সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বাঙালির প্রেরণার উৎস
প্রকাশ: ১২:০৩ pm ০২-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:০৩ pm ০২-১১-২০১৭
 
মুস্তাফা নূরউল ইসলাম
 
 
 
 


বাংলাদেশ- যাত্রা শুরু অভিযানের অন্যতম অগ্রপথিক, নাম-পরিচয়ে তিনি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। আজকের প্রজন্ম জানুক, রাজনৈতিক কর্মী-নেতা ধীরেন্দ্রনাথের সেই বিশ্বাস মাতৃভূমি বাংলাদেশের ধ্রুবতায় এবং একই সঙ্গে তারা জানুক, ইতিমধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ আর ব্যক্তিমানুষে সীমাবদ্ধ নন, বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের কর্মকাণ্ডে তাবত প্রতিরোধের মূর্ত প্রতীকে পরিণত। বাঙালিত্বের প্রেরণার প্রতীককে চিনতে বৈরী শক্তি ভুল করেনি। একাত্তরে পাকিস্তানিরা তাকে হত্যা করেছিল। এটাই সম্ভবত নিয়তি- রক্তের দামে স্বদেশপ্রেমের ঋণশোধ করতে হয়। 

সাতচল্লিশের আগস্টে পার্টিশন, কায়েম হয়ে গেল পাকিস্তান। সেকালে ফতোয়া-ফরমান জারি করা হতো ইসলামের নামে, পাকিস্তানের নামে। সাধারণ মানুষ টেরও পায়নি অন্তরালের কোন অন্ধকার থেকে প্রসারিত হচ্ছে আগ্রাসনের থাবা বাঙালির আর্থ-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যাপকতর ক্ষেত্রে। অতএব বিস্ময় কী যে, ওদের আক্রমণাভিযান সর্বপ্রথম ধাবিত হয়েছিল আমাদের মাতৃভাষার ক্ষেত্রে। ফতোয়া এলো বাংলা ভাষা কুফরি জবান, বাংলা অক্ষর কুফরি হরফ।

প্রতিরোধ চেষ্টাও ছিল। অবশ্য গোড়াতে আন্দোলন তেমন ব্যাপক গভীর এবং দেশব্যাপী উত্তাল ছিল না, যদি তা উপমিত করি বায়ান্নর-চুয়ান্নর আন্দোলনের সঙ্গে, শেষ ষাটের সত্তর-একাত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে। বরং এই মতো বর্ণনা করা যেতে পারে, 'সে প্রত্যুষে অধিক লোক জাগে নাই।' হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র- অধ্যাপক, লেখক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র-তরুণদের সদ্য গঠিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, আর গোটা দু-তিনেক পত্র-পত্রিকা। তখন অধিক লোক জাগেনি, তবে ভবিষ্যৎ যথার্থই অনুধাবনে সমর্থ হয়েছিলেন মুষ্টিমেয় কতিপয় বিশিষ্টজন- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌, অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, ডা. মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখ।

শেষ অবধি প্রায় সবাই (ব্যতিক্রম অবশ্য ছিলেন সামান্য সংখ্যক) বিশ্বাসঘাতকতা করেন, একেকজন একেক কিসিমের ফায়দা লুটে নিয়ে। কেউ মন্ত্রী হলেন, ক্ষমতার সিংহাসনে বসলেন, কেউ রাষ্ট্রদূত, কেউ কেউ পেলেন নানা আর্থ-রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা। এই প্রেক্ষিতে অতিপ্রাসঙ্গিক, এখানে আসবে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভূমিকার কথা। তখন ১৯৪৮-এ তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে? এটা ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা। মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি প্রস্তাবিত উর্দুর বিরোধিতা করে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উত্থাপন করেছিলেন বাংলা ভাষার দাবি। গণপরিষদে প্রদত্ত তার সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য মূলের থেকেই বলা যাক, Out of six crores and ninety lakhs of people inhabiting this state, 4 crores and 40 lakhs of people speak the Bengalee language. So, sir, what should be the state language of the state? The state language of the state should be the language which is used by the majority of the people of the state, and for that. Sir, I consider that Bengalee language is a lingua franca of our state.

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষাই নয়, নানান ভাষী পাকিস্তানিদের মধ্যে ভাববিনিময়ে এবং যোগাযোগের ভাষা লিংগুয়া ফ্রাংকা হিসেবেও বাংলা একক স্থানের দাবি। একে হিন্দু, তার বাঙালি, ততোধিক কংগ্রেসি নেতা ধীরেন্দ্রনাথকে জর্জরিত করে ছেড়েছিলেন লিয়াকত আলী-নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে পাকিস্তানি পুঙ্গববৃন্দ। বাঙালি মুসলমান পার্লামেন্টারি সদস্য একটি প্রাণীও পক্ষে দাঁড়ায়নি আপন মাতৃভাষার সমর্থনে। এ যেন কারবালার ময়দানে কাসেমের লড়াই, কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে সপ্তবূ্যহ বেষ্টিত অভিমন্যুর সংগ্রাম। পূর্ব পাকিস্তানে আমাদের কাছে ১১ মার্চ তখনও অনাগত ভবিষ্যৎ। কী আকাট অজ্ঞ ছিলাম তখন আমরা, অনেকেরই জানা ছিল না সুদূর করাচিতে পাকিস্তান কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লির ফ্লোর- এ কোন এক ধীরেন দত্তের অমন দুঃসাহসী ভূমিকার কথা। অথচ ইতিমধ্যে ৪০ বছরেরও অধিককালে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামী জীবন অতিক্রম করে এসেছেন। দীক্ষা সারেন্ডার নট ব্যানার্জি সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির কাছে, আপসহীন লড়ে এসেছেন স্বদেশি আন্দোলনে, অসহযোগ আন্দোলনে, আইন অমান্য আন্দোলনে, কুইট ইন্ডিয়া আন্দোলনে। বারবার কারারুদ্ধ হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশের মানুষ তাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে বঙ্গীয় আইনসভায়, পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে, পাকিস্তান গণপরিষদে। মন্ত্রীও হয়েছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের পালাবদলের কালে, চুয়ান্নতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন বিজয়ের পর। তবে ধীরেন্দ্রনাথ বিবেচনায় মনে করি 'এহ বাহ্য'। একাত্তর নাগাদ ধীরেন্দ্রনাথ আর দত্তজ মাত্র নন, কুমিল্লার এক জমিদার বংশের সন্তান মাত্র নন, এমনকি খ্যাতকীর্তি রাজনীতিবিদ পরিচিতিতেও আবদ্ধ নন। যারা জানতেন- ঘর-বংশ-পদ অবস্থান ছাড়িয়ে অনেক অনেক ব্যাপকতায় তিনি ছড়িয়ে গেছেন। মানুষটি মুক্ত বাংলার বাঙালিত্বের প্রেরণার আরেক উৎস।

শিক্ষাবিদ

 

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71