সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
সোমবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
সর্বশেষ
 
 
স্বাচিপ মহাসচিবের একান্ত সাক্ষাৎকার
‘‘জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা না দিলে সংগঠন থেকে শাস্তি’’
প্রকাশ: ০৩:৩৯ pm ২৬-১২-২০১৫ হালনাগাদ: ০৩:৩৯ pm ২৬-১২-২০১৫
 
 
 


রনজিৎ কুমার মণ্ডল: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ার সময় থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনিত নতুন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এ রাজনীতিবিদের দিপ্ত পদচারণা রয়েছে রাজনীতির প্রতিটি স্তরেই।

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে রাজনীতির পথ চলা শুরু করেন। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। কলেজ শাখা সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। এর পর থেকেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। ছাত্র এম এ আজিজের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায় চিকিৎসক এম এ আজিজ হবার পর।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্বাচিপের সাথে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজের আওয়ামী লীগের  পেশীজীবী রাজনীতির যাত্রা শুরু। দক্ষ সংগঠন হিসেবে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করার জন্য নেতা হওয়ার যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। সংগঠনে অভ্যন্তরীন নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত থাকলেও আওয়ামীলীগের প্রতি নিবেদিত এ নেতা তার কর্মীদের কাছে কখনো জনপ্রিয়তা হারান নি বরং সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ময়মনসিংহ এলাকাবাসী ও সংগঠনের নেতা কর্মীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব এই নেতাকেই আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাচিপের ৪র্থ জাতীয় সম্মেলনে নতুন মহাসচিব মনোনীত করেন। কঠোর পরিশ্রমী স্বাচিপের এই নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রতিটি চিকিৎসককে সংঘবদ্ধ রাখতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়িছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই। সরকারী চাকুরী করলে রাজনীতিতে সময় দেয়া দূরহ হয়ে দাঁড়ায় বলে, স্বেচ্ছায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। জনপ্রিয় ও ত্যাগী এই স্বাচিপ নেতার সঙ্গে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অধ্যক্ষ্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মস্থলে এইবেলা ডটকমের সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল । সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এইবেলা ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক রনজিৎ কুমার মণ্ডল ।

এইবেলা ডটকম: এইবেলা ডটকমের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। কেমন আছেন?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: আপনাকেও স্বাচিপের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। ভাল আছি তবে ব্যস্ত সময় পাড় করছি। গণমাধ্যমে আমাদের সরকারের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের সংবাদ কম আসে। তবে যেহেতু আপনারা ইদানিং চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন সেহেতু আশা করি আমাদের উন্নয়নশীল স্বাস্থ্য সেবার খবর এখন জনগণের কাছে পৌছবে।

এইবেলা ডটকম: কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: ত্রিমুখী কাজ  নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার পৌর নির্বাচন চলছে। স্বাচিপের দায়িত্ব নিয়েছি এক মাস হল। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ চলছে । সাথে সাথে রোগীদের চিকিৎসা সেবাও দিচ্ছি।

এইবেলা ডটকম: পৌর নির্বাচনে আপনারা কি ভূমিকা রাখছেন?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হয়ে কাজ করছি। প্রতিটি নির্বাচনে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। জনগণ আমাদের পেশাকে সম্মান করে। তাই দেশের মানুষ চিকিৎসকদের কথার গুরুত্ব দেন। আমি আমার সংগঠনের নেতাকর্মীদের নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। দেশের মানুষের প্রতি আমার আবেদন,  দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট দেন।

এইবেলা ডটকম: আপনার সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে হবে?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: ডিসেম্বর মাসেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। আমাদের সংগঠন নতুন বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করব বলে আশা করছি।

এইবেলা ডটকম: আপনার সংগঠনে কাদের পদ দেওয়ার কথা ভাবছেন?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: ভাল প্রশ্ন করেছেন(হেসে)। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী চিকিৎসকরাই পদ পাবেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি যারা ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগ করেছেন তারাই যেন এই সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকেন। পাশাপাশি যারা ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন সন্ধানী, মেডিকেল ক্লাব করেছেন তাদেরকেও রাখা হবে । যাদের সময়মত সাংগঠনিক কাজে কাছে পাওয়া যায় তাদেরকেই সংগঠন চালানো দায়িত্ব দেয়া উচিত,তাই নয় কি? তাছাড়া......(হেসে)।

