মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১লা কার্তিক ১৪২৫
 
 
মধ্যযুগে সমকামী নারীদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি!
প্রকাশ: ১০:৪৯ am ২৮-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ১০:৪৯ am ২৮-১১-২০১৬
 
 
 


মধ্যযুগকে ইতিহাসে বর্বর যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তখন মানুষের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হত যা পশুর সঙ্গেও করা হয় না! সেই যুগে সমকামী বা অপরাধের জন্য নারীদের ভয়ংকর অস্ত্রের সাহায্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিয়ে হত্যা করা হতো। ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে মধ্যযুগের সেসব অস্ত্র রাখা আছে সেগুলো দেখে ধারণা করা যায় কতটা ভয়ঙ্কর ছিল মধ্যযুগ।

 

শরীর খামচে মাংশ তোলার জন্য এই অস্ত্রটি ব্যবহার করা হত


মধ্যযুগে সমকামী নারীদের ভয়াবহ শাস্তি দেওয়া হতো। এক ধরনের লোহার তৈরি অস্ত্র সমকামী নারীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। এই অস্ত্রগুলোকে পেয়ার অব অ্যাংগুয়িস বলা হতো। তবে শাস্তি দেওয়ার আলাদা আলাদা ধরণ ছিল। সব অপরাধের জন্য একই শাস্তি দেওয়া হতো না। যেমন কেউ মিথ্যা কথা বললে বা কাউকে অপমান করলে এই অস্ত্রগুলো তার মুখে ঢুকিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হতো তার মুখ।

 

পোল্যান্ডের লুবুস্কা ল্যান্ড জাদুঘরে সংরক্ষিত মধ্যযুগীও অস্ত্র। এ অস্ত্রটি নারীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে শাস্তি দেওয়া হত

আবার গর্ভপাতের জন্যও ছিল আলাদা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। কোন নারী গর্ভপাত করলে তার যৌনাঙ্গে এই অস্ত্রগুলো প্রবেশ করিয়ে তাকে মেরে ফেলা হতো। অনেক সময় তাকে না মেরে ফেলে শুধু যন্ত্রণা দেওয়া হতো। এ বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করতো সমাজের উপর শ্রেণির মানুষ।

 

এই অস্ত্রগুলো নারীর গর্ভপাত, সমকামিতা, মিথ্যাবাদিতা ও মানুষকে অপমান করার অপরাধে শাস্তি দেওয়া হত

সবার ক্ষেত্রে সমান বিচার হতো না। ধনীরা হাজার অপরাধ করেও পার পেয়ে যেতো কিন্তু সমাজের অবহেলিত মানুষ এই ভয়ংকর শাস্তি ভোগ করতো।

স্পেনের করডোভার একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত মধ্যযুগীও অস্ত্র। নারীতের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিও একটি ভয়ংকর অস্ত্র


আবার জাদুবিদ্যায় অভ্যস্ত নারীকে কিছু অস্ত্র দিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। তাদের বেশির ভাগকে শাস্তি দিয়ে মেরে ফেলা হতো। আর যারা বেঁচে থাকত তারা দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়েই বেঁচে থাকতেন।


অস্ট্রিয়ার জাদুঘরে সংরক্ষিত একটি ভয়ংকর অস্ত্র

এই অস্ত্রগুলো কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরিও করা হয়েছিল। যেমন লোহা, স্টিল, তামার মত কঠিন ধাতু প্রাধান্য পেত এগুলো তৈরিতে। তীরের ফলাতে যেভাবে খাঁজ কাটা থাকে ঠিক তেমনি এই অস্ত্রগুলোতেও খাঁজ কাটা থাকতো। এর আগাগুলো সরু ও ধারালো এবং গোড়ার অংশ ধার অপেক্ষাকৃত মোটা থাকতো।


একবার এসব অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে বাকি জীবন কখনো স্বাভাবিক হতে পারতেন না

তবে অস্ত্রগুলো দিয়ে সব নারীকে হত্যা করা হতো না। কিছু কিছু নারীকে বাঁচিয়ে রাখা হত। তাকে যন্ত্রণা দেওয়ায় ছিল আসল উদ্দেশ। তাই একবার এই শাস্তি ভোগ করা নারী সারাজীবনে আর কোনদিন সুস্থ হতে পারতেন না। ব্যথার জ্বালায় ছটফট করতেন সারাজীবন।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71