বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শিবগঞ্জে সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যা চেষ্টা
প্রকাশ: ০৫:৫২ pm ০৬-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৫২ pm ০৬-০৮-২০১৭
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
 
 
 
 


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সাংবাদিক রিপন আলি রকি ও তাঁর ভাই রাসেলকে জামায়াত নেতা আবু তালেবের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের শিবির ক্যাডারদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। 

তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক রিপন আলি রকি ও তাঁর ভাই রাসেলকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটে শ্যামপুর ইউনিয়নে ছোট হাদিনগর গ্রামে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে। পুলিশ সময়মত না পৌঁছালে হয়তো বা দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করত বলে ধারণা করছে তাঁর পরিবার ও স্থানীয়রা। সাংবাদিক রিপন আলি রকি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে প্রকাশিত “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” পত্রিকার শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ও অন্যান্য সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব করছেন।

জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং সম্প্রতি একটি তুচ্ছ ঘটনা পার্শ্ববর্তী সিহাবের সাথে চলাফেরার ঘটনা নিয়ে সৃষ্ঠ জটিলতা সমাধানের নাম করে রাত ১২টার দিকে আবু তালেবের বাড়িতে ডাকেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সুবিধাদি জামায়াত নেতা আবু তালেব নির্দেশে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কাডারদের দিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করার পূর্বেই সাংবাদিক রিপন, তাঁর ভাই রাসেল  ও পিতা আলফাজকে তুলে নিয়ে যায়। কোনভাবে রিপনের পিতা আলফাজ পালিয়ে আসে। কিন্তু রিপন ও রাসেলকে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। তারা দুই ভাইয়ের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় কিলোমিটার দূরে মাঠে নিয়ে চলে যায়। সেখানে মোবাইল ফোনে জামায়াত নেতা ও দূর্ধর্ষ ক্যাডার আবু তালেবের নির্দেশ মোতাবেক শিবির ক্যাডাররা মুখে গামছা বেধে পৈশাচিক কায়দায় রিপন ও রাসেলের দুই পা ভেঙ্গে ফেলার উদ্দ্যেশে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরী নির্যাতন চালাতে থাকে। 

এক পর্যায়ে তাঁদের পা কেটে ফেলে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু কেটে ফেলার মত কোন অস্ত্র না থাকায় লোহার রড দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে। নির্যাতনে রিপনের শরীরের কোমর থেকে নিচের অংশ দুই পা অসাড় হয়ে যায় এবং রাসেলের বাম পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। রিপন এবং রাসেলের চিৎকারে লোক জানাজানি হয়ে যেতে পারে এজন্য দুই ভাইয়ের মূখে কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয় ক্যাডাররা এবং দুই ভাইকে হত্যার চেষ্টার উদ্দ্যেশে নির্যাতন চালাতে থাকে। এই জামায়াত ক্যাডার বিভিন্ন সময়ে দল পরিবর্তন করে সুবিধাভোগি আবু তালেব শিবির ক্যাডারদের দিয়ে রিপন ও রাসেলকে হত্যার চেষ্টা চালায়। 

সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সংস্পর্শে থাকা জামায়াতের এই ক্যাডারের ভয়ে এলাকার কোন মানুষ বিষয়টি জানলেও এই দুই ভাইকে সাহস করে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে যেতে পারেনি। তাৎক্ষনিক শিবগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে এএসআই হাফিজ ও এএসআই শাহ আলমের সহযোগিতায় পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাফটি মেরে ঘটনাস্থলে পাশে থাকা আবু তালেব তাঁর দলবল সহ পালিয়ে যায়। পুলিশ মাঠের মধ্যে থেকে রশি দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দুই ভাই রিপন ও রাসেল কে উদ্ধার এবং অবস্থার বেগতিক দেখে রাতেই চিকিৎসার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সদর আধুনিক হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটপট করছেন নির্যাতনের শিকার রিপন ও রাসেল।