এইবেলা ডটকমঃ তাছাড়া…… কি? বুঝিয়ে বলবেন কি?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: পেশাজীবী সংগঠনে কিছু লোক আছেন যারা সাড়াদিন সংগঠন করে, কিন্তু নিজের আসল পেশা কি সেটা ভুলে যান। আমাদের সংগঠন করবেন কিন্তু রোগীর সেবা করবেন না তাদের স্বাচিপে কোন পদ দেওয়া হবে না। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেই স্বাচিপ গঠন করেছেন। যদি আমরা জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা না দেই তবে আমাদের আদর্শ থেকে লক্ষ্যচ্যুতি ঘটবে। স্বাচিপ নেতাকর্মীদের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তাই আমাদের নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে সংগঠন করতে এসে যেন সাধারণের চিকিৎসা সেবা ব্যহত না হয়। জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা না দিলে সংগঠন থেকে শাস্তি ।

এইবেলা ডটকম: আপনাদের সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় নেই, স্থায়ী কার্যালয় করার কথা ভাবছেন কি?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: হ্যা। আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি স্থায়ী কার্যালয় করতে। আমরা  জায়গা খুঁজছি।

এইবেলা ডটকম: আপনাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা আছে কি?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: স্বাচিপের সদস্য হতে ইচ্ছুক ৬ হাজার আবেদন আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা যাচাই বাছাই করে আপাতত তের হাজার থেকে ষোল হাজার সদস্য করার চিন্তা ভাবনা করছি। তবে নতুন যারা আবেদন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে যদি কোন প্রমাণ পাওয়া যায় যে একদিনের জন্যও জামায়াতের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তাদের সদস্য পদ দেওয়া হবে না।

এইবেলা ডটকমঃ আপনাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সেবার কোন দায়িত্ব দিয়েছেন কি ?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। সম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাউদ সাউদ পুরুষ্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরুষ্কার পেয়েছেন। এটা আমাদের চিকিৎসক সেবাকর্মীদের টিম ওয়ার্কের সুফল। আপনারা জানেন,  বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার আমল পরিবর্তন হয়েছে আমাদের সভানেত্রীর হাত ধরেই সেই ১৯৯৬ সালে যখন তিনি প্রথম ক্ষমতায় আসেন। তিনি তখন দেশে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। নেত্রী উপলব্ধি করেছেন উন্নয়নশীল দেশের সরকার হিসেবে সমগ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা দূরহ ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ নেওয়ায় ওই আমলেই দেশের স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপক উন্নয়ন হতে শুরু করে। 
বেসরকারীভাবে যেসব সংস্থা চিকিৎসা সেবা দেয় তাদেরকে যন্ত্রা আমদানী করার ক্ষেত্রে  টেক্স  ফ্রী করে দিয়েছেন আমাদের নেত্রী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার ফলে হত দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা মেডিকেল কলেজে পড়াশুনা করেতে পারে। বেসরকারী মেডিকেল কলেজে ১০% দরিদ্র শিক্ষার্থীর খরচ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করবে এটা জননেত্রী বাধ্যতামূলক করেছেন।

এইবেলা ডটকম: আওয়ামী সরকারের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কি ভাবছে?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: আমাদের নেত্রী  স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সবসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে তদারকি করছেন। ইতিমধ্যে রোগীরা গ্রাম থেকে রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য রেফারেল ব্যবস্থা চালু এবং দেশের সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সসমূহকে পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছি আমরা । দেশে অ্যানেস্থেসিস্ট ও বিশেজ্ঞ চিকিৎসকের শূণ্যতা পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে অপারেশন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনে পার্শবর্তী বেসরকারী হাসপাতাল থেকে অ্যানেস্থেসিস্ট কাজ করানোর কথা ভাবছে সরকার। এ পদ্ধতিতে চালু হলে অনেক ঝুকিপূর্ণ রোগীকে বাঁচানো যাবে ।

এইবেলা ডটকম : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করছি । জীবন গেলেও আমি বঙ্গবন্ধু আদর্শ হতে বিচ্যুত হব না । বঙ্গবন্ধু গণমানুষের রাজনীতি করেছেন। আমিও তার আদর্শের কর্মী । আমিও গণমানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমি তার আর্দশের একজন কর্মী হিসেবে আমার ময়মনসিংহ সদর এলাকায় আগেই থেকেই কাজ করছি। শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু হলেও জনগণের সেবা করে যাব।

এইবেলা ডটকমঃ আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ: আপনাদেরও ধন্যবাদ।


এইবেলা ডটকম/ এসএম
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71