মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৯ই মাঘ ১৪২৫
 
 
কূটনীতিকরা ব্যস্ত সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে
প্রকাশ: ০৩:৫৭ am ২৪-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০৩:৫৭ am ২৪-০৩-২০১৫
 
 
 


সংলাপ নয় কূটনীতিকরা ব্যস্ত সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণেবর্তমান সরকারের বিরোধী পক্ষের পৌনে তিন মাস ধরে চলা অবরোধের সঙ্গে থেমে থেমে দেয়া হরতালের বাস্তবতায় ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন পর্যবেক্ষণ। সহিংসতা বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা ও জনজীবন স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে এতদিন কূটনীতিকরা সংলাপে বসার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে। গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তারা ভিন্ন পর্যবেক্ষণে নেমেছেন।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন হয়, সরকার বিএনপিকে কতটুকু ছাড় দেবে এবং বিএনপিও কী করছে সে বিশ্লেষণে এখন ব্যস্ত রয়েছেন অনেক কূটনীতিক। এর মধ্যে আবার এগিয়ে আছে পশ্চিমা দেশগুলো, যারা এতদিন সংলাপ সংলাপ বলে মুখে ফেনা তুলেছিল। ঢাকার কয়েকটি বিদেশি মিশনের মধ্যম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এ ধরনের তথ্য মিলেছে।
তবে গত শনিবার রাতে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণই তাদের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে রাজনৈতিক সংকট শুরু হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সংলাপে বসার আয়োজনের সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি নিল ওয়াকার। আর রবার্ট ওয়াটকিন্স তারই স্থলাভিষিক্ত।
গত ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্য সরকারের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে কর্মসূচি দেয় বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। প্রথমদিকে তারা অবরোধ দিলেও পরে থেমে থেমে হরতাল দেয়। জানুয়ারি দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে শুরু হয় সহিংসতা। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ও ঢাকায় নিযুক্ত প্রভাবশালী ১৬ দেশের কূটনীতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথক চিঠি লেখেন সংলাপে বসার জন্য। এর পর সমানে চলে কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের শুরু থেকে কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ হঠাৎ করে থেমে গেলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক প্রকার স্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে গত ৩ মার্চ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্ল–ম বার্নিকাটসহ ১৬ কূটনীতিক দেখা করার পর তাদের আর তেমন দৌড়ঝাঁপে দেখা যায়নি।
গত দু’দিনে নানা সূত্রে খরব নেয়া হয় এখন কূটনীতিকরা কি করছেন বা কি ভাবছেন? জবাবে ইউরোপভুক্ত দূতাবাসের মধ্যম শ্রেণীর এক কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিকরা বসে নেই। রাজধানীসহ দেশের কোন কোন এলাকায় সহিংসতা হচ্ছে বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন তা পর্যবেক্ষণ চলছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসাতে না পারার ব্যাপারে অনেক কূটনীতিকের মধ্যে হতাশা থাকলেও গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর নতুন পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তা বলেন, আমার মিশন প্রধান এরই মধ্যে সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য ভোটকে ঘিরে রাজনীতি যে বদলে যেতে শুরু করছে তা তার প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন। মোটদাগে বলা যায় এ নির্বাচন কূটনীতিকরা পর্যবেক্ষণ করতে চায়।
অপর এক দূতাবাসের কূটনীতিক বলেন, এ নির্বাচন যদিও দলীয় নির্বাচন নয় তারপরও বড় দুই দলের প্রার্থী ঘোষণার ব্যাপারে যে প্রস্তুতি বা হাকডাক দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে দুই বড় শহরের মানুষ নির্বাচনমুখী হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটা নির্বাচনে যদি অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হয় তাহলে আন্দোলন আপনা আপনি থেমে যাবে সে খবর কূটনীতিকদের কাছে রয়েছে। ফলে তারা এখন এ নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ কেমন হবে সে পর্যবেক্ষণে থাকতে চায়।
সংলাপের ব্যাপারে অবস্থান কি এমন উত্তরে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সিটি নির্বাচনের আমেজটাকে এখন কূটনীতিকরা প্রাধান্য দিচ্ছেন। বৃহৎ পরিসরের ‘সংলাপ’ নামের বহু প্রত্যাশিত শব্দটিকে তারা আপাতত দৃষ্টিতে ‘বড়’ করে দেখছেন না।
সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এতে কূটনীতিকদের কেন পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিকরা সিটিতে অবস্থান করেন, আর রাজধানীর সিটি নির্বাচন বরাবরই বিশ্ববাসীর কাছে গুরুত্বের হয়ে দেখা দেয়। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক দেশ বাংলাদেশে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নানারকম সহায়তা করে থাকে, পাশাপাশি সুশাসন নিয়ে তাদের সবসময় প্রবল ইচ্ছার প্রতিফলন তো দৃশ্যমান। ফলে তাদের পর্যবেক্ষণ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, দিল্লির নির্বাচন যখন হয় তখন আমরা ঢাকার মানুষ দৃষ্টি রাখি, কে মসনদে বসছেন খোঁজখবর রাখি, ঠিক তেমনি কূটনীতিকরা ঢাকার নির্বাচন নিয়ে তাই রাখবেন এটা স্বাভাবিক।
নাম প্রকাশ না করে ওই কর্মকর্তা বলেন, এক কূটনীতিক গতকাল রোববার আমাকে ফোন করে বলেই ফেললেন ‘তোমাদের সিটি নির্বাচন তো বেশ ভালোই জমবে মনে হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71