বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
হালনাগাদ ভোটার তালিকার কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের অর্ন্তভূক্তির আশংকা
প্রকাশ: ০৫:৪৯ pm ২৬-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৪৯ pm ২৬-০৭-২০১৭
 
চঞ্চল, কক্সবাজার প্রতিনিধি :
 
 
 
 


সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজার জেলায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ছবি সহ হালনাগাদ ভোটার তালিকার কার্যক্রম। আর ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কক্সবাজারের সদর, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এবং পাশ্ববর্তী আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাকে ‘বিশেষ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসি।

এসব এলাকায় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে ভোটার তালিকার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এসব এলাকায় ভোটার হতে হলে আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে বাবা-মা, ফুফু, চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। 

জানা যায়, সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা অবস্থানের জন্য নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত কয়েকটি ক্যাম্প এবং বস্তি রয়েছে। উক্ত ক্যাম্প বা বস্তিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সেবা ও নিবিড় পরিচর্যার জন্য দেশি-বিদেশী এনজিও সংস্থা গুলো সরকারের এনজিও ব্যুরোর সাথে চুক্তিবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এতে উক্ত রোহিঙ্গারা দেশী-বিদেশী নানা সাহায্য সহায়তা পাচ্ছেন। এরপরও টেকনাফ উখিয়া ছেড়ে জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এদের অবস্থানের হেতু কি, কারা এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে বা কেন দিচ্ছে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ালে নিশ্চয় এর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।’

তথ্যানুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও চিহ্নিত কিছু এনজিও, প্রভাবশালী রোহিঙ্গা নেতা ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নাম শুনলে প্রশাসনসহ সর্বমহলের গা শিউরে উঠে। এসব কিছু ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গা নাগরিকদের কৌশলে এদেশে নিয়ে এসে তাদের নিজস্ব বাসা বাড়ী ও ভাড়া বাসাতে মাসিক চুক্তিতে রেখে তাদের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে অব্যাহত ইয়াবার চালান এদেশে নিয়ে এসে দুই দিক দিয়ে লাভবান হচ্ছে। 

অপরদিকে নির্বাচনের সময় নিজেদের পাল্টা ভারী করতে এবং জয় নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব রোহিঙ্গারা বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে এদেশে অবস্থান করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা স্ব স্ব এলাকায় বন বিভাগের জমিতেও রোহিঙ্গাদের বাসা বাড়ী নির্মাণ করে দিয়ে সরকারী বনভূমি দখলের সুযোগ করে দিচ্ছে। 

প্রভাবশালী এসব জনপ্রতিনিধি ও ইয়াবা গডফাদারদের ছত্রছায়ায় থেকে রোহিঙ্গারা দেশের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট, বন ভূমি দখল, নানা সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ও দেশীয় শ্রমিকদের বাজার দখলের পাশাপাশি এদেশীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক সৃষ্টি করার মধ্যদিয়ে নানান সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজসে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তির জন্য মোটা অংকের মাধ্যমে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া হালনাগাদ ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তির জন্য ইতিমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা লাখপতি দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে। 

বিভিন্ন এলাকায় নব্য কোটিপতি রোহিঙ্গারা জমি ক্রয় করে দালান বাড়ী নির্মাণ করলেও তাতে প্রশাসনের কোন নজর নেই। তাই উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন ও ভোটার আইডি কার্ডে নিয়োজিত সকল প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রেখে রোহিঙ্গাদের বয়কট করার জন্য এলাকাবাসীর জোর দাবী উঠেছে। 

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, এবারের ভোটার হালনাগদ তালিকায় সকল ধরণের তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক অন্তর্ভূক্ত করা হবে। কোন রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় যাতে অন্তর্ভূক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার প্রবণতা রোধে কক্সবাজারের বিশেষ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এসব এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি করা হয়েছে।

এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71