শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
যশোরে বিএডিসির গুদামে ৩শ’২০ টন সারের হদিস নেই
প্রকাশ: ০১:৫৪ am ০১-০৯-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:৫৪ am ০১-০৯-২০১৫
 
 
 


যশোর প্রতিনিধি : যশোরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গুদাম  থেকে ৩শ’২০ মেট্রিক টন সারের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের একটি কমিটি মজুদ সারের পরিমাণ ও কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যশোর জেলা প্রশাসক এবং বিএডিসি যশোর অঞ্চলের যুগ্ম-পরিচালক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৩১ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিএডিসির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

হদিস না পাওয়া মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার রাশিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা হয়। যার সরকারি দাম ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। খোলাবাজারে এর দাম অর্ধ কোটি টাকার বেশি।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যাচাই- বাছাই করতে গিয়ে যুগ্ম পরিচালক (সার) রতন কুমার মন্ডলসহ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এ অনিয়ম ধওে ফেলেছেন। এ ঘটনা ধরা পড়ার পর বিএডিসিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে গুদাম রক্ষক (স্টোর কিপার) আজগর আলীর কাছে লিখিতভাবে কৈফিয়ত তলব করেছেন যুগ্ম পরিচালক।

গংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর বিএডিসি সদর দপ্তর থেকে সারাদেশের মোট ১শ’ ১৭টি সার গুদাম বাস্তব যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হয়।

এরই আওতায় যশোরের পাঁচটি গুদাম শেখহাটি, রায়পাড়া-১, রায়পাড়া-২, চাঁচড়া-১ ও চাঁচড়া-২। এসব গুদামের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন স্টোরকিপার আজগর। তার কাছে এসব গুদামের সমস্ত চাবি সংরক্ষিত থাকে। স্টোরকিপার দায়িত্ব হচ্ছে গুদামে সার নেওয়া এবং ডিলারদের কাছে বিতরণ করা। এখানে অন্য কারো কোন হাত নেই।

যশোর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ। তদন্ত শেষে তিনি জেলা প্রশাসক ডঃ হুমায়ুন কবীরকে ৩শ’২০ মেট্রিকটন এমওপি সার ঘাটতি পড়েছে বলে জানিয়েছেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর এ সার হদিস না পাওয়ার তথ্য দিয়ে  জানান, ‘নিয়মানুযায়ী দেশের খাদ্য গুদামগুলো ছয় মাস পর পর ভেরিফিকেশন করা হয়। কিন্তুবিএডিসির সার গুদাম দীর্ঘ আট-নয় বছর ভেরিফিকেশন করা হয়নি।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী যশোরের সার গুদামগুলো ভেরিফিকেশনের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়। এই টিম ৩০ আগস্ট  যশোরের গুদামগুলো ভেরিফিকেশন করে।

বিএডিসি যশোর অঞ্চলের যুগ্ম-পরিচালক রতনকুমার মন্ডলও ৩শ’২০ টন এমওপি সার  খোয়া যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের নিরীক্ষা টিম ৩০আগস্ট যশোরের পাঁচটি গুদাম সরেজমিন পরিদর্শন করে। তারা গুদামগুলোতে মোট ৩২০ টন এমওপি সার ঘাটতি দেখতে পায়।

এ ব্যাপারে বিএডিসি যশোরের যুগ্ম পরিচালক (সার) রতন কুমার মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি এখানে দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র তিন সাড়ে তিন মাস হবে। এ সময়ে মধ্যে বিপুল পরিমাণ সার ঘাটতি হওয়ার সুযোগ নেই। এটি হয়েছে অনেক দিন ধরে। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’

এইবেলা ডট কম/পিকেদাস/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71