বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক, সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ ও লেখক:দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রকাশ: ১১:০৭ am ১৫-০৫-২০১৫ হালনাগাদ: ১১:০৭ am ১৫-০৫-২০১৫
 
 
 


 ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক, সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ ও লেখক হিসেবে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর খ্যাতিমান। তিনি ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য ও সমাজ নিয়ে অনেক বই লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ছোট ছেলে। ১৮১৭ সালের এ দিনে (১৫ মে) তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
দেবেন্দ্রনাথের বাবার নাম প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ও মা দিগম্বরী দেবী। ১৮২৩-২৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাড়িতে পড়াশোনা করেন। ১৮২৭ সালে রাজা রামমোহন রায় প্রতিষ্ঠিত অ্যাংলো হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে কিছুকাল পড়ার পর বাবার বিষয়সম্পত্তি ও ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি দর্শন ও ধর্মচর্চা শুরু করেন। ১৮৩৮ সালে দাদার মৃত্যুকালে তার মানসিক পরিবর্তন ঘটে। সে সময় ধর্ম বিষয়ে আগ্রহী হন। এরপর মহাভারত, উপনিষদ ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৮৩৯ সালে পার্থিব বিষয়ের প্রতি বীতস্পৃহা ও ঈশ্বরলাভের আকাঙ্খায় তত্ত্বালোচনা করতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘তত্ত্বরঞ্জনী সভা’। এই সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ সভার আচার্য পদ গ্রহণ করলে– আচার্য এই নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’।
১৮৪০ সালে কঠোপনিষদের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন দেবেন্দ্রনাথ। ১৮৪২ সালে তত্ত্ববোধিনী সভা ও ব্রাহ্মসমাজের দায়িত্ব নেন। পরের বছর তার অর্থে ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। এ পত্রিকায় দেবেন্দ্রনাথের বঙ্গানুবাদে উপনিষদ প্রকাশিত হতে থাকে। তার প্রচেষ্টায় প্রকাশ্য সভায় বেদপাঠ শুরু হয়। ১৮৪৪ সালে প্রথম ব্রহ্মোপাসনা পদ্ধতি প্রণয়ন করেন ও পরের বছর থেকে তা ব্রাহ্মসমাজে ব্যবহৃত হতে থাকে।
দেবেন্দ্রনাথ দীর্ঘ শাস্ত্রচর্চার পর উপলব্ধি করেন, শুধু উপনিষদের ওপর ব্রাহ্মধর্মের ভিত্তি স্থাপন সম্ভব নয়। তাই ১৯৪৮ সাল থেকে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় ঋগ্‌বেদের অনুবাদ প্রকাশ করতে শুরু করেন। ১৮৬৯ সালে যা ব্রাহ্মধর্ম নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৮৫০ সালে তার আরেকটি বই আত্মতত্ত্ববিদ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮৫৩ সালে তত্ত্ববোধিনী সভার সম্পাদক নিযুক্ত হন ও ১৮৫৯ সালে ব্রাহ্মবিদ্যালয় স্থাপন করেন।
তিনি পূজা-পার্বণা বন্ধ করে ‘মাঘ উৎসব’, ‘নববর্ষ’ ও ‘দীক্ষা দিন’ ইত্যাদি প্রবর্তন করেন। ১৮৬৭ সালে বীরভূমের ভুবনডাঙ্গা নামে একটি বিশাল এলাকা কিনে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। যা রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে পরিণত হয় বিখ্যাত শান্তিনিকেতনে। এ ছাড়াও হিন্দু চ্যারিটেবল ইনস্টিটিউশনের বেথুন সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
দেবেন্দ্রনাথ কিছুদিন রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৮৫১ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হলে সম্পাদক নিযুক্ত হন। দরিদ্র গ্রামবাসীদের চৌকিদারি কর মওকুফের জন্য চেষ্টা করেন ও ভারতের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি চিঠি লিখেন। তিনি বিধবাবিবাহে উৎসাহী ছিলেন এবং বাল্য ও বহু বিবাহের বিরোধী ছিলেন। শিক্ষাবিস্তারেও তার অবদান রয়েছে।
তার লেখা আরও কয়েকটি বই- বাংলা ভাষায় সংস্কৃত ব্যাকরণ, বেদান্তিক ডকট্রিনস ভেন্ডিকেটেড, ব্রাহ্ম বিবাহ প্রণালী, ব্রাহ্ম সমাজের পঞ্চবিংশতি বৎসরের পরীক্ষিত বৃত্তান্ত, জ্ঞান ও ধর্মের উন্নতি এবং স্বরচিত জীবনচরিত (আত্মজীবনী)।
খ্রিস্টধর্মের প্রভাব থেকে ভারতীয় যুবকদের রক্ষার জন্য ১৮৬৭ সালে রাধাকান্ত দেব তাকে ‘জাতীয় ধর্মের পরিরক্ষক’ ও ব্রাহ্ম সমাজ ‘মহর্ষি’ উপাধিতে ভূষিত করে।
১৮৩৪ সালের মার্চ মাসে যশোরের রামনারায়ণ চৌধুরীর মেয়ে সারদাসুন্দরী দেবীকে বিয়ে করেন দেবেন্দ্রনাথ। এ দম্পতির ছয় মেয়ে ও নয় ছেলে।

১৯০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাবসান ঘটে।

এইবেলা.কম/এইচ আর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71