বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
কণ্ঠশিল্পী  ডঃ ভূপেন হাজারিকার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০১:০০ pm ০৫-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:৩০ pm ০৫-১১-২০১৬
 
 
 


 

প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং কণ্ঠশিল্পী  ডঃ ভূপেন হাজারিকা (জন্মঃ- ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯২৬ - মৃত্যুঃ- ৫ নভেম্বর, ২০১১)।

তিনি মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই গান লিখে সুর দিতে থাকেন। আসামের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সূচনা হয় এক শিশুশিল্পী হিসেবে। ১৯৩৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি অসমীয়া ভাষায় নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা পরিচালিত ইন্দুমালতী ছবিতে "বিশ্ববিজয় নওজোয়ান" শিরোনামের একটি গান গেয়েছিলেন। পরে তিনি অসমীয়া চলচ্চিত্রের একজন নামজাদা পরিচালক হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশ, আসাম ও তার প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক ও বিশাল। অসমীয়া ভাষা ছাড়াও বাংলা ও হিন্দি ভাষাতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন এবং অনেক গান গেয়েছেন। অবশ্য এসব গানের অনেকগুলোই মূল অসমীয়া থেকে বাংলায় অনূদিত।

বাংলা গান
ভূপেন হাজারিকার গানগুলোতে মানবপ্রেম, প্রকৃতি, ভারতীয় সমাজবাদের, জীবন-ধর্মীয় বক্তব্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এছাড়াও, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী সুরও উচ্চারিত হয়েছে বহুবার।

আজ জীবন খুঁজে পাবি, আমি এক যাযাবর, আমায় ভুল বুঝিস না, একটি রঙ্গীন চাদর, ও মালিক সারা জীবন, গঙ্গা আমার মা, প্রতিধ্বনি শুনি, বিস্তীর্ণ দুপারে, মানুষ মানুষের জন্যে, সাগর সঙ্গমে, হে দোলা হে দোলা, চোখ ছলছল করে, চলচ্চিত্র জগতে

পুরস্কার
২৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক চলচ্চিত্র 'চামেলী মেমসাহেব' ছবির সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।(১৯৭৫)
পদ্মশ্ৰী (১৯৭৭)
'শ্রেষ্ঠ লোকসঙ্গীত শিল্পী' হিসেবে 'অল ইন্ডিয়া ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার' (১৯৭৯)
অসম সরকারের শঙ্করদেব পুরস্কার (১৯৮৭)
দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৯২)

জাপানে এশিয়া প্যাসিফিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুদালী ছবির শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার অর্জন। তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই পুরস্কার পান। (১৯৯৩)
পদ্মভূষণ (২০০১)
অসম রত্ন (২০০৯)
সঙ্গীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার (২০০৯)

স্বীকৃতি
১৯৯৩ সালে ড. ভুপেন হাজারিকা অসম সাহিত্য সভার সভাপতি হন।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে অল আসাম স্টুডেন্টস্‌ ইউনিয়নের উদ্যোগে গুয়াহাটির ডিঘালিফুখুহুরি হ্রদের তীরবর্তী জিএসবি রোডে একটি স্মারক ভাস্কর্য তৈরী করে। আসামের ভাস্কর্যশিল্পী বিরেন সিংহ ফাইবার গ্লাস ও অন্যান্য পদার্থ সহযোগে চমকপ্রদ 'ড. ভুপেন হাজারিকা ভাস্কর্য' তৈরী করেন।
জন্ম ও শিক্ষা
আসামের সদিয়ায় ভূপেন হাজারিকার জন্ম। তাঁর পিতার নাম নীলকান্ত হাজারিকা, মায়ের নাম শান্তিপ্রিয়া হাজারিকা। পিতা-মাতার দশ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সকলের বড়।
তিনি ১৯৪২ সালে গুয়াহাটির কটন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট আর্টস, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বি.এ. এবং ১৯৪৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ. পাস করেন। ১৯৫২ সালে নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল "প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষায় শ্রবণ-দর্শন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভারতের মৌলিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রস্তুতি-সংক্রান্ত প্রস্তাব"।
মৃত্যু
ড. ভূপেন হাজারিকাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানী হাসপাতাল ও চিকিৎসা গবেষণা ইন্সটিটিউটের আইসিইউতে ৩০ জুন, ২০১১ সালে ভর্তি করা হয়। অতঃপর তিনি কিডনী বৈকল্যসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ৫ নভেম্বর, ২০১১ সালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 
…………………………
মানুষ মানুষের জন্যে
জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহানুভূতি কি
মানুষ পেতে পারে না… ও বন্ধু।
মানুষ মানুষকে পণ্য করে,
মানুষ মানুষকে জীবিকা করে,
পুরোনো ইতিহাস ফিরে এলে
লজ্জা কি তুমি পাবে না… ও বন্ধু।
বলো কি তোমার ক্ষতি
জীবনের অথৈ নদী
পার হয় তোমাকে ধরে
দুর্বল মানুষ যদি।
মানুষ যদি সে না হয় মানুষ
দানব কখনো হয় না মানুষ
যদি দানব কখনো বা হয় মানুষ
লজ্জা কি তুমি পাবে না… ও বন্ধু।
……………………………

কথা - শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সুর - ভূপেন হাজারিকা

বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের
হাহাকার শুনেও
নিঃশব্দে নিরবে ও গঙ্গা তুমি
গঙ্গা বইছ কেন
নৈতিকতার স্খলন দেখেও
মানবতার পতন দেখেও
নির্লজ্জ অলস ভাবে বইছ কেন
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে
লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী
আর অগ্রগামী করে তোলনা কেন
জ্ঞান বি‌হীন নিরক্ষরের
খাদ্য বিহীন নাগরিকের
নেতৃবিহীনতায় মৌন কেন
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে
লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী
আর অগ্রগামী করে তোলনা কেন
ব্যক্তি যদি ব্যক্তি কেন্দ্রিক
সমষ্টি যদি ব্যক্তিত্বরোহী
তবে শিথিল সমাজকে ভাঙ না কেন
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে
লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী
আর অগ্রগামী করে তোলনা কেন
স্রোতস্বিনী কেন নাহি বও
তুমি নিশ্চই জা‌‌হ্ণবী নও
তা‌হলে প্রেরণ দাও না কেন
উন্মত্ত ধরার কুরুক্ষেত্রের
শর শয্যাকে আলিঙ্গন করা
লক্ষ কোটি ভারত বাসিকে
জাগালে না কেন।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71