোচনায় আসেনি। সবাই আশায় বুক বেধে ছিলেন, কখনও সুচি ক্ষমতায় এলে বুঝি বদলে যাবে মিয়ানমার। সুচি ক্ষমতায় এসেছেন, মিয়ানমার বদলেছেও। কিন্তু বদলায়নি রোহিঙ্গাদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি। আগে যেমন নিশ্চিহ্নকরণ প্রক্রিয়া চলেছে, এখনও তাই। সুচি ক্ষমতায় যাওয়ার আগেও রোহিঙ্গাদের পক্ষে টু শব্দটি উচ্চারণ করেননি, ক্ষমতায় এসেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেননি। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন যে দেশের ক্ষমতায়, সেই দেশে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলছে, এটা অবিশ্বাস্য, এটা লজ্জার। সুচি সরকার রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি তো দিচ্ছেই না। বরং সুচি নিজেই এখন রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে অভিহিত করছেন। রোহিঙ্গাদের পূর্ব পুরুষদের কেউ কেউ চট্টগ্রাম থেকে আরাকানে গিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু তাই বলে রোহিঙ্গারা তো বাঙালি হতে পারে না।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশনের রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, সুপারিশ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু আনান কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পরদিনই রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নিধন অভিযান শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে স্বাধীনতাকামী রোহিঙ্গাদের হামলার অজুহাতে শুরু হওয়া এই সেনা অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে বহু নিরীহ মানুষ, যার মধ্যে আছেন নারী-শিশুরাও। সাথে নাফ নদীতে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। তারা দলে দলে বাংলাদেশে আসতে চান। যখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটে, একটি মহল রোহিঙ্গারা মুসলমান, এই দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে মানবিক হতে বলে। অনেকে বাংলাদেশকে একাত্তরের কথা মনে করিয়ে দেয়। একাত্তরে বাংলাদেশের কোটি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে, অনেকে আশ্রয় নিয়েছিল মিয়ানমারেও। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই মানবিক। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে নানাভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, মাদক ব্যবসা করছে, জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে, মানবপাচার করছে। অনেকে ভুয়া পাসপোর্ট করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গিয়ে নানা অকাণ্ড করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। তারপরও ১৬ কোটি মানুষের ভারে বাংলাদেশ প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। গতবছরের অক্টোবরেও অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এবারও হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তে জড়ো হয়েছেন বাংলাদেশে ঢুকবে বলে। তবে আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া পাহারা বসিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়েও সমালোচনাও হচ্ছে। আপনি কল্পনায় চাইতে পারেন, কিন্তু সীমান্তবিহীন বিশ্ব তো কখনও ছিল না, কখনও হবেও না। সব স্বাধীন দেশই তার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করবে। বাংলাদেশ যদি সীমান্ত খুলে দেয়, তাহলে মিয়ানমার তো সব রোহিঙ্গাকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। তাই বাংলাদেশের সীমান্তে কঠোর অবস্থানকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু তবুও সময়ে সময়ে বাস্তবতা পাল্টে যায়। একাত্তরে যদি ভারত তাদের সীমান্ত আটকে রাখতো, আমাদের কী হতো? তবে এখানেও ভিন্ন ভাবনার অবকাশ আছে। একাত্তরে বিজয় অর্জনের পর ভারতে যাওয়া শরণার্থীরা স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা তো একবার বাংলাদেশে আসলে আর কখনও ফিরে যাবে না বা ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তবে এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যে গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে অন্তত অসহায় নারী-শিশু-বৃদ্ধদের আশ্রয় দেওয়ার কথাটি বিবেচনা করতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঠেকাতে চাইলেও প্রতিবারই কিছু কিছু রোহিঙ্গা ঢোকার সুযোগ পায়। এবারও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। গুলিবিদ্ধ অনেক রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডেক্যাল কলেজ হাসপাকালে ভর্তি হয়েছেন, একজন এখানে মারাও গেছেন। তার মানে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢুকতে না দিলেও ভেতরে ভেভরে বৃদ্ধ-নারী-শিশু এবং আহতদের ঠিকই ঢুকতে দিচ্ছে। বাংলাদেশ আগেও প্রমাণ করেছে, আবারও প্রমাণ করলো, তারা মিয়ানমার সরকারের মতো অমানবিক নয়।

বাংলাদেশের কাছে মানবতা আশা না করে, বিশ্বের সবার উচিত আর সব কাজ ফেলে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো, মিয়ানমারকে চাপ দেওয়া। মানবিকতার কোনও জাতি নেই, ধর্ম নেই, বর্ণ নেই, লিঙ্গ নেই। কিন্তু আজ যেন ধারণাটাই বদলে গেছে। নইলে যে বৌদ্ধ ধর্মের মূল চেতনাই হলো মানবতা, যারা জগতের সকল প্রাণীর সুখ চায়, সেই বৌদ্ধরাই কিভাবে রোহিঙ্গাদের কাছে সাক্ষাত আজরাইল হয়ে যায়? মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে এলাকায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, সেখানে সংবাদকর্মী, মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশাধিকার নেই। তবুও নানা সূত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের যে ছবি আসে, তার বেশিরভাগই বানানো, তবে সেগুলোর দশ ভাগের একভাগও যদি সত্যি হয়, তাহলেও লজ্জায় বিশ্ব সভ্যতার মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার কথা। চিৎ হয়ে পানিতে ভাসতে থাকা এক রোহিঙ্গা শিশুর লাশ দেখলে বিশ্বের যে কোনও মানুষের চোখে জল আসবে। বাংলাদেশের একটি মহল এই শিশুটির এবং রোহিঙ্গাদের মানুষ পরিচয়ের চেয়ে মুসলমান পরিচয়টি বড় করে তুলতে চাইছেন। এই শিশুটি মুসলমান হোক, হিন্দু হোক, বৌদ্ধ হোক; আমার বেদনা সমান। আসলে মানবাধিকার মানে মানুষের অধিকার। এখানে জাতি দিয়ে, ধর্ম দিয়ে, বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করার কোনও সুযোগ নেই। তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের মরদেহ আমাকে যতটা আন্দোলিত করে, আমি ততটাই বিধ্বস্ত হই রোহিঙ্গা শিশুর লাশ ভাসতে দেখে। কাজী নজরুল অনেক আগেই বলে গেছেন, 'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?, কান্ডারী, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র’।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71