শুধু সাংবাদিক রিপন ও তাঁর ভাই রাসেলকে নির্যাতন করেও ক্ষ্যান্ত হয়নি সাদিকুল, ইব্রাহিম, দবির, তোহরুল, শাহিন, বাবু, উজির, মান্টু ও সিফাত সহ আরো কয়েকজন তালেব বাহিনীর সদস্যরা। রোববার সকালে রিপনের বাবা-মাকে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয় এবং বাড়ির সামনে বার বার মহড়া দিতে থাকে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনী কোন ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে বলে হুমকি-ধামকি প্রর্দশন করে। 

নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক রিপন আলি রকি বলেন, বংশীয় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং সম্প্রতি শ্যামপুর চামাবাজারে অসুস্থ ও মৃত ছাগল পাঁচার হচ্ছে এমন সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠা ইজারাদার আমিনুল ও রায়হানের বন্ধু আবু তালেবকে প্রবাহিত করে এ হামলা চালায় বলে ধারণা করছি। 

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সিহাব নামে এক ছেলে তাঁর ছোট ভাই রাসেলের সাথে চলাফেরার নামে ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু এঘটনাকে পুঁজি করে নানা পরিকল্পনা আঁটে আবু তালেব এবং তাঁর পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমি, আমার ভাই ও আমার পিতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের ক্যাডার বাহিনীর সাদিকুল, ইব্রাহিম, দবির, তোহরুল, শাহিন, বাবু, উজির, মান্টু ও সিফাত সহ আরো কয়েকজন আমাদের দুই ভাইকে লোহার রড় সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটাতে থাকে এবং মুখে বলে এদের মেরে ফেলবো। 

রিপন বলেন, আমাদের মারধরের সময়ে হাত-পা বেঁধে এবং আমরা যেনো চিৎকার না করতে পারি সে জন্য মুখে কাপড় দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এছাড়া আমরা যেনো পুলিশকে সংবাদ না দিতে পারি সে জন্য আমাদের মোবাইল ফোন কেঁড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয় তারা। এখনো আমাদের মোবাইল ফোন বন্ধ অবস্থায় তাদের কাছে আছে। সাংবাদিক রিপন আরো বলেন, আমার সহকর্মী সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় শিবগঞ্জ থানা পুলিশের তাৎক্ষনিক অভিযানে আমাদের উদ্ধার করে। এতে আমরা কোন রকম প্রাণে বেঁচে গেছি।

সাংবাদিক রিপনের পিতা আলফাজ আলী ও মা কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার দুই ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দ্যেশে ষড়যন্ত্রকারি জামায়াত ক্যাডার তালেব ও তার সহযোগিরা তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী মাঠে নিয়ে যায়। অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাৎক্ষনিক শিবগঞ্জ থানা পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করলে তারা প্রাণের বেঁচে যায়। পরবর্তীতে তালেব তাঁর বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ নাশ সহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া অব্যহত রেখেছে।

এব্যাপারে আবু তালেব বলেন, আমরা একই বংশীয় লোক। রিপন ও তার ভাইয়ের উপর নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে, ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ আসার আগে আমি কিছুই জানিনা। রিপন, রাসেলের উপর নির্যাতনকারিদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে আমার চলাফেরা নেই। গ্রামের সিহাব ও রাসেলের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলাম মাত্র। তবে, সমস্যার সমাধান হয়নি। এঘটনার ব্যাপারে আমার আর কিছু জানা নেই।

শিবগঞ্জ থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে শ্যামপুর ইউনিয়নে ছোট হাদিনগর গ্রামের আলফাজ আলী ছেলে সাংবাদিক রিপন আলি রকি ও তাঁর ভাই রাসেলের উপর অমানুষিক নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রিপন ও রাসেলকে উদ্ধার করি। তাঁদের শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের পরিবার থেকে থানায় মামলা প্রক্রিয়া করছে। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক রিপন ও তাঁর ভাইকে অমানুষিক ভাবে নির্যাতনকারিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যেন এমন নির্যাতনের শিকার আর কেউ না হয়।
ই/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71