রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মৌলভীবাজারে পাল্টেছে যাত্রার ধরন উরুসের নামে চলছে যাত্রা ও অশ্লীল নারীনৃত্য
প্রকাশ: ১২:০২ am ২৩-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:০২ am ২৩-০৩-২০১৭
 
 
 


মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে যাত্রার ধরন পাল্টেছে।

পীরের মাজার ও আস্তানা কেন্দ্রিক বার্ষিক উর“স আয়োজনের নামে যাত্রা, বাউল গান, অশ্লীল নারীনৃত্য, জুয়া ও গাঁজা সেবনের রমরমা আসর বসানো হচ্ছে। এছাড়া পীরের মোকাম ও মাজারে ব্যান্ডপার্টির আয়োজনও করা হয়েছে বলে জানা যায়।এসব আয়োজনে উঠতি বয়সী নারী-পুর“ষদের বেশি সমাগম ঘটছে।

এর প্রভাব পড়ছে পরিবারগুলোতে। এ নিয়ে সতেচতন অভিভাকরা সন্তানদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন। এসব কর্মকান্ডে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে ও অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।এ নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে।

তারা প্রশাসনের নিরব সমর্থনেই এসব হচ্ছে বলে ধারণা করছেন। রোববার রাত বারোটার দিকে সরেজমিন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ নিতেশ্বও গ্রামের তথাকথিত পীর শাহ বশির মিয়ার বাড়ীর কথিত আস্তানার পাশে বশিরের অনুসারী সালেহা বেগমের উঠোনে বার্ষিক উর“সের আয়োজন করা হয়।

মূল উর“সের পাশে আরো দুটি আসর বসে। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে কাফেলা বলা হয়। এই আস্তানার পাশেই রয়েছে নিতেশ্বর দক্ষিণ জামে মসজিদ। দোয়া-কালাম দিয়ে উরুস শুরু হলেও রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে স্টেজে পালাক্রমে নারী ও পুরুষ গায়করা আসেন। তারা শুরুতে বিভিন্ন মারিফতি ও বাউল গান গাইলেও রাত বারোটার পরেই অন্যচিত্র দেখা যায়।

সরেজমিন আরো দেখা যায়, স্টেজে রুপা সরকার নামে একজন মেয়ে গান গাইছেন আর স্টেজের সম্মুখভাগ জুড়ে উঠতি বয়সের যুবকেরা বিভিন্নভাবে অঙ্গভঙ্গি করে শরীর দোলাচ্ছে।দর্শকসারি থেকে উচ্চ আওয়াজ দিয়ে টাকার নোট উঁচু করে ধরা হয়। গায়িকা তখন স্টেজ থেকে নেমে নেচেগেয়ে দর্শকদের মন ভোলাতে ভোলাতে টাকা গ্রহণ করে।

মূল স্টেজের পাশে আরো দুটি আসর বসে। সেখানেও নারীশিল্পীরা নেচে নেচে ‘মধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা’সহ উত্তেজক গান পরিবেশন করে। স্টেজে লাগানো ব্যানারে আয়োজক কমিটির সদস্যদের ছবিসহ নাম টানানো ছিল।এর মধ্যে উজ্জ্বল আহমদ রানা, কামাল মিয়া, বশির মিয়া, আফজল মিয়া, সালেহা বেগম, আল আমিন, নূরুল আমিন, তোতা মিয়া প্রমুখের নাম উল্লেখ্যােগ্য ।

স্থানীয় বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, রাত তিনটার পরে হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে আনা সুন্দরী নারীদেও দিয়ে সুরক্ষিত একটি ঘরে নৃত্য পরিবেশন ও পুর“ষদের মনোরঞ্জন করানো হয়।স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, হযরত আব্র“ মিয়া গাছপীর (র.)’র মূল মাজার শ্রীমঙ্গলের সিরাজনগরে অবস্তি।

তিনি জীবিত থাকাবস্থায় মৌলভীবাজার সদরের গিয়াসনগর ইউনিয়নের নিতেশ্বরের বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করেছেন। এবাড়িগুলোতে একটি ধর্মব্যবসায়ীমহল দেয়ালের বেষ্টনী দিয়ে এ স্থানকে আস্তানা হিসাবে নামকরণ করেছে।শাহ বশির মিয়ার আস্তানা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নিতেশ্বর শেফা হাসপাতালের নিকটে রয়েছে বশির মিয়ার শ্বশুর লাল মিয়ার তত্বাবধানে পরিচালিত আরেকটি আস্তানা।

গাছপীরের নাম লাগিয়ে এ দুটি আস্তানায় প্রতিবছর একই কার্যক্রম চলে বলে জানান নিতেশ্বর গ্রামের বাসিন্দারা। নিতেশ্বর গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মজনু মিয়া বলেন, কালা শাহ, শাহ গাজী ও গাছপীর সাহেবের মত ওলিদের মাজার ও আস্তানা কেন্দ্রিক যে ঢোল- ঢপকি ও গান বাজনা আয়োজন করা হয় তা সত্য।

আমি তার ঘোরবিরোধী। আগে এসব শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ড কম ছিল ইদানিং তা বেড়ে গেছে। স্থানীয় মেম্বার শেখ কাশেম আলী মেয়ে-ছেলে মিলে গান বাজনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার এলাকার প্রতি মেলাতে গান-বাজনা হয় তবে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত ১৩ মাঘ মোতাবেক ২৬ জানুয়ারি নিতেশ্বরের হযরত শাহ গাজীর মাজারে উরুসের নামে ব্যান্ডপার্টির আয়োজন করা হয়।একে কেন্দ্র করে মাঠে মেলা বসে।ব্যান্ড দলের সদস্যরা কাফেলা নিয়ে ব্যান্ড বাজাতে বাজাতে মাজার ও আশপাশ প্রদক্ষিণ করে।

একই চিত্র নিতেশ্বরের কালা শাহর মাজারে পরিলক্ষিত হয়। তাদের এই কার্যক্রমে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলছেন না।এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জেনে সেখানে উপস্তি হই ও বাইরের মাইক খুলে ফেলি। তিনি উরুসে বাউল গান চলে বলে জানান।

এইবেলাডটকম/কাঁকন/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71