শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
দূরে থাকুন মিষ্টি থেকে
প্রকাশ: ০৯:২১ am ৩১-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:২১ am ৩১-০৭-২০১৭
 
 
 


মিষ্টিজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারন। সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু চিনিই নয়, কৃত্রিম চিনি থেকে তৈরি খাবারও বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি খাবার খেলে অবসাদের শিকার হতে পারেন- এমনই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর এক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।  

বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টি খেলে পুরুষদের মধ্যে মেন্টাল ডিজঅর্ডার দেখা যায়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী অ্যানিকা নুপ্পেল জানিয়েছেন, অতি মাত্রায় মিষ্টি খেলে শারীরিক ক্ষতি তো হয়ই, মিষ্টির সঙ্গে মানুষের মেজাজের এক বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে। এমনিতেই ডায়েট চার্ট মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। কিন্তু ডায়েটে যদি অধিকাংশ ভাগই মিষ্টি থাকে, তা হলে অবসাদ বা অ্যানজাইটির মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।  

বিজ্ঞানীরা সমীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, পাঁচ বছরে যাঁরা বেশি মাত্রায় মিষ্টি খাবার ও পানীয় খেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই অবসাদে আক্রান্ত হয়েছেন। তার তুলনায় যারা কম মিষ্টি খেয়েছেন তারা কম অবসাদগ্রস্ত হয়েছেন। অ্যানিকা নুপ্পেল জানিয়েছেন, সাধারণত মানুষের মেজাজ খারাপ থাকলে তাদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তারা ভাবেন, মিষ্টি খেলেই মেজাজ ভাল হয়ে যায়। কিন্তু সাময়িক ভাবে মেজাজ ঠিক হলেও, অবসাদে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।  

চিকিৎসকদের মতে, অবসাদ বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলেছে। অধিকাংশ রোগেরই মূল কারণ অবসাদ বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কম বয়স থেকেই অবসাদের শিকার হলে, ব্লাড সুগার, স্নায়ু রোগ, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। এই রোগগুলিই বেশি দূর পর্যন্ত গড়ালে মৃত্যুও হতে পারে। মিষ্টির কিছু নেতিবাচক দিক নিচে তুলে ধরা হলো-
 
১. স্মৃতিশক্তির ক্ষতি
অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার-পানীয় বা চিনি খেলে স্মৃতিশক্তির ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার কারণে দেহে যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন উৎপন্ন হতে পারে না। এতে মস্তিষ্কের অনেক কার্যক্রম বদলে যায়। ফলে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে—এমন রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। 
 
২. ধূমপানের ক্ষতি বাড়ায়
ধূমপানের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির বিষয়টি অনেকেই জানেন। চিনি সিগারেটের এ ক্ষতিকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। তামাক অনেক সময় এর স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরিত করে। এমনকি চিনি ধূমপায়ীদের আরো ধূমপানে উৎসাহী করে তোলে। চিনি বেশি খেলে ধোঁয়া ফুসফুসের আরো গভীরে পৌঁছে এবং তা বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। 
 
৩. ক্যান্সার
অতিরিক্ত চিনির কারণে ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে কোষগুলো ইনসুলিনের সঙ্গে সঠিকভাবে কাজ করে না। তাতে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে নানা ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টি করে। 
 
৪. নেশা
চিনি খাওয়া এক ধরনের নেশা। এটি আমাদের মস্তিষ্ক ও দেহের নানা রাসায়নিককে উজ্জীবিত করে। এতে আমরা আরো বেশি পরিমাণে চিনি গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠি। 
 
৫. হৃদরোগ
অতিরিক্ত চিনি খেলে তা দেহে বাড়তি ইনসুলিনের কারণ হয়ে ওঠে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ইনসুলিন দেহের নার্ভাস সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে রক্তচাপ বেড়ে যায়। বাড়তি রক্তচাপ থেকে হতে পারে নানা হৃদরোগ।

এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71