বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি
প্রকাশ: ০৭:২৪ pm ১৬-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:২৪ pm ১৬-০৮-২০১৭
 
জামালপুর প্রতিনিধি :
 
 
 
 


জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। পানি হুহু করে বেড়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

উচুঁ জায়গায় ও আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতেও পানি উঠছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভানভাসী মানুষ। বুধবার যমুনার পানি বিপদসীমার ১৩৪সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। হুহু করে পানি প্রবেশ করছে বিস্তীর্ণ জনপদে। তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমির মাঠ ও গ্রামের পর গ্রাম। চরম দূর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের। রেল লাইনে পানি উঠায় জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ি রুটেও ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটাছুটি করছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। 

জেলার সব চেয়ে বেশি বন্যা কবলিত পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ গ্রামের আ: রহমান জানান, চারদিন থেকে আমাদের  বাড়িতে এক বুক পানি উঠেছে, বাড়িতে আর থাকতে পারছিনা অনেক কষ্ট করে এই তিনদিন থাকলাম। আজ অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছি।

কুলকান্দি ইউনিয়নের বেড়কুশা গ্রামের বিলকিছ বেগম জানান, বাপজান দু:খের কথা কি বলব আর। তিন চারদিন থেকে বাড়িতে এক কোমর করে পানি। কি খাচ্ছি না খাচ্ছি কেউ কোন খোজ খবর নিতে আসেনি। তিনি আরও জানান, এক বেলা রান্না করে নাতি পুতিদের সাথে নিয়ে কমকম করে তিনও বেলা খেতে হয়। হাস মুরগি বন্যার পানিতে বেসে গেছে, অনেক কষ্টে আছি।

পাথর্শী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতেখার বাবুল জানান, নয়টি গ্রামের ২০হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পার্থশী ইউনিয়নের নুরুল হুদা মাদরাসায় ৫শতাধিক পরিবার এবং জারুল তলা ব্রীজে ৩শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ: সালাম জানান, পুরো ইউনিয়ন বন্যায় পানি থইথই করছে, বন্যা কবলিত মানুষ পানি বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। রাস্তাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় ইসলামপুরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকেরই জিনিসপত্র, হাঁস মুরগী বন্যার পানিতে ভেঁসে গেছে।

নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, তার ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১৪টি গ্রামের ১২হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, তার পুরো ইউনিয়ন বন্যার পানিতে ভাসছে। বিশুদ্ধ পানি সহ খাবর সংকট দেখা দিয়েছে। 

বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আ. মালেক জানানা, বেলগাছার প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২০হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে চর দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। নদী ভাঙ্গনে ৭টি বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছে।
কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট জানান,জিগাতলা,কুলকান্দি,বেড়কুশাসহ ১০টি গ্রামের ২০হাজার মানুষ পানি বন্ধী রয়েছে। 
সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান শাহিন বলেন, পাঁচবাড়িয়া, পচাবহলা, ধর্মকুড়া, সোনামূখি, ফকিরপাড়া, গঙগাপাড়া, শংকরপুর এলাকাগুলোতে ৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। পাঁচবাড়িয়া সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান সাহাদত হোসেন ডিহিদার স্বাধীন জানান, চর বাটিকামারি, উত্তর সিরাজাবাদ, দক্ষিণ সিরাজাবাদ, পূর্ব বাহাদুরপুর, দক্ষিণ বাহাদুরপুর ৫টি গ্রামের ৫হাজার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে । এছাড়াও গোয়ালেরচর, গাইবান্ধা ও চরগোয়ালীনি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন, নোয়ার পাড়া, সাপধরী, চিনাডুলী, বেলগাছা, কুলকান্দি পাথর্শী ও পলবান্ধা ইউনিয়নের ১৪৭ গ্রামের ২২হাজার পরিবারের ১লক্ষ ৯ হাজার ৫০০ জন মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। 

তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিববন্ধী হয়ে পড়েছে।

ও/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71