মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সংক্রামক রোগে মৃত্যু কমেছে
প্রকাশ: ০৩:৩৩ pm ১৩-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:৩৩ pm ১৩-০৬-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : বংলাদেশে সংক্রামক রোগে মৃত্যুহার বেশ কমেছে। গত ১০ বছরে দেশে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু , ফাইলেরিয়া, ডায়রিয়া, যক্ষাসহ বিভিন্ন রোগের আক্রান্তের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে মৃত্যুহারও।

২০৩৫ সালের মধ্যেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগে মৃত্যুহার শতভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকারসম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন ২০১৬’- তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংক্রামক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়াতে। শুধু ২০১৫ সালেই প্রতি মাাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে গড়ে দুই লাখের বেশি মানুষ। বছর শেষে ২০১৫ সালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ২৫ লাখ।

গত ১০ বছরে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেনি। তবে মৃত্যুহার বেশ কমে গেছে। ১৯৯৮ সালে ডায়রিয়াতে মারা যায় অন্তত আড়াই হাজার মানুষ। ২০০৫ পর্যন্ত এই সংখ্যা থাকত হাজারের কোঠায়। তবে ২০০৮ সাল থেকেই এটি কমতে শুরু করে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ডায়রিয়াতে ২৫ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ২৪ জন। অর্থাৎ, ডায়রিয়াতে এখন মৃত্যুহার শতকরা দশমিক ০১ ভাগ।

বাংলাদেশে মশাবাহিত সংক্রামক রোগের মধ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। সারাদেশের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলেই এর প্রকোপ ভয়াবহ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সালে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ২২৮ জন। ২০০৯ সালে থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০১৫ সালে ৩৯ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয় যার মধ্যে বান্দরবানে ১৮ হাজার ২৬২ জন, রাঙ্গামাটিতে ১৩ হাজার ৮৩২ জন এবং খাগড়াছড়িতে তিন হাজার ৮৭৪ জন। আর মারা গেছেন ৯ জন। অর্থাৎ প্রতি হাজারে ম্যালেরিয়াতে মৃত্যু দশমিক ৫৯ ভাগেরও কম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে প্রকোপ দেখা দিয়েছে মশাবাহিত সংক্রামক রোগ চিকুনগুনিয়ার। ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে। তবে সম্প্রতি ঢাকা, রাজশাহী ও পাবনায় আবারো চিকুনগুনিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ রোগে কেউ মারা যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। 

কিছুদিন আগেও যে যক্ষা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য হুমকি সেটি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ২০২৫ সালের মধ্যে যক্ষা রোগীর সংখ্যা ৫০ভাগে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি শতভাগ কমে আসবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

১৯৬০ সালে এই অঞ্চলে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তবে ২০০০ সালে হঠাৎ করেই ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামে অন্তত ছয় হাজার মানুষ আক্রান্তের মধ্যে দিয়ে মশাবাহিত এই সংক্রামক রোগ নতুন করে অস্তিত্ব জানান দেয়।

ওই বছরই শুধু সরকারি হিসেবে অন্তত ৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী মারা যায়। ২০০২ সালে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার রোগী আক্রান্ত এবং ৫৮ জনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্তাবধানে জরুরি চিকিৎসা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণায় ২০০৭ সাল থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে এসেছে। ২০১৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন হাজারের বেশি হলেও মৃত্যুহার শতকরা দশমিক ১৯ ভাগ।

এসব রোগ ছাড়াও ফাইলেরিয়া, জলাতঙ্ক, নিপা ভাইরাস, অ্যানথ্রাক্স, জিকা ভাইরাসের মত সংক্রামক রোগের প্রদুর্ভাব পার্শবর্তী ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশে কম।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71