রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
পানির উপরে ভাসছে লালমনিরহাট
প্রকাশ: ০৬:৩২ pm ১৪-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:৩২ pm ১৪-০৮-২০১৭
 
লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
 
 
 
 


কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বন্যায় ভাসছে লালমনিরহাট। দুর্ভোগ আর ভোগান্তি চরমে উঠলেও নেই কোনো ত্রাণ সহায়তা।

টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান সহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের ৪৯ হাজার ৮৬০টি পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে পানিবন্দী মানুষ। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও সবজি বাগান। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে কাঁচা তরি-তরকারির বাজারে।
 
পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকার পুকুর, ডোবা, ঘের তলিয়ে গেছে। এতে করে এসব জায়গায় চাষ করা মাছ ভেসে গেছে পানির তোড়ে। 

জেলার বিভিন্ন এলাকায় বানের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার সতী নদীগুলো উপচে লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। চাপারহাট এস. কে কলেজের প্রভাষক ভুবেনেশ্বর রায় বলেন, "আমার জীবনে আমি সতী নদীর পানি উপচে এত বন্যা হতে দেখিনি বা আমাদের এলাকায় বন্যার কথা শুনিনি"।

রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি উঠায় পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি  স্থলবন্দরের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ  হয়েছে। 
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুনা ইউনিয়নের হলদীবাড়ি এলাকার ফুল মিয়া বলেন, "সারা বাড়িতে খালি পানি আর পানি, হামরা (আমরা) তিনদিন থাকি (থেকে) কোনো  রান্না-বান্না কিছুই করির পাই নাই বাহে। বাজার থাকি কিনা আর চিড়া-মুড়ি খেয়ায় আছি।" গতকাল রাত থেকে পানি কমা শুরু হয়েছে তবে এখনও বসবাসের উপযোগী নয় বলে জানান তিনি।

অনেক এলাকায় শ্রমিকদের কাজ-কর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। অতি দরিদ্র শ্রেণির মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। আদিতমারী উপজেলার স্বর্ণামতি নদী ও ব্রেইলি ব্রিজের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো পানিবন্দী হয়ে অনেক ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

একটানা ১৩ দিন ধরে তলিয়ে যাওয়া রোপা আমন ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হওয়ায় চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকার কৃষক এখন দিশেহারা। বীজ তলায় চারা না থাকায় চলতি আমন মৌসুমে অধিকাংশ জমি খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাত থেকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বন্যা কবলিত এলাকার বানভাসি মানুষগুলোর পরিবারে ডাইরিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহ জরুরী হলেও কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি বন্যার্থরা।

 

এস/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